এক্সপায়ারি ডেট পেরিয়ে গেলেই ওষুধ নষ্ট হয় না- জানাচ্ছেন চিকিত্সকেরাই

0
70
"Colorful Assortment Of Pills, Tables and Capsules."

সাতদিন ডেস্কঃ রোগ হলেই প্রথমে চিকিত্সকের কাছে যাওয়ার অাগেই মধ্যবিত্ত ভয় শুরু হয় ডাক্তারবাবু  ‌কত ওষুধ লিখবনে তিনি অার তার জেরে কতটাকা পকেট থেকে খরচ হবে। সাহস করে  প্রেসক্রিপশন হাতে ওষুধের দোকানে গিয়ে ওষুধ কেনার সময় অামরা  যে জিনিসটা লক্ষ করে তা হল দামের পাশাপাশি নির্দিষ্ট ওষুধটির এক্সপায়ারি ডেট বা মেয়াদের সময়। অামাদের অনেকেরই ধারনা এক্সপেয়ারি ডেট পেরিয়ে  গেলে বোধহয় ওষুধ নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু এই ধারনা সঠিক নয় বলছেন চিকিত্সক সৌম্যকান্তি পান্ডা। ডক্টরস ডায়ালগ নামের শুরু হওয়া জনস্বাস্থের একটি ওয়েব পোর্টেল ডাঃ পান্ডা জানিয়েছেন মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ মানেই নষ্ট নয়। এক্সপায়েরি ডেটের ১-২ বছর পরও ওষুধগুলির কার্যক্ষমতা  ৭০ -৮০ শতাংশ মত থাকে বলে জানিয়েছেন তিনি । এক্সপায়ারি ডেট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই  ওষুধ নষ্ট হয় না। ওষুধের কার্যক্ষমতা খুব ধীরে ধীরে কমে। কিছু ওষুধতো মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক বছর পরও কাজ করে বলে মনে করেন ডাঃ পান্ডা।

চিকিত্সক সৌম্যকান্তি পান্ডা জানিয়েছেন কতগুলি ওষুধ যেমন তরল অ্যান্টিবায়োটিক ইনসুলিনের মত কিছু ওষুধ এক্সপায়ারি ডেটের পরও দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।এগুলি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত। ডাক্তারবাবু জানিয়েছেন মেয়াদ পেরিয়ে গেলে টেট্রাসাইক্লিন খাওয়া উচিত নয়, তা খেলে কিডনির ক্ষতি হতে  পারে। সাধারণভাবে এক্সপায়ারি ডেট পেরিয়ে গেলে ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। তবে উপায় না থাকলে, হাতের কাছে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ থাকলে তা খেলে ক্ষতি নেই।

ওষুধ নিয়ে নানা ভ্রান্ত ধারনা অামাদের মধ্যে রয়েছে।কিছুটা সচেতনার অভাব কিছুটা কোম্পানিগুলির মুনাফার জন্য তৈরি করা এক চক্রের কারণে। তাতে সামিল ডাক্তারবাবুদের একটা অংশও। তাই দুটি ভিন্ন কোম্পানির একই ওষুধের মধ্যে দামের ফারাক থাকলেও ব্রান্ডের জোরে  বড় সংস্থার ওষুধটিকেই চিকিত্সকেরা বেশি লিখে থাকেন। রোগীর মধ্যেই ধারনা তৈরি হয়ে যায় বড় কোম্পানির ওষুধটি বেশি ভাল।অথচ এর কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই বলেই চিকিত্সকদের একটা অংশের মত। সেরকমই এক্সপায়ারি ডেটের পর ওষুধ চট করে বাতিল করার যে প্রবনতা অামাদের রয়েছে তাও ভ্রান্ত। বরং কিছুদিন সেই ওষুধ যে  রেখে দেওয়াই যায় ।