পার্ক সার্কাস ময়দানে আন্দোলনরত অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন সামিদা খাতুন

0
27

সাতদিন ডেস্কঃ-কথা দিয়েছিলেন তিনি সিএএ,এনপিআরের বিরুদ্ধে লড়বেন আমৃত্যু।কথা রেখেছেন তিনি,এ রাজ্যের শাহিনবাগ পার্ক সার্কাসের অবস্থান বিক্ষোভে প্রতিদিন নিয়ম করে হাজির থেকে শেষ পর্যন্ত অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর সঙ্গেই সখ্য গড়লেন সামিদা খাতুন।সহযোগীদের জন্য রেখে গেলেন আমৃত্যু লড়াইয়ের প্রেরণা।সামিদা পার্ক সার্কাস এলাকারই এক মাঝবয়সী মহিলা,গোটা জানুয়ারি মাস জুড়ে প্রবল শীতের ভ্রকুটিকে অগ্রাহ্য করে আর অনেকের সঙ্গে তিনিও ময়দানে এনআরসি,সিএএ,এনপিআর বিরোধী অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন।রাত জেগেছেন দিনের পর দিন।শনিবার রাতে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন,বুকে ব্যথা শুরু হয়।সহযোগীরা দ্রুত নিয়ে যান পার্কসার্কাস ময়দান এলাকার অদূরেই ইসলামিয়া হাসপাতালে।সেখানকার চিকিত্সকরা কিছু সময়ের মধ্যেই জানিয়ে দেন সামিদা মারা গেছেন।চিকিত্সকদের মতে হৃদযন্ত্র বিকল হওয়াতেই মারা গেছেন ঐ মহিলা।সহযোগীদের মতে প্রবল ঠান্ডায় কদিন ধরেই অসুস্থ বোধ করছিলেন সামিদা,তাঁকে বাড়ি চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও লড়াই ছেড়ে মাঝপথে সরে যেতে রাজি হন নি তিনি।সহযোগীদের অনেকেই এখন মনে করছেন সামিদার লড়াইয়ের জেদের জন্য এত বড় মূল্য তাকে দিতে হবে বুঝতে পারেন নি তারাও।সামিদার লড়াইকে মনে রেখে আর দৃঢ়তার সঙ্গে তারা লড়বেন দাবি করছেন পার্ক সার্কাসের সকল প্রতিবাদী।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিন কয়েক আগে শাহিনবাগের প্রতিবাদীদের কটাক্ষ করে বলেছিলেন,এত ঠান্ডায় ওরা ওখানে কীভাবে আছেন,কেন মরছে না তা তিনি বুঝতে পারছেন না।প্রতিবাদী মানুষজন কোন অমৃত পান করছেন তা নিয়েও ব্যঙ্গ করেন দিলীপবাবু।পার্ক সার্কাসের সামিদা খাতুনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর পরও অবশ্য সেখানকার প্রতিবাদী মানুষজন এ নিয়ে পান্টা কোন কটাক্ষ করেন নি দিলীপবাবুর প্রতি। শুধু তারা চাইছেন সামিদার মৃত্যুকে সম্মান জানাতে তাঁর ছেড়ে যাওয়া লড়াইয়ের দায়িত্ব আর বেশী করে কাঁধে তুলে নিতে। অনেকদিন না ঘুনিয়ে রাত জাগার পর চিরঘুমে শায়িত সামিদার কবরে রবিবার মাটি দিতে দিতে তার সহযোদ্ধাদের কেউ কেউ নিশ্চয়ই তাঁকে আশ্বস্ত করে বলে উঠবেন–আপনি ঘুমোন সামিদা,আমরা জেগে থাকবো,জাগিয়ে রাখবো পার্কসার্কাস ময়দানের লড়াইকে।