মহারাষ্ট্রে শরীরে পেট্রল ঢেলে জ্বালিয়ে দেওয়া কলেজ শিক্ষিকার মৃত্যু

0
72

সাতদিন ডেস্কঃ এদেশে কোথাও মহিলারা নিরাপদ নন। গত সপ্তাহে  মহারাষ্ট্রের ওয়ার্ধায় যে কলেজ শিক্ষিকার শরীরে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা হয়েছিল তাঁর মৃত্যু হল সোমবার। ভিকি নাগরালে নামের এক ব্যক্তি গত ২ বছর ধরে ওই মহিলার পিছু  করত। গত সোমবার নিজের মোটর সাইকেলের পেট্রল ওই কলেজ শিক্ষিকার গায়ে ঢেলে অাগুন লাগিয়ে দেয় ভিকি। পুড়ে যায় মহিলার শরীর। হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। ৭দিনের মাথায় মৃত্যু হল তাঁর। ভিকিকে অাগেই গ্রেফতার করেছে। বিবাহিত ভিকি গত ২ বছর ধরে ওই মহিলার পিছু নিলেও কেন পুলিস কোন ব্যবস্থা নেয়নি তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

ওয়ার্ধর ঘটনা মহিলাদের উপর কোন বিচ্ছিন্ন হামলার ঘটনা নয়। যেহেতু কলেজ শিক্ষিকা, সামজে প্রতিষ্ঠিত তাই চর্চা হচ্ছে বেশি। যদি প্রান্তিক মহিলার উপর এই অত্যাচার হত তাহলে জাতীয় মিডিয়ার শিরোনাম হত না ঘটনা।  এদেশের নেতা মন্ত্রীরা ধর্ষণ করে ঘুরে বেরায়। সংসদে প্রায় সব দলেই রয়েছে এই সব রত্ন। মহিলাদের বিয়ের টোপ দিয়ে সহবাস বা ধর্ষণ করে পার পেয়ে যায় প্রভাবশালীরা। ফাঁসির সিদ্ধান্ত হয় গরীব ধর্ষকদের। কখনও কখনও অভিযুক্ত গরীব মানুষটি সত্যি ধর্ষণ করেছিল কিনা তা প্রমাণের অাগেই ভুয়ো সংঘর্ষে হত্যা করা হয় ।

অাসলে সমাজে মহিলাদের ভোগের বস্তু হিসেবে দেখার মানসিকতা পরিবর্তন হয়নি এতটুকু। নারী পুরুষদের স্বাভাবিক মেলামেশা তো দূরের কথা মহিলাদের কে দেখার চোখ এখনও একামাত্রিক। পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার শিকার অনেক ক্ষেত্রে মহিলারা নিজেও। নিজেকে পুরুষের কাছে অাকর্ষণীয় করে তুলতে অনেক সময় নিজেকে তুলে ধরার পরবির্তে খুলে ধরাটাকেই পথ বলে মনে করেন তারা। সমাজে মহিলারা অার্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি জরুরি, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার অামুল পরিবর্তনের জন্য লড়াই। সেটা না থাকলে  দিনের অালো থাকতে থাকতেই বাড়ি ফিরে এসো , এই  সব বলে মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা যাবে না।