করনো মোকাবিলায় শুধু লকডাউন নয় জরুরি অারো অনেককিছু

0
133

সম্পাদকীয়ঃ ১৭ মে পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ অংশে লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। মিডিয়ার ভাষা লকডাউন৩.০। মনে হচ্ছে করোনা মোকাবিলায় লকডাউনকেই স্থায়ী সমাধানের রাস্তা হিসাবে বেছে  নিয়েছে সরকার। তবে এরজেরে মানুষের করোনায় মৃত্যু না হলেও অনাহারে মৃত্যু হবে বহু মানুষের বলে মনে করছেন অনেকে। ইতিমধ্যে ৩০০ এর উপর মানুষ মারা গেছেন শুধু লকডাউনের জেরে, করোনার ভাইরাসে অাক্রান্ত হয় নয়।

একদিকে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লাগাম ছাড়া মূল্যবৃদ্ধির( চাল কেজি প্রতি ৫-১০ টাকা বেড়েছে। মুড়ির প্যাকেটের দাম বেড়েছে প্রতি প্যাকেট ৫ টাকা) জেরে গরীব মানুষের একটা বড় অংশ খাবারের সঙ্কট দেখা দিয়েছে বা দেবে বলে অাশঙ্কা করা হচ্ছে।যারা দৈনিক মজুরিতে কাজ করেন, অটোচালক , বাসকর্মী, ফুটপাতের দোকান বা হকার সহ অসংগঠিত কর্মীদের রোজগার বন্ধ প্রায় ২ সপ্তাহের বেশি। বেতন হয়নি জুটমিল সহ একাধিক ছোট বড় সংস্থাতেও। বড় সংস্থাগুলি মার্চের মাসের বেতন দিলেও এপ্রিলে কী করবে বোঝা যাচ্ছে না। তাই লকডাউন বাড়লে এই সব মানুষগুলির অবস্থা অারো শোচনীয় হবে তাতে সন্দেহ নেই।

 বিশেষজ্ঞেরা বলছেন লকডাউন অাসলে টেস্ট করে সংক্রমিত ব্যক্তিদের অালাদা করে চিকিত্সা করা ও চিকিত্সার পরিকাঠামো তৈরি করার জন্য সময় নেওয়ার একটি পদ্ধতি মাত্র। শুধু লকডাউন করা হল অার টেস্ট করা হল না তাহলে লকডাউনের সুফল মিলতে পারে না।দক্ষিণ কোরিয়া যেখানে ১০ লক্ষ মানুষ পিছু ৯ হাজারের কাছাকাছি টেস্ট করা হচ্ছে সেখানে ভারতে তা করা হচ্ছে ১০২টি। ফলে রোগী ধরা পড়ছেন না। তিনি রোগটি ছড়িয়ে চলেছেন অজান্তেই। করোনায় মৃত্যু বা অাক্রান্তের সংখ্যা অাড়াল করে করোনা মোকাবিলা করা যাবে না। জনগণের সামনে  তথ্য স্বচ্ছতার সঙ্গে তুলে ধরতে হবে।

ফুড করপোরেশনের গুদামে চাল গম পচছে অথচ তা জনসাধরণের মধ্যে বিলি করতে নানা লাল ফিতের ফাঁস। অবিলম্বে শুধু চাল গম নয় সাবান, দেশলাই ,তেল, ডাল, নুন সহ  নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রেশন দোকানের মাধ্যমে সরবরাহ করলে তবে গরীব মানুষদের কিছুটা সুরাহা হতে পারে। সেই সঙ্গে একটা নির্দিষ্ট অঙ্কের ক্যাশ ট্রান্সফারও করতে হবে। কারণ ওষুধ, সবজি সহ বাজার থেকে বেশ কিছু জিনিসপত্র প্রতিটি মানুষকেই জীবনধারনের জন্য কিনতে হয়। তাই গরীব মানুষের হাতে টাকার জোগান অত্যন্ত জরুরি। সেই সঙ্গে ফ্রি কিচেন চালু করুক ফুটপথবাসী ও ভবঘুরেদের জন্য।

করোনা মোকাবিলার অজুহাতে নেতাদের ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপন বন্ধ করে সেই অর্থ করোনা মোকাবিলায় ব্যবহার করুক সরকারগুলো। হেলিকপ্টার থেকে ফুল ছড়ানোর নাটক না করে যাতে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি মানুষের মনোভাব বদল হয়ে সে চেষ্টা করা উচিত সরকারের। অতি ধনীদের ওপর মহামারি মোকাবিলার জন্য কর চাপাক সরকার।স্বাস্থ্যকর্মীদের মনোবল শুধু তালি বা থালি বাজিয়ে হবে না উপযুক্ত ও যথেষ্ট সংখ্যক টেস্ট কিট ও পিপিই সরবরাহে জোর দিক সরকার। চমকে বা ধমকে করোনা মোকাবিলা করা যাবে না। জনগণকে নিয়েই, তাদের ভয় দেখিয়ে নয়, করোনা মোকাবিলা করতে হবে সরকারকে।