সরকারি হাসপাতাল কি শুধুই দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকদের জন্য?নেতা থেকে প্রশাসনের কর্তার সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে ভয় পান কেন?

0
74

 সাতদিন ডেস্কঃ-এরাজ্যের এক উচ্চপদস্থ আমলা ও চিকিতসকের লন্ডন ফেরত পুত্র যে ভাবে শরীরে করোনা ভাইরাস নিয়ে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রন্তে ঘুরে বেরিয়েছে তাতে সব মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী  বিদেশ থেকে ফেরার পর তাকে আইডি হাসপাতালে ভর্তি হতে বলা হলেও তিনি তা অগ্রাহ্য করেন।ঐ তরুণের মা রাজ্য সরকারের উচ্চপদস্থ আমলা তাঁর সঙ্গেও ভাইরাস আক্রান্ত তরুণ বিভিন্ন সরকারি অফিসে ঘুরে বেরিয়েছেন বলে খবর। অবশেষে বাঙুর হাসপাতালে গেলে সেখানকার চাপেই ঐ তরুণ বাধ্য হয়ে আইডি হাসপাতালে ভর্তি হন এবং তার দেহে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পজেটিভ বলে জানা যায়।এর পর থেকেই সংবাদ মহলে তুমুল সমালোচনা শুরু হয় কেন একজন দায়িত্ববান আমলার পুত্র এধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করবে,কেন সরকারি হাসপাতালের নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে আমলা পুত্র ঘুরে বেড়াবে সপিংমল থেকে নানা জায়াগায়?এই আমলার পরিবারের দায়িত্বহীনতা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রীও,তিনি পরিষ্কার হুশিয়ারি দিয়েছেন কোন ক্ষমতাবান ব্যক্তির এরকম দায় দায়িত্বজ্ঞানহিন আচরণ কোনভাবেই বরদাস্ত করা যাবে না।কিন্তু তার পরেও কিছু প্রশ্ন থাকে।কেন প্রথমে আইডিতে নিয়ে যাওয়ার পর আমলাপুত্র সেখানে ভর্তি হতে রাজি হলেন না?কেন প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা আমলাও জোর করে তাঁর পুত্রকে সরকারি হাসপাতালে রেখে আসতে পারলেন না?কারণটা বোধহয় এটা এই পরিবার যে সামাজিক স্তরে অবস্থান করে সেখানে সরকারি হাসপাতাল সম্পর্কে তাদের গভীর অনাস্থা তৈরি হয়েছে।সরকারি হাসপাতাল মানে গরিব সহায় সম্বলহীন মানুষের জন্য,সেখানে কোন পরিষেবার পরিকাঠামো থাকে না,উপায় নেই যাদের তারা সেখানে যান ।তাই মা আমলা, বাবা যার প্রতিষ্ঠিত চিকিত্সক,যারা কথায় কথায় দেশ-বিদেশ ঘুরে আসতে পারেন তারা যে সরকারি হাসপাতালে আস্থা পাবেন না সেটাই স্বাভাবিক।বেসরকারি হাসপাতালের ঝা চকচকে ব্যবস্থা ছেড়ে আইডির  বেডে শুয়ে থাকাটা অসহ্য বলে মনে হওয়াতেই হয়তো ঐ তরুণ হাসাপাতালে থাকতে রাজি হন নি।তাকে বাধ্যও করাতে পারেন নি চিকিত্সকরাও কারণ সকলেই ক্ষমতার কাছে নতজানু।মুখ্যমন্ত্রী যতই বলুন নিয়ম সবার জন্যই সমান,আসলে তা কথার কথা বাস্তবে তা মুল্যহীন। তা না হলে কেন চিকিত্সকেরা ডেঙ্গি হলেও তা লিখতে ভয় পান।

  সরকারি হাসপাতালের কঙ্কালসার চেহারাটা এতটাই পরিচিত যে ঘোর বিপদের সময়েও সে কথা মন থেকে সরতে চায় নাএই প্রভাবশালী পরিবারটি সে বিষয়টাই প্রমাণ করে দিলেন।এখন শোরগোল শুরু হয়েছে কারণ ঐ পরিবারটি বিপদের ঘন্টা বাজিয়ে দিয়েছেন খোদ ক্ষমতার অলিন্দেই।তিনি নবান্নে ও মহাকরণে মিটিং করে এসেছেন,ফাইলে সই করেছেন তাই ভয় ছড়িযেছে সর্বত্র।কিন্তু ঐ পরিবারটির দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন করার আগে তাদের মানসিক অবয়বটা চিনে নেবার চেষ্টা করা জরুরি,তা হলে সমস্যার কেন্দ্রটা চেনা যাবে না।এ দেশে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা এতটাই অপ্রতুল যে নিম্ন বিত্ত পরিবারের মানুষজনও এখন ভিটে মাটি বেচে চিকিত্সা পরিষেবা পেতে বেসরকারি হাসপাতালের দরজায় গিয়ে দাঁডাতে বাধ্য হচ্ছে।এরাজ্যে সরকারি হাসপাতালে শুধু হতদরিদ্র মানুষের মুখের ভিড়। এ রাজ্যের কোন মন্ত্রী বা আমলা অসুস্থ হলে কখনো সরকারি হাসপাতালে যান না, যান বেসরকারি নার্সিংহোমে। সরকারি  হাসাপাতাল মানে পিজির উডবার্ন ওয়ার্ড। রাজ্যের এক প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্র পিজির উডবার্ন ওয়ার্ডে থাকাকালীন তিনি নিজে ওই ওয়ার্ডটিকে নিজের মত করে বিলাস বহুলভাবে সাজিয়ে নিয়েছিলেন।তবে সে সুযোগ তো আর সবার হয় না,যতই সবার জন্য সমান বলা হোক কিছুই সমান নয়।মা-মাটি মানুষের নামে স্লোগান তোলা নেত্রী ও নেতারাই  সরকারি হাসপাতালে নিজেদের নিরাপদ বলে বিবেচনা করতে পারেন না । তাই রাজ্যের এক আমলা পুত্র ভয়ঙ্কর সংক্রমক ভাইরাসে অাক্রান্ত হওয়ার পরও  সরকারি হাসপাতালে ভর্তি না হননি। সরকারি  স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় অনাস্থা দেখাতে সাহস করেন।

   ভাইরাস আক্রান্ত আমলা পুত্র তার বোধহীনতা দিয়ে অনেককে আতঙ্কের মধ্যে ফেলে দিয়েছেন এ কথা সত্য তবে একি সঙ্গে তিনি বোধহয় একটা সত্যকেও সামনে নিয়ে এলেন উচ্চবিত্ত পরিবার যে ভাবনার জগতে অবস্থান করে সেখানে সমাজিক দায়বদ্ধতার খুব একটা অবকাশ থাকে না।একই সঙ্গে এটাও পরিষ্কার সরকারি হাসপাতালের প্রতি কতটা অনাস্থা ও অবজ্ঞা ধারণ করেন সমাজের তথাকথিত এইসব উচ্চবিত্তরা ।