করোনা নিয়ে কমিউনাল অ্যাঙ্গেলে রাজ্যকে দেওয়া কেন্দ্রের চিঠির প্রতিবাদ হওয়া জরুরি

0
281

সাতদিন ডেস্কঃ দিল্লির নিজামুদ্দিনের জমায়েতের সঙ্গে কোভিড১৯ বা করোনাকে জুড়ে দিয়ে সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক প্রচার অাগে থেকেই ছিল। তা নিয়ে ভুয়ো তথ্য মিডিয়ার একটা বড় অংশ প্রচারও করছিল। এবার সরাসরি কেন্দ্রের অাচরণে কোভিড১৯ নিয়ে সাম্প্রদায়িক মানসিকতার প্রকাশ পেল বলে মনে করছেন অনেকে। কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফে রাজ্যের মুখ্যসচিব ও পুলিসের ডিজিকে দেওয়া এক চিঠিতে বলা হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় লকডাউনকে লঘু করা হয়েছে।রাজাবাজার, নারকেলডাঙ্গা, তোপসিয়া  মেটিয়াবুরুজ, গার্ডেনরীচ, ইকবালপুর ও মানিকতলায় সবজি, মাছ ও মাংসের  বাজারে মানুষ সামাজিক দূরত্বের নিয়মকে উপেক্ষা করে ভিড় জমান হলেও কোন নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে না।

দিল্লির নিজামুদ্দিনে তাবলিঘি জামাতের জমায়েত  নিয়ে ইতিমধ্যেই এরাজ্যের একাধিক জায়গায় গুজব রটনাো হচ্ছে। কাঠগড়ায় বিজেপি। দুর্গানগরে এরকম একটি গুজব রটানোর চেষ্টাও করা হয় কয়েকদিন অাগে। কিন্ত দেশের সরকার করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করার বদলে এমন কিছু কথা বলবে যা সাম্প্রদায়িক প্ররোচনা বাড়াতে সাহায্য করবে, তা সত্যিই অনেকেই ভাবতে পারেননি অাগে। রাজ্যের কোন বাজারেই বোধহয় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটি করা হচ্ছে না। অথচ বেছেবেছে সংখ্যালঘু বহুল এলাকাগুলির বাজারে সামাজিক দূরত্বের নিয়ম লঙ্ঘন করার কেন্দ্রের অভিযোগের পিছনে অন্য মতলব রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা  বন্দ্যোপাধ্যায়  বারবার বলেছেন তিনি করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন কমিউনাল দৃষ্টিভঙ্গিতে নয়। রাজ্য সরকারকে দেওয়া কেন্দ্রের এই চিঠির কেন তীব্র প্রতিবাদ তিনি করছেন না তা নিয়েও অনেকে প্রশ্ন করছেন।ইতিমধ্যেই বিজেপির তরফে টিভি চ্যানেলে  এই চিঠির বিষয় নিয়ে সাম্প্রদায়িক কথাবার্তা  বলা শুরু হয়ে গেছে।

 প্রথমে অান্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা চালু রেখে দেশে করোনার প্রবেশকে সহজ করে দেওয়া, পরে লকডাউনের সময় প্রান্তিক মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ব্যর্থতা অার এখন যথেষ্ট সংখ্যক টেস্ট  না করে করোনা মোকাবিলায় নিজেদের ব্যর্থতাকে ঢাকতেই কি  করোনায় নিয়েও সাম্প্রদায়িক কথাবার্তার পথ বেছে নিল সরকার?  প্রশ্নটা ওঠা উচিত সজোরে, সর্বস্তরে।

চিঠির ছবি ফেসবুকে সাংবাদিক শুভজিত্ বাগচির পোস্ট থেকে সংগ্রহ করা