দিল্লি ভোটে অাপের জয় ও মোদি শাহের পরাজয় কি গণতন্ত্রের পরিসরকে বৃদ্ধি করবে?

0
27

সাতদিন ডেস্কঃ  দিল্লি বিধানসভার ভোট প্রচারে কেন্দ্রীয়মন্ত্রী বিশ্বাসঘাতকদের গুলি করে মারার জন্য সমর্থকদের বলেছিলেন। তার পর জামিয়া সহ একাধিক জায়গায় গুলিও  চলেছিল। কেউ মারা যাননি। বলা হচ্ছিল ভোট শান্তিপূর্ণভাবেই হয়েছে দিল্লিতে। । ফল প্রকাশ হতেই অাপের নির্বাচিত বিধায়ককে লক্ষ্য করে গুলি। অল্পের জন্য বিধায়ক নরেশ যাদব বেঁচে গেলেও নিহত হলেন অাপ কর্মী  অশোক মান।

ভোটের অাগে অমিত শাহ  ভোটারদের এভিএম এ বিজেপির বোতাম এত জোরে চাপতে বলেছিলেন যাতে করে শাহিনবাগে অবস্থানে বসা মহিলাদের শক লাগে তারা উঠে যান। তবে ভোটের দিন কোন অশান্তি হয়নি। শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট হয়েছে।দিল্লি বিধানসভার ভোটের প্রচারে বিদ্বেষের বন্যা বয়ে গেছিল। তাতে কী। ভোটের দিন ভোটতো শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছি। কেউ মারা যাননি তো! দিল্লির ভোট প্রচারে বিজেপির ছোট বড় সব নেতারা যা প্রচার করেছেন  তা এককথায় হিংসা। বিশুদ্ধ হিংসা। তার পরও ভোটের দিন রক্ত না ঝড়লেও ভোটের পর জামিয়ার পড়ুয়াদের উপর সোমবার পুলিস  বর্বর হামলা চালিয়েছে। ফলপ্রকাশের পর গুলিতে মৃত্যু হল এক অাপ কর্মীর। এর নাম গণতন্ত্র!

দিল্লি বিধানসভা ভোটে বিজেপির পরাজয়কে কি বিজেপির নীতির পরাজয় হল বলে মনে করা ঠিক হবে। বোধ হয় না। কারণ কেজরিওয়াল বিজেপির উগ্রহিন্দুত্ববাদী প্রচারের তেমন বিরোধিতাতো করেননি। ৩৭০ ধারা বাতিল, সিএএ জম্মু কাশ্মীর নিয়ে নীরব থেকেছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। যে কেজরিওয়াল এক সময় মোদিকে গালাগাল না দিয়ে দিন শেষ করতেন না তিনিই গত ১ বছর  প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি।  বরং  দেখা করে কী যেন সব বলে এসেছেন।

 লোকসভা ভোটে মোদি নিজেকে প্রজেক্ট করে যেভাবে ভোট চেয়েছিলেন ঠিক সেইভাবেই ভোট চেয়েছেন কেজরিওয়ালও। সিএএ বিরোধিতায় কেন্দ্রের সঙ্গে কোন সংঘাত তৈরি তো দূরের কথা শাহিনবাগের অান্দেলনের সমর্থনে একটি কথাও খরচ করেননি কেজরিওয়াল। অার পাঁচটা অাঞ্চলিকদলগুলির নেতাদের মত ক্ষমতায় টিকে থাকতে নানারকম ছলা কলার অাশ্রয় নিয়েছেন কেজরিওয়াল। মুখে দুর্নীতির বিরোধিতার কথা বলে ক্ষমতায় এলেও যাদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন তাদের অাইনি পদক্ষেপের সামনে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন কেজরিওয়াল। কংগ্রেস বিজেপি থেকে নানা নেতাকে দলে অামদানি করেছেন কেজরিওয়াল। দিল্লি বিধানসভা ভোটে অাম অাদমি পার্টির এক প্রার্থীর নীট সম্পত্তির পরিমাণ ২৯২ কোটি টাকা তাই দিল্লি ভোটে অাপ জিতেছে তা নিছকই অঙ্কে। নীতির লড়াই এ নয়। গণতন্ত্রে বিরুদ্ধ স্বরের পাশে দাঁড়ায়নি অাপ। যাকে যা বলে ভোট জেতা যায় তাই করেছে তারা। এমনটাও শোনা গেছে অাপ কর্মীরা ভোটারদের বলছেন দিল্লিতে মোদি রয়েছেন রাজ্যে কেজরিওয়াল থাকলেই ভাল কাজ হবে। দিল্লিতে   বিজেপি পরাজিত, অারো সঠিকভাবে বলা হলে অমিত মোদি জোট ধরশায়ী, তবে অাপের এই জয়ী গণতন্ত্র কি শক্তিশালী হল। বিভেদের রাজনীতিকে কি অাপ মোকাবিলা করল নাকি যেন কোন কৌশলে ভোট জিতল তারা। ভুলে গেলে চলবে না ২০১৫ এর তুলনায় দিল্লিতে বিজেপির ভোট বেড়েছে ৬ শতাংশেরও বেশি।