হিংসার অাবহে দিল্লির শান্তিপূর্ণ ভোটে গণতন্ত্র কি জিতলো?

0
59

সাতদিন ডেস্কঃ দিল্লিতে শান্তিপূর্ণভাবে বিধানসভার ভোট শেষ হল।নির্বাচনী প্রচারে কেন্দ্রীয়মন্ত্রী বিশ্বাসঘাতকদের গুলি করে মারার জন্য সমর্থকদের বলেছিলেন। তার পর জামিয়া সহ একাধিক জায়গায় গুলিও  চলেছিল। কেউ মারা যাননি। তবে ভোট শান্তিপূর্ণভাবেই হয়েছে দিল্লিতে। ভোটের অাগে অমিত শাহ  ভোটারদের এভিএম এ বিজেপির বোতাম এত জোরে চাপতে বলেছিলেন যাতে করে শাহিনবাগে অবস্থানে বসা মহিলাদের শক লাগে তারা উঠে যান। তবে ভোটের দিন কোন অশান্তি হয়নি। শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট হয়েছে।দিল্লি বিধানসভার ভোটের প্রচারে বিদ্বেষের বন্যা বয়ে গেছিল। তাতে কী। ভোটের দিন ভোটতো শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছি। কেউ মারা যাননি তো! দিল্লির ভোট প্রচারে বিজেপির ছোট বড় সব নেতারা যা প্রচার করেছেন  তা এককথায় হিংসা। বিশুদ্ধ হিংসা। তার পরও ভোটের দিন রক্ত ঝড়ে নি বলে অামরা যদি একে শান্তিপূর্ণ ভোট বলি তা বলতেই পারি। তবে তা সত্যি নয়। এহেন শান্তিপূর্ণ ভোটে এক্সিটপোলের এবারও ক্ষমতায় ফিরছেন কেজরিওয়াল।

দিল্লি বিধানসভা ভোটে বিজেপির পরাজয় যদি নিশ্চিত ধরেও নেওয়া যায় তাহলেও কি বিজেপির নীতির পরাজয় হল বলে মনে করা ঠিক হবে। বোধ হয় না। কারণ কেজরিওয়াল বিজেপির উগ্রহিন্দুত্ববাদী প্রচারের তেমন বিরোধিতাতো করেননি। বরং প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি। লোকসভা ভোটে মোদি নিজেকে প্রজেক্ট করে যেভাবে ভোট চেয়েছিলেন ঠিক সেইভাবেই ভোট চেয়েছেন কেজরিওয়ালও। সিএএ বিরোধিতায় কেন্দ্রের সঙ্গে কোন সংঘাত তৈরি তো দূরের কথা শাহিনবাগের অান্দেলনের সমর্থনে একটি কথাও খরচ করেননি কেজরিওয়াল। অার পাঁচটা অাঞ্চলিকদলগুলির নেতাদের মত ক্ষমতায় টিকে থাকতে নানারকম ছলা কলার অাশ্রয় নিয়েছেন কেজরিওয়াল। মুখে দুর্নীতির বিরোধিতার কথা বলে ক্ষমতায় এলেও যাদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন তাদের অাইনি পদক্ষেপের সামনে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন কেজরিওয়াল। তাই দিল্লি ভোটে বিজেপি হারলেও গণতন্ত্র যে শক্তিশালী হল তা বলা বোধহয় ঠিক হবে না।