লকডাউন জরুরি তবে গরীবেরা কী করে বাঁচবেন মোদির ভাষণে নেই সেই দিশা

0
34

সম্পাদকীয়ঃ- প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন আগামী ২১ দিন গোটা দেশকে লকডাউনে থাকতে হবে।  দেশ ও দুনিয়া এক ভয়াবহ বিপদের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে,সেই বিপদ প্রতিহত করতে মানুষকে এই বাঁধন মেনে নিতেই হবে।গোটা দুনিয়া যে এক ভয়াবহ বিপদের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।লকডাউন ছাড়া যে দেশের ভয়াবহ বিপর্যয় মোকাবিলা করার কোন পথ নেই তা নিয়ে আমারাও সম্পূর্ণ সহমত।আমরা বরং মনে করি আর আগে কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল।দেরিতে হলেও প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমরা একমত।তবে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্তের ঘোষণা করেছেন তার পরেও আর কিছু সিদ্ধান্ত প্রত্যাশিত ছিল।অবস্থা যে দিতে যাচ্ছে তাতে মনে করা যায় এই লকডাউন প্রক্রিয়াকে আর দীর্ঘায়িত করতে হতে পারে।আর সে ক্ষেত্রে এ দেশের কোটি কোটি গরিব মানুষ যারা দিন আনেন দিন খান কীভাবে বাঁচবেন তারা?সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিতে হবে দেশের সরকারকে।কেন প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় মানুষের জীবন যাপন প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে সরকারের কোন ভূমিকার কথা থাকবে না?লকডাউন প্রক্রিয়া চলাকালীন দেশের মানুষের বাড়িতে বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা করেছে কানাডা সরকার,আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে সেটা একেবারে একশ শতাংশ করা না গেলেও সরকারকে কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তো জানাতে হবে।তা না হলে দিনের পর দিন মানুষ কোন পদ্ধতিতে বেঁচে থাকবে।কেন তাঁর দীর্ঘ বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী একবারও বলতে পারলেন না যে এদেশের কোন মানুষকে এই সংকটের সময়ে না খেয়ে মরতে দেওয়া হবে না,কেন বলতে পারছেন না দারিদ্রসীমার নিচে থাকা সব মানুষকে খাবার পৌছে দেওয়ার দায়িত্ব সরকার নেবে।কেন জরুরি ভিত্তিতে আর্থিকভাবে দূর্বল মানুষকে সহায়তা করার ঘোষণা নেই?মানুষ ঘরে বন্দি থাকবেন কিন্তু খাবার ও নিত্যপ্রয়োজীয় সামগ্রীর জোগান আসবে কোথা থেকে?সরকার সে বিষয়ে কোন নির্দিষ্ট ভাবনা ভেবে উঠতে পারেনি বলেই প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুনে মনে হল।

   মজার বিষয় সংবাদ মাধ্যমে এই সব প্রশ্নগুলো উঠছে না।করোনা প্রতিরোধে লকডাউন একমাত্র পথ এই প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে দরকার সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে সরকারি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলা,প্রশ্ন ওঠা উচিত এ দেশের সামাজিক পরিকাঠামোয় যেখানে এক কামরার ঘরে ঠাাসাঠাসি করে মানুষ আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় তাদের সোস্যাল আইসোলেশনের ব্যবস্থা করতে হলে তা সরকারকেই করতে হবে,এছাড়া গতি নেই,সরকার সে বিষয়ে কি ব্যবস্থা নিচ্ছে?শুধু সচিচ্ছা দিয়ে হবে না,সরকারকে প্রত্যক্ষভাবে উদ্যোগ নিতে এগিয়ে আসতে হবে।এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কোন সিদ্ধান্ত না থাকাটা হতাশার।

  এ রাজ্যের সরকার তবু রেশনে বিনা পয়সায় চাল ও গম দেবার ঘোষণা করেছে,যদিও সেটাও যথেষ্ট নয় দরকার আর সরকারি সাহায্যের।চিকিত্সার ব্যয়ভার সরকারকে বহনের ঘোষণা করতে হবে।গরিব ও দারিদ্রসীমার নিচে থাকা মানুষকে খাবার পৌঁছে দেবার নিশ্চয়তা দিতে হবে।যে যে কারণে তাদের প্রতিদিন ঘর থেকে বাইরে না বেরিয়ে উপায় থাকে না সে কারণগুলির সমাধান না করতে পারলে লকডাউন কার্যত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে,আর সেই ব্যর্থতা শুধু গরিব মানুষের বিপদ ডেকে আনবে না বিপদ ডেকে আনবে মানব সভ্যতারও।প্রধানমন্ত্রী  রাজ্যের সমস্ত শাসক দলগুলি নিশ্চয়ই এখন অনুধাবন করতে পারছেন যে করোনা নামক মারণ ভাইরাসটি চরিত্রের দিক থেকে খুবই ‘সাম্যবাদী’সে শুধু গরিব অসহায় মানুষকেই বিপদে ফেলে না নির্দ্ধিধায় হানা দেয় ক্ষমবানদের অলিন্দেও।তাই সরকারকে শুধু লকডাউনের ঘোষণা করলেই হবে না সেই ঘোষণা কার্যকরি করার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা করার দিকেও এগুতে হবে।প্রত্যাশা করা যায় দেশের সরকার ও রাজ্য সরকারগুলি সেদিকে খেয়াল রাখবেন।