এদেশের মানুষকে সরকার কি কীটপতঙ্গই মনে করে!

0
37

  সম্পাদকীয়ঃ-কথায় বলে মানসিকতার প্রকাশ হয় কাজের মধ্য দিয়ে।উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের সরকার বার বার তার কাজ দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে যে তারা মানুষকে কী চোখে দেখে।এবার একেবারে শ্রমজীবী খেটে খাওয়া মানুষকে তারা যে বিষাক্ত কীটপতঙ্গ বলেই বিবেচনা করে তাও বুঝিয়ে দিল।তা না হলে একদল মানুষের শুদ্ধিকরণ করতে ওভাবে প্রশাসন তাদের উপর জীবাণুনাশক রাসায়নিক প্রয়োগ করতে পারে?কেউ কেউ বলছেন প্রশাসন নির্মম নির্দয়,আমরা বলছি এদেশের প্রশাসন সাধারণ খেটে খাওয়া দিন আনা মানুষজনদের এই মানসিকতাতে দেখতেই অভ্যস্ত।করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশের সারকার বার বার বুঝিয়ে দিয়েছে,তারা দেশের খেটে খাওয়া মানুষজনদের নিয়ে বিশেষ ভাবিত নয়।সেই জন্যই তো বিমানে করে যাতায়াতে অভ্যস্ত উচ্চবিত্তদের নিয়ে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার যতটা চিন্তিত তার সিকি ভাগও ভাবিত নয় দেশের কোটি কোটি অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের জন্য,পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য।উল্টে মর্মান্তিক এক দৃশ্য দেখল গোটা দেশ যেখানে বাইরের রাজ্য থেকে আসা একদল মানুষের উপর স্প্রে করা হোল জীবাণুনাশক রাসায়নিক।শিশু ও মহিলা নির্বিশেষে একদল মানুষের উপর এমনভাবে কীটনাশক প্রয়োগ করা হোল যেন তারা মানুষ নয়  জীবাণু-কীট।লজ্জা বা ধিক্কার শব্দ গুলোও এই জঘন্য ঘটনার নিন্দা করার জন্য যথেষ্ট বলে মনে হচ্ছে না,এই ঘটনা যারা ঘটাতে পারে তাদের মানসিক বিকৃতি যে কোন স্তরে পৌঁচেছে তা ভেবে আতঙ্ক জাগে।

      বিজেপির নেতা  ও তাদের কর্মী ও সমর্থকরা যে কোন ্অছিলায়,যে কোন মানুষকে দেশদ্রোহী বলে দেগে দিতে ব্যস্ত থাকেন,মানুষের উপর জীবাণুনাশক রাসায়নিক স্প্রে করার  ঘটনায় যে প্রশাসন জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কোন মন কি বাত শোনা যাচ্ছে না এখনও।কিছু প্রশাসনিক ব্যবস্থা হয়তো লোকদেখান নেওয়া হবে । হয়তো  নীচুতলার কোন স্বাস্থ্যকর্মীকে বলির পাঠা করে শাস্তি দিয়ে ঘটনাটা আপাতাত ধামাচাপা দেওয়া হবে।কিন্তু এই ভয়াবহ ঘটনার অভিঘাত তাতে কোন ভাবেই কমবে না বলেই আমরা মনে করি।এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে গেল তথাকথিত দেশপ্রেমের কথা বলেন যারা তারা আসলে মানুষকে বিন্দুমাত্র সম্মান ও ভালবাসা দিতে পারেন না।এইসব দেশনেতারা চরম অশিক্ষিত-আকাট।এরা জানেন না দেশ মানে -দেশের মাটি জল ধূলো ময়লা নয়,দেশ মানে দেশের মানুষ।অগণিত খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষেরাই দেশের প্রকৃত সম্পদ,তাদের ঘিরেই দেশের পরিচয়।এই মানুষগুলিকে যারা বিষাক্ত জীবাণু বলে মনে করে তাদের উপর রাসায়নিক স্প্রে প্রয়োগ করে তারা তো আসলে দেশের আত্মাকেই অপমান করলেন।

    খবরে প্রকাশ ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চারা চেখোর জ্বলন কমাতে অনেকটা সময় চোখ বন্ধ করে থাকতে বাধ্য হয়েছে।এই শিশুরা আগামী দিনের নাগরিক প্রত্যাশা করা য়ায় এরা দেশ প্রেমের বুলি কপচানো ভন্ড-নোংরা আত্মস্বার্থ সর্বস্ব নেতাদের চিনবে,ও এদের প্রতি তীব্র ঘৃণার উদগীরণে তৈরি করবে দেশপ্রেমের এক নতুন পাঠ।ভাবি প্রজন্মের সেই নতুন পাঠ তৈরি হবার আগেই যে বা যারা এখনও মনুষ্যত্ব ও মানবিকতাকে পুরোপুরি বিসর্জন দিতে পারেন নি তারা আপাতাত উত্তর প্রদেশ সরকারের এই চরম ্অমানবিক আচরণকে তীব্র ধিক্কার জানিয়ে আসুন উচ্চারণ করি একটা ছোট্ট শব্দ ছিঃ!