রঞ্জন গগৈকে রাজ্য সভায় মনোনীত করায় সরকারকে অভিনন্দন জানান উচিত!

0
95

সাতদিন ডেস্কঃ সুপ্রিম কোর্টের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জন গগৈকে রাজ্যসভায় মনোনীত করেছে সরকার।এর অাগে সুপ্রিম কোর্টের কোন প্রধানবিচারপতিকে রাজ্যসভায় মনোনীত না করা হলেও নানা বিচারপতিই শাসকদলের অানুকূল্যে নানা পদে অাসীন হয়েছেন।রাজ্যপাল থেকে লোকসভার সাংসদ সব অাসনেই সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতিরা বসেছেন। অাগে কংগ্রেসের ইচ্ছেতে এখন বিজেপির । ১৯৯১ সালে অবসর নেওয়া সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঙ্গনাথ মিশ্র পরে কংগ্রেসে যোগ দিয়ে ১৯৯৮ সালে রাজ্যসভায় যান। সুপ্রিম কোর্টের অারেক অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি  পি সত্যশিবমকে কেরলের রাজ্যপাল করেছে মোদি সরকার।

রঞ্জন গগৈর রাজ্যসভায় মনোনয় অনেকেরই চোখে বিঁধছে। খটকা লাগার তো কিছু  নেই বরং এটাই তো স্বাভাবিক । নিজে অসমীয়া হয়েও অসমে এনঅারসি করার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের শরিক ছিলেন গগৈ। অযোধ্যা মামলা সহ সুপ্রিম কোর্টের একাধিক  রায় সরকারকে  সম্প্রতি স্বস্তি দিয়েছে। সেই সব বেঞ্চের প্রধান ছিলেন রঞ্জন গগৈ। নিজে যৌন কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত থেকে যেভাবে ক্লিনচিট অাদায় করেছেন রঞ্জন গগৈ তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্নের মুখে। সম্প্রতি ক্যারাভান পত্রিকায় গগৈর নানা অপকর্ম নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে কী করে সতীর্থের পদোন্নতি তিনি পিছিয়ে দিয়েছেন। সামাজিক বিষয় উদাসীন থেকে নিজের কেরিয়ার নিয়েই ব্যস্ত থেকেছেন গগৈ। পারিবারিক সদস্যের বদলি ঠেকাতে  সরকারের  সাহায্য চাওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

রঞ্জন গগৈকে রাজ্যসভায় মনোনীত করায় বৃত্ত সম্পূর্ণ হল বলে মনে করছেন অনেকে।এদেশে নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থার বিষয়টি যে অাসলে সোনার পাথরবাটি তা ক্রমশ বুঝতে পারছেন অামজনতাও।বেঞ্চের সঙ্গে সেটিং নতুন কিছু নয়। মায়ের মৃত্যুর পর  ২০১৬ সালে ১৪দিনের প্যারোল মুক্ত সাহারার সুব্রত রায় অাজও জেলের বাইরে। কে না জানে অর্থ থাকলেই অাইনকে বুড়ো অাঙ্গুল দেখান যায়। সুপ্রিম কোর্টের ৮ প্রাক্তন  বিচারপতিই দুর্নীতিগ্রস্ত ছিলেন বলে ২০১০ সালে অভিযোগ করেছিলেন বিশিষ্ট অাইনজীবী শান্তিভূষণ। এই অভিযোগের জন্য শান্তিভূষণের বিরুদ্ধে অাদালত অবমাননার মামলার হুমকি অাজও কার্যকর করতে পারেনি অাদালত। অাসলে এদেশের বিচারব্যবস্থা  কোন দিন নিরপেক্ষ ছিল কি না তা নিয়ে বিতর্ক চলতেই পারে। তবে সরকারের সঙ্গে একটা হাল্কা সীমারেখা ছিল অাগে। ক্রমশ তা মুছে যাচ্ছে। কয়েকদিন অাগে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অরুণ মিশ্র তো প্রধানমন্ত্রী মোদির ভূয়সী প্রশংসা করেন একটি অনুষ্ঠানে। রঞ্জন গগৈকে  রাজ্য সভায় মনোনীত করায় তাই অবাক হওয়ার কিছু নেই। বরং সরকারকে অভিনন্দন জানান উচিত এই নিরপেক্ষতার মুখোশ খুলে ফেলার জন্য।