দিল্লি দাঙ্গা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যকে মমতা ও অমিত শাহের বোঝাপড়ার বার্তা বলে কটাক্ষ সিপিএমের

0
61

  সাতদিন ডেস্কঃ-গত তিন-চারদিন ধরে ওড়িশা থেকে অবশেষে শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক সেরে বেরিয়ে এসেও দিল্লির দাঙ্গা নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে কোন কড়া কথা বলতে পারেন নি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।এদিন বৈঠক সেরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে দিল্লি নিয়ে তাঁর উদ্বিগ্ন হওয়ার বার্তা ছাড়া আর কোন কথা বলেন নি মমতা।দিল্লির ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ব্যর্থতা,বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিপদ নিয়ে কার্যত নীরবতাই পালন করলেন এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। আর মুখ্যমন্ত্রীর এই নীরবতা নিয়ে  তীব্র কটাক্ষ করল সিপিএম।এদিন সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম বলেন,”দিল্লিতে যা ঘটে চলেছে ও গোটা দেশে যে সাম্প্রদায়িকতার আবহ তৈরির চেষ্টা চলছে তাতে এই সময় যে কোন সচেতন মানুষের উচিত অবস্থান পরিষ্কার করা,এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করতে ভয় পাচ্ছেন।তিনি সারদা নারদা থেকে বাঁচতে অমিত শাহকে বার্তা দিচ্ছেন।সেই জন্যই দিল্লিতে এমন ভয়াবহ ঘটনার পর তিনি সোচ্চারে এই ঘটনা প্রতিরোধে স্বরাষ্ট্র মনন্ত্রকের ব্যর্থতার দিকে আঙুল তুলছেন না।”যে মুখ্যমন্ত্রী নানা ঠুনকো অজুহাতে কেন্দ্রীয় সরকারের নানা অনুষ্ঠান বয়কট করতে অভ্যস্ত সেই তিনি কোন কারণে দেশের এরকম একটা কঠিন সময়ে গত চারদিন ধরে অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে উড়িষ্যায় গিয়ে বসে রইলেন,সে প্রশ্ন তুলে সিপিএমের এই নেতা অভিযোগ করেন আসলে অমিত শাহের সঙ্গ পাঙ্গদের সঙ্গে গোপন বোঝাপড়া করে ফেলাটাই মমতার মুখ্য উদ্দশ্য ছিল।অমিত শাহকে নানা ভাবেই সমঝোতার বার্তা দিয়ে এলেন মুখ্যমন্ত্রী।যারা এখমও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ের প্রধান  হাতিয়ার ভাবেন তাদের ভুল শুধরে নেওয়ার আবেদন করে মহম্মদ সেলিম বলেন,মুখোশধারিদের দিয়ে আদর্শের লড়াই হয় না,এটা বুঝতে না বাড়লে বিপদ বাড়বে।তৃণমূলের সাধারণ সমর্থকদেরও  মমতার আচরণ মুল্যায়ন করে সঠিক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান সিপিএমের এই প্রাক্তন সাংসদ।
  মমতার অবস্থান নিয়ে কটাক্ষ করেন সিপিএম নেতা ও কলকাতার প্রাক্তন মেয়র বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য়ও।তিনি বলেন তিনি বরাবর বলে এসেছেন মমতা হলেন বিজেপির সহযোগি আরএসএসের পরিপুরক।তিনি সব সময় বিজেপির ঢঙেই কাজ করতে অভ্যস্ত।আজ গোটা দেশে যখন সবাই বুঝতে পারছেন যে দিল্লিতে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার ইন্ধন জোগাচ্ছে বিজেপিই তখন মমতা যে ভাবে শুধু উদ্বেগ আর পুজো দিয়ে শান্তি ফেরাবার কথা বলছেন তাতে পরিষ্কার উনি যে নানা দুর্নীতিতে ফেঁসে আছেন তা থেকে পরিত্রাণ পেতে বিজেপির সঙ্গে আপসের রাস্তাতেই হাঁটবেন।সারদা নারদা নিয়ে তদন্ত চলছে,যত ধির গতিতেই হোক না কেন সেই তদন্তে নিজে ও তাঁর ভাইপোকে বাঁচাতে বিজেপি ও অমিত শাহই তাঁর প্রধান ভরসা।বিকাশবাবুর পরিষ্কার কথা মমতা সিএএ ও এনআরসি বিরোধিতার নামে সেই আন্দোলনকে ভেতর থেকে দূর্বল করে দিতে চায়, এটা না বুঝতে পারলে সিএএ ও এনআরসির প্রকৃত বিরোধী যারা তাদের লড়াই কঠিন হয়ে পড়বে।সব মিলিয়ে দিল্লির ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই কট্ট্রর বিজেপি বিরোধিতা না দেখতে পাওয়া নিয়ে সিপিএম কড়া প্রতিক্রিয়াই জানাল।