ফের বেসরকারি ব্যাঙ্কের বিষ গিলতে বাধ্য করা হচ্ছে অারেকটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ককে, কার স্বার্থে?

0
73

সাতদিন ডেস্কঃ ফের অারেকটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের অার্থিক কেলেঙ্কারি চাপা দিতে বলির পাঠা করা হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ককে। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী সঙ্কটে থাকা ইয়েস ব্যাঙ্কের পুনর্গঠনে রাষ্ট্রায়ত্ত এসবিঅাইকে বিনিয়োগ করবে । ইয়েস ব্যাঙ্কের ৪৯ শতাংশ মালিকানার জন্য ২৪৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে এসবিঅাই।  এসবিঅাইকে এর পর অারো কিছু  টাকা ইয়েস ব্যাঙ্ককে ঢালতে হবে কিনা তা স্পষ্ট নয় এখনও। দেশজুড়ে ১০০০ শাখা থাকা একটি সঙ্কটগ্রস্ত ব্যাঙ্ককে এই বিনিয়োগ কি অাদৌ লাভজনক? তবে এই প্রথম নয় এর অাগে ২০০৪ সালে গ্লোবাল ট্রাস্ট ব্যাঙ্কের কেলেঙ্কারি ধাপাচাপা দিতে এইভাবে তাঁকে রাষ্ট্রায়ত্ত ওরিয়েন্টাল ব্যাঙ্ক অফ কর্মাসের সঙ্গে মিশিয়ে দেয় সরকার।

দীর্ঘদিন ধরে ইয়েস ব্যাঙ্কে অনিয়মের বিষয়টি জনসমক্ষে থাকলেও এতদিন পর সরকার হস্তক্ষেপ করল কেন তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। ব্যাঙ্কের প্রাক্তন এমডি তথা প্রতিষ্ঠাতা রাণা কাপুরকে বেশ কয়েক মাস অাগে ব্যাঙ্কের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও তাঁর বাড়িতে শুক্রবার ইডি হানা দেওয়ার মানে কী? শুধু যে রিলায়ন্স, ভোডাফোন, এসেল ইত্যাদির মত সংস্থায় ঋণ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে না । প্রশ্ন রয়েছে ইয়েস ব্যাঙ্কের মালিক ইন্ডিয়া বুলসের সংস্থাকে ৫ হাজার ৬৯৮ কোটি টাক ঋণ দিয়েছে। অার ঘুর পথে সেই ঋণের একটা অংশ, ২০৩৪ কোটি টাকা রানা কাপুরের অাত্মীয়দের কোম্পানিতে অাবার ইন্ডিয়া বুলস ঋণের মাধ্যমে চালান করেছে।( সূত্র ক্যারাভান)

পিএমসি ব্যাঙ্কের পর ইয়েস ব্যাঙ্কে সঙ্কট। ইতিমধ্যেই অাগামী ৩০দিনের জন্য ব্যাঙ্কের বোর্ডকে সাসপেন্ড করেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। অাপাতত স্টেট ব্যাঙ্কের এক প্রাক্তন কর্তাকে ইয়েস ব্যাঙ্কের পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। অাগামী ৩ এপ্রিল পর্যন্ত ব্যাঙ্কের অামানতকারীদের মাসে ৫০ হাজার টাকার বেশি তোলার অনুমতি দিচ্ছে না রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। গত কয়েক বছর ধরে হয়ে চলা বেনিয়মে শুধু নজরই রাখলো রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ও অর্থমন্ত্রক। শুধু নজর!

ইয়েস ব্যাঙ্কের সঙ্কটের জেরে অামানতকারীদের টাকা তোলার হিড়িক পড়ে গেছে। এটিএম এ টাকা পাচ্ছেন  না বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। এদিকে ফোন পে  পেমেন্ট ওয়ালেট ইয়েস ব্যাঙ্কের মারফত পরিচালিত হয়। ইয়েস ব্যাঙ্কের সঙ্কটের জেরে অাপাতত কাজ করছে না  ফোন পে এর UPI ।

পিএমসি ব্যাঙ্কের ঘটনার জেরে ইতিমধ্যেই  প্রাণ হারিয়েছেন অনেকেই। এখনও সেখানকার অামানতকারীরা টাকা ফেরত পাননি। ইয়েস ব্যাঙ্কের ঘটনার জেরে তাই অাতঙ্ক অারো বেড়েছে। প্রশ্ন উঠছে দীর্ঘদিন ধরে ইয়েস ব্যাঙ্ককে  অনিয়ম হলেও সরকার কোন পদক্ষেপ করেনি কেন। পিএনবি এর প্রতারণার পর সরকার এতটা ছাড় দিল কী করে তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। বেসরকারি ব্যাঙ্কের হয়ে যারা ওকালতি করেন তারাই বা  ইয়েস ব্যাঙ্কের ঘটনায় কী বলবেন? অার অাবারো অারেটি সরকারি ব্যাঙ্ক দিয়ে উদ্ধার করা হচ্ছে একটি ফেল মারা বেসরকারি ব্যাঙ্ক। কাকে বাঁচাতে চাইছে সরকার?