ঘেউ ঘেউ এর পর ঘ্যাঁচ ঘ্যাঁচ করবেন না, ডিএ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া কর্মী মহলে

0
5168

সাতদিন ডেস্কঃ  -এক অনুষ্ঠানে বকেয়া ডিএ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন ঘেউ ঘেউ করে লাভ হবে না  আবারো সেই   তিনিই সোমবার সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করে বলেছেন,যা  দেওয়ার সবই দেওয়া হয়ে গেছে সুতরাং ওসব নিয়ে আর যেন ঘ্যচ ঘ্যাচ না করা হয় বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে সমস্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারি সংগঠেনের  মধ্যে। সকলেই মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে চূড়ান্ত অসাংবিধানিক ও আইন বিরুদ্ধ বলে কটাক্ষ করতে শুরু করেছেন। কোন কোন কর্মী সংগঠন নেতারা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যদি এ রাজ্যের সরকারি কর্মীদের ৪৮ মাসের বকেয়া ডিএ না দেওয়ার ভাবনা ভেবে থাকেন তবে তারা প্রশাসনকে অচল করে দেওয়ার মত আন্দোলনের পথে পথে হাঁটাতে বাধ্য হবেন।গতকালের পর থেকেই সরকারি কর্মীরা একেবারে ক্ষোভে ফুঁসতে শুরু করেছেন।তাদের মধ্যে অনেকে এটা ভেবে আশ্চর্য হচ্ছেন যে বিষয়টা নিয়ে আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশ আছে সেই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী এরকম মন্তব্য করেন কী ভাবে!!প্রসঙ্গত রাজ্য সরকার একটা সময় জানিয়ে দিতে চেয়েছিল যে ডিএ সরকারের ইচ্ছাধীন,সরকার না চাইলে ডিএ নাও দিতে পারে।সরকারের এই মনোভঙ্গির তীব্র বিরোধিতা করে কর্মী সংগঠনের পক্ষ থেকে আদালতে যাওয়া হয়েছিল আদালত পরিষ্কার করে দেয় ডিএ কোনভাবেই সরকারের দয়ার দান নয়।বরং ডিএ সরকারি কর্মীদের ন্যায্য অধিকার সেটা দিতে সরকার বাধ্য।একই সঙ্গে রাজ্য এ্যডমিনিস্ট্রেশন ট্রাইব্যুনাল বা স্যাটও বলে দেয় সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ নতুন বেতনক্রম চালু হওয়ার আগেই মিটিয়ে দিতে হবে।রাজ্য সরকার সেই আদেশ অমান্য করেছে বলে কর্মীদের অভিযোগ।এরই মধ্যে কর্মীদের একটা বড় অংশ প্রত্যাশা করেছিলেন বাজেট পেশের সময় হয়তো সরকার এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোন সিদ্ধান্ত ঘোষণা  করতে পারে।কিন্তু সেই ঘোষণা তো নেই উল্টে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে সব দেওয়া হয়ে গেছে বলে দাবি করছে তাতে কর্মীদের মধ্যে এই ধারনা বদ্ধমূল হয়েছে যে সরকার তাদের বকেয়া না দেওয়ার ও এতদিনের পরিচিত বেতনকাঠামোকে অস্বীকার করার রাস্তাতেই হাঁটতে চাইছে।এটাকে চূড়ান্ত স্বৈরাচারি ও সংবিধান বিরোধী বলে দাবি করে মঙ্গলবার থেকেই রাজ্য সরকারি কর্মচারি সংগঠনগুলি তাদের পরবর্তী লড়াইয়ের কর্মসূচী নির্ধারনের প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে।

   এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কর্মচারি সংগঠন নবপর্যায়ের পক্ষ থেকে তাদের সংগঠনের নেতা অর্জুন সেনগুপ্ত জানান,”মুখ্যমন্ত্রী যে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তা এ দেশের আইন ও সংবিধানের সঙ্গে একেবারেই মেলে না।তবে ওনার এরকম কথা শুনতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি।যে কোন ন্যায্য শ্রমের মূল্য চাইতে গেলেই উনি এধরনের মন্তব্য করেন। সংবিধান যে অধিকার কর্মী ও শ্রমিকদের দিয়েছে সেটা সংবিধান রক্ষা করার শপথ নেওয়া মন্ত্রীরাই যদি অমান্য করেন তবে বুঝতে হবে দণতন্ত্রের বিপদ অনেক গভীর।”তবে এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বার্তা দিয়ে অর্জুুনবাবু জানিয়ে দেন এ রাজ্যই একমাত্র রাজ্য যেখানে সদ্য পাওয়া মাইনের পে স্লিপে ডিএর কোন উল্লেখ নেই।এমন অদ্ভূদ ব্যাপার আগে কখনও হয় নি।অর্জুন সেনগুপ্ত বলেন এর আগের সরকারও তাদের ডিএ থেকে বঞ্চনা করেছিল কিন্তু তবু তাদের বঞ্চনার একটা ডিজাইন ছিল তা ধরা যেত এই সরকার যা খুশি তাই করছে কোন নিয়ম নীতিকে তোয়াক্কা করছে না।আইন আদালত কোন কিছুই তারা মানছে না বলে অভিযোগ নবপর্যায়ের এই নেতার।যেভাবে চার ছর ধরে বেতন কমিশন তৈরি হওয়ার পরও তা জনসমক্ষে না এনে চেপে রাখা হয়েছে তা নিযেও উষ্মা প্রকাশ করেন তিনি।সরকারি কর্মীদের এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে গত ছ তারিখে নবপর্যায়ের পক্ষ থেকে রাজ্যের সর্বত্র বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে,মুখ্যমন্ত্রীর সোমবারের প্রতিক্রিয়ার পর তা আর প্রসারিত হবারই ইঙ্গিত মিলছে নবপর্যায়ের পক্ষ থেকে।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন কর্মী সংগঠন কনফেডারেশন নেতা মলয় মুখোপাখ্যায়ও।তাঁর মতে স্যাটের নির্দেশ না মেনে সরকার ইতিম্যেই আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত তারা বার বার আদালতে হেরে যাচ্ছে তারপরও মুখ্যমন্ত্রীর এ হেন মন্তব্য দুর্ভাগ্যজনক।মলয়বাবু বলেন সরকার আদালতের নির্দেশ না মানলে একটা পর্য়ায়ে আমাদের সমস্ত কর্মী সংগঠনগুলো কে নিয়ে প্রশাসনকে স্তব্ধ করে দেওয়ার মত চূড়ান্ত পথে যেতেই হবে।সরকার কর্মীদের ন্যায্য পাওনা এভাবে নাকচ করে দিতে পারে না।একই কথা বললেন কো অর্ডিনেশন নেতা বিজয় সিনহাও।তাঁর মতে মুখ্যমন্ত্রী কোন আইন-আদালত রীতি নীতি না মেনে তাঁর নিজের ইচ্ছে মত যা খুশি চাপিয়ে দিচ্ছেন এরকম চললে সম্মিলিত প্রতিরোধ পাওনা আদায়ের এক মাত্র পথ হয়ে উঠতে বাধ্য।মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যা দেওয়ার দেওয়া হয়ে গেছে তা নিয়ে স্পষ্ট ব্যাথ্যা দাবি করছেন কনফেডারেশন নেতা ও স্যাটে মামলাকারী মলয় মুখোপাখ্যায়।তিনি জানতে চান পে কমিশনে নতুন বেতনক্রমের সঙ্গে কোন ডিএ যুক্ত হয় নি,এটা যুক্তি দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া যায়,মুখ্যমন্ত্রী দেখিয়ে দিন কী ভাবে বকেয়া ডিএ নতুন বেতনক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তা না হলে যে তারা আইনি লড়াই  আন্দোলন দুটোই চালিয়ে যাবেন সেটা পরিষ্কার করে দেন মনয় মুখোপাখ্যায়।একই রকম তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাজ্য সরকারি কর্মচারি পরিষদও। এই সংগঠনের পক্ষে দেবাশিস শীল জানান এ রাজ্যের সরকার যে বঞ্চনা রাজ্য সরকারি কর্মীদের সঙ্গে করেছে সারা ভারতে তার কোন নজির নেই।দেবাশিসবাবুর মতে নতুন বেতনক্রমে কর্মীদের ১৭ শতাংশ বকেয়া ডিএ থাকছে এর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার আরকিছুদিনের মধ্যেই আর ৫ কিস্তি মহার্ঘ ভাতার ঘোষণা করতে যাচ্ছে তাই তাদের বকেয়া ২২ শতাংশ হয়ে যাবেএই বকেয়া না মিটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যে ভঙ্গি তে কথা বলছেন তাতে এর জন্য তার সরকারকে চরম মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে দেবাশিস শীল বলেন বাম সরকার নন্দিগ্রাম-সিঙ্গুরকে রাজ্যের বিচ্ছিন্ন ঘটনা ভেবে যে ভুল করেছিল,মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সরকারি কর্মীদের বঞ্চনার বিরুদ্ধে আন্দোলনকে একই রকমভাবে বিচ্ছিন্ন ঘনটা ভেবেছেন,এই আন্দোলন তার সরকারের অস্তিত্বের সংকট ডেকে আনবে বলে মত সরকারি কর্মচারী পরিষদের নেতা দেবাশিস শীলের।  সব মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ডিএ মন্তব্য ঘিরে আবারও তীব্র হয়ে উঠেছে সরকারি কর্মীদের বিক্ষোভ।এসবের মাঝে শুধু নীরবতা পালননের সিদ্ধান্তই নিয়েছে তৃণমূল কর্মী সমগঠনের নেতারা এদিন তাদের কয়েকজন নেতাকে প্রতিক্রিয়া দেওয়ার অনুরোধ করলে তারা শুধু বলেন মুখ্যমন্ত্রী উপর তাদের ভরসা আছে তিনি কর্মীদের প্রতি সুবিচার করবেন বলে তাদের বিশ্বাস। তবে নাম প্রকাশে তাদের আপত্তি থাকায়  তাদের নাম প্রকাশ করলাম না আমরা। মুখ্যমন্ত্রীর উপর ভরসা আছে বলেও কেন নাম প্রকাশ করতে আপত্তি তা অবশ্য বোঝা গেল না।