এক লাখ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা দূর করতে এক কোটি মানুষকে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার আয়োজন করছে রাষ্ট্রঃডাঃ স্থবির দাশগুপ্ত-

0
790

অনুপম কাঞ্জিলাল- মিডিয়ার প্রচার থেকে দূরে থাকেন তিনি,কোন মিডিয়ায় কোন সাক্ষাতকার দিতে তাঁর ঘোর অনাগ্রহ।তবে এই করোনা ও তার প্রতিরোধ নিয়ে গোটা পৃথিবী ও আমাদের দেশ জুড়ে যা চলছে তার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর কিছু মতামত আছে।সেই মত তিনি ইতিমধ্যেই প্রকাশ করেছেন সেই মত তিনি সাতদিনডটইনকেও  জানিয়েছেন।তিনি বিশিষ্ট্য ক্যানসার বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক স্থবির দাশগুপ্ত।এদেশে করোনা প্রতিরোধে রাষ্ট্রের ভূমিকাকে কটাক্ষ করে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন যে ভাবে রাষ্ট্র লাগামহীন লকডাউন করেই শুধু করোনাকে প্রতিরোধ করতে চাইছে তাতে মনে হয় এদেশের জণগনের প্রতি রাষ্ট্রের কোন দায় নেই।ডাঃ দাশগুপ্ত মনে করেন করোনায় এক লক্ষ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা ( হাঁ-শুধু আশঙ্কাই)দূর করতে লকডাউনের এই সিদ্ধান্ত এক কোটি মানুষকে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেবে।মিডিয়া ও একশ্রেনীর চিকিত্সকরা যে ভাবে মানুষের মধ্যে ভয় ও আতঙ্কের সঞ্চার করছেন তাকেও তীব্র কটাক্ষ করেছেন এই  ক্যানসার বিশেষজ্ঞ।তাঁর মতে এই সময় দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক দূরাচার যেমন প্রকাশ্যে আসছে  তেমনি একশ্রেণির সরকারি কর্তা ব্যক্তির মেরুদ্ন্ডহীনতা ও বোধহীনতাও যথেষ্ট পীড়াদায়ক।ডাক্তার দাশগুপ্ত মনে করেন গোটা পৃথিবীর মত এদেশেও ভাইরাস চর্চার নামে মানব চর্চাকে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।তাই করোনার প্রাথমিক প্রতিরোধক হিসেবে বার বার একই কথা বলে যাওয়া হচ্ছে ঘন্টায় ঘন্টায় হাত ধোওয়া-স্যানিটাইজ করা।যখন জানাই আছে যে এটা দেশের দশ শতাংশর বেশী মানুষের পক্ষে মানা সম্ভব নয় তখন কেন বার বার একই নিদান দেওয়া হচ্ছে?কেন অন্য কোন সংলাপ কোথাও নেই?তাহলে তো ধরে নিতে হয় যে এই নব্বই শতাংশ মানুষের প্রতি রাষ্ট্রের ও তামাম মিডিয়ার কোন দায়বদ্ধতাই নেই।চিকিত্সক স্থবির দাশগুপ্ত প্রশ্ন তুলছেন করোনার প্রতিরোধক হিসেবে যে ভাবে সামজিক দুরত্ব তৈরির নামে  মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সন্দেহ ও সংশয় ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে তাতে কোন সুস্থ-সুন্দর সমাজ টিঁকে থাকতে পারে?এই পারস্পরিক সন্দেহের বীজ কতদিন মানুষের মধ্যে বজায় থাকবে তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করছেন এই চিকিত্সক।

  ডাঃ দাশগুপ্ত মনে করেন করোনা ভাইরাসের যে সমস্যা তা রাষ্ট্র এ দেশে ডেকে এনেছে।প্রথমেই সচেতন হলে করোনার এ দেশে ভ্রমণ ঠেকানো যেত।বিদেশ থেকে যারা আসছেন তাদের পর্যবেক্ষণ করা চিকিত্সা করা এদেশে সম্ভব ছিল।রাষ্ট্র সে বিষয় কোন উদ্যোগ নেয় নি পরে যখন বিপদ ছড়িয়ে পড়ল রাষ্ট্র তার সমস্যাকে জণগনের উপর চাপিয়ে দিল।যেভাবে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধের জিগির তোলা হচ্ছে তা নিয়েও ব্যঙ্গ করতে ছাড়ছেন না এই চিকিত্সক,তাঁর মতে কোভিড ভাইরাস আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে আসে নি সে তার আশ্রয় খুঁজতে চাইছে,সে মানবদেহের কোষের সঙ্গে বোঝাপড়া করতে চায়।আসলে এই যুদ্ধ জিগিরটাও রাষ্ট্রের একটা কৌশল,এই কৌশলেই রাষ্ট্র তার দিকে আঙুল তোলার সব প্রক্রিয়াকে বন্ধ করে দেয়,মানুষকে তেজহীন করে রাষ্ট্রের প্রতি শর্তহীন আনুগত্য দেখাতে বাধ্য করে।মানুষকে যেভাবে ভীত-সন্ত্রস্ত করে তোলা হয়েছে তাতে তাঁর পক্ষে কোন লড়াই করা আর সম্ভবই নয় বলে মত ডাক্তার স্থবির দাশগুপ্তের।তিনি পরিষ্কার জানাচ্ছেন মানুষকে এই রকম ভাবে ভয় দেখিয়ে সবরকম লড়াই থেকে যারা সরিয়ে দিলেন তাদের বোধ ও অভিভাবকত্বে কোনভাবেই আর ভরসা করা সম্ভব নয়।

  দেশের একটা বড় অংশের মানুষ লকডাউনের আওতার বাইরে আছেন,অসংখ্য মানুষ এই ভাইরাসের উপসর্গহীন বাহক হতে পারেন জানার পরেও ধারাবাহিক লকডাউনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থবির দাশগুপ্ত।আর এখানেই তাঁর স্পষ্ট অভিমত করোনায় এক লাখ মৃত্যুর আশঙ্কা ,তাঁর মতে শুধুই আশঙ্কা দূর করতে এক কোটি মানুষকে আমরা নিশ্চিত ও সাক্ষাত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছি।ভয়াবহ এক অর্থিক বিপর্যয় গ্রাস করবে অসংখ্য মানুষকে,দরিদ্র-নিম্ন বিত্ত নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্য বিত্ত শ্রেণি বিভাজনগুলো ক্রমশ মুছে যাবে বলে আশঙ্কা স্থবির দাশগুপ্তের।বিশিষ্ট এই চিকিত্সকের স্পষ্ট অভিমত,লকডাউন গোটা দেশ জুড়ে লকআউটের যে নিশ্চিত সম্ভাবনা তৈরি করছে,ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে যে ভাবে চিকিত্সার সমস্ত পরিকাঠামোকে ভেঙে ফেলা হচ্ছে তাতে রাষ্ট্রকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো ছাড়া কোন উপায় নেই।করোনার ভাইরাসকে বাগে আনতে আপাতত অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়েই আমাদের এগোতে হবে বলে মত ডাঃ দাশগুপ্তের।আর অনেকের মত তিনিও মনে করেন যুথবদ্ধ অনাক্রম্যতা বা হার্ড ইনিউনিটির উপরই ভরসা করতে হবে।তারপর টিকা।প্রয়াস জারি রাখতে হবে।চাইলেই কালকেই আমরা ভাইরাসের সব সীমাবদ্ধতা বুঝে ফেলতে পারবো না তবে প্রয়াস জারি থাকবে।বিজ্ঞানের নতুন নতুন জিজ্ঞাসার সামনে আমাদের দাঁড়াতেই হবে তবে এভাবে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে কোন লড়াই হয় না।জন স্বাস্থ্যের দায় থেকে রাষ্ট্রের মুখ ঘুরিয়ে থাকার যে অভ্যাস তৈরি করেছে , এই করোনা আবহে তারই আসল চেহারা ধরা পড়ল বলে মনে করেন বিশিষ্ট এই ক্যানসার চিকিত্সক।