এই বর্বরতার শেষ কোথায়?

0
25

আবার সেই মহিলা নির্যাতন,আবার সেই মধ্যযুগের অন্ধকারময় সময়ের হাতছানি।দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে এক শিক্ষাকাকে যে ভাবে পায়ে দড়ি বেঁধে রাস্তা দিয়ে হিঁচড়ে নিয়ে চলে একদল ক্ষমতাবান রাজনীতির লোক তাতে যে কোন সংবেদনশীল মানুষের মনেই এই প্রশ্ন আসবে যে, এই নষ্ট-ইতর রাজনীতি সভ্যতার বুকে আর কত কালিমার চিহ্ন এঁকে দেবে?নিজের জমির উপর দিয়ে পুরসভায় রাস্তা যাওয়া নিয়ে আপত্তি করেছিলেন পেশায় স্কুল শিক্ষিকা স্মৃতিকণা দাস।তাঁর এই আপত্তির কারণে স্থানীয় পুরসভার উপপ্রধান ও তাঁর দলবল স্মৃতিকণাদেবী ও তাঁর দিদিকে প্রথমে মারধর শুরু করে তারপর স্মৃতিকণা দেবী ও তাঁর দিদি মাটিতে বসে পড়ে রাস্তা তৈরির কাজে বাঁধা দিলে তাদের পায়ে দড়ি বেঁধে হিচঁড়ে রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।সঙ্গে চলতে থাকে নির্মম প্রহার।স্মৃতিকণাদেবী ও তাঁর দিদির বিরুদ্ধে শাসক দলের অভিযোগ উন্নয়নে বাঁধা দিতে চেয়েছিলেন তারা।অকাট্য যুক্তিই বটে,কারোর ব্যক্তিগত জমির উপর দিয়ে রাস্তা তৈরি হলে সে আপত্তি করতে পারবেন না,তাঁর সেই আপত্তির যৌক্তিকতা বিচারের দায়িত্ব আইন বা আদালতের হাতেও দেওয়া হবে না।ক্ষমতাবান রাজনীতির দাদাদের কথাই এ রাজ্যে আইন,তারাই বিচারক।আমাদের অনেকেরই নিশ্চয়ই এখনও মনে আছে সেই গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় এ রাজ্যে বিরোধী দলের অনেকেই মনোনয়োন জমা দিতে পারেন নি।সে সময় ‘বিচারক’ অনুব্রত মন্ডল রায় দিয়েছিলেন বিরোধী প্রার্থীরা যেন মনোনয়োন জমা দিতে না যান কারণ রাস্তায় উন্নয়ন দাঁড়িয়ে আছে দেখে তাদের ফিরে আসতে হবে।ফিরে এসেছিলেনও বিরোধী প্রার্থীরা। উন্নয়ন  তাদের কাউকে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়েছিল,উন্নয়ন আরামবাগে এক বাম মহিলা প্রর্থীর চুলের মুঠি ধরে প্রকাশ্য রাস্তায় হিচঁড়াতে হিচঁড়াতে টেনে নিয়ে গেছিল।তাই স্কুল শিক্ষাকা স্মৃতীকণা দাসের এই লাঞ্ছিত হওয়াটা নতুন কোন ঘটনা নয় এ রাজ্যে,নারী নির্যাতন ও ক্ষমতা প্রদর্শনের ধারাবাহিকতার আর একটা সংযোজন মাত্র।

মহিলাদের লাঞ্ছনা করা,অপমান করা,শারীরিক নির্যাতন করা এমনকী ধর্ষণ করাও আমাদের সমাজ মানসিকতার মজ্জায় মজ্জায়।ক্ষমতামুখি নষ্ট রাজনীতি সেই মানসিকতাকে লালন করে,তাকে ব্যবহার করে।বার বার এই সত্য প্রমাণিত।তাই এই সব ঘটনাকে নিয়ে শুরু হয়ে যায় রাজনৈতিক চাপানউতোর।সব রাজনৈতিক মত পার্থক্য সরিয়ে কোন ক্ষমতা লিপ্সু দলই বলতে পারে না এই জঘন্য ঘটনার অবসান চাই।সবাই এই ঘটনা থেকে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।একদিকে যেমন ক্ষমতালোলুপ সব রাজনৈতিক দল অন্য দিকে তেমনি ক্ষমতাবান রাজনীতিকদের সঙ্গে সখ্য তৈরি করে ধান্দা গুছিয়ে নিতে ব্যস্ত থাকা তথাকথিত বিশিষ্টজনরা যারা হিসেব কষে বুঝে নেন(মুষ্টিমেয় ব্যতিক্রম ছাড়া)কোন অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হবেন আর কোন অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব থাকবেন।এ রাজ্যের শাসক দলের ক্ষমতার রাশ এখনও ততটা আলগা হয় নি তাই তারা রাজ্য সরকারের পক্ষে আছেন।কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে নানা বিষয়ে তাঁরা সরব হচ্ছেন বলে কেন্দ্রীয় শাসক দলের এ রাজ্যের নেতারা বুদ্ধিজীবীদের বিরুদ্ধে নানা কটু কথা বলে চলেছেন তবে তারা নিশ্চিত থাকতে পারেন এ রাজ্যে তাঁদের ক্ষমতায় আসার চিহ্ন স্পষ্ট হলে এই হাওয়ামোরগ বিশিষ্ট সম্প্রদায় আবারও রঙ বদল করবেন।মোদ্দা কথাটা হোল গঙ্গারামপুরে যে অসভ্যতা হয়েছে তার রাশ টানতে হলে নাগরিক সমাজকেই এগিয়ে আসতে হবে।শুধু মোমবাতি মিছিলের দায় পালন করলে হবে না,নিজেদের সমাজ সংস্কৃতির সুস্থতা ফিরিয়ে আনতে হাতে হাত রেখে মানব প্রাচীর গড়তে হবে নষ্ট রাজনীতির বিরুদ্ধে।বোধ চেতনায় শান না দিলে এই ভয়াবহ সময়ের মোকাবিলা করা এক কথায় অসম্ভব