করোনা প্রতিরোধে অামজনতার হাতে ত্রিস্তরীয় মাস্ক পৌঁছে দিতে জনতার প্রযুক্তি উদ্যোগ

0
178

 সাতদিন ডেস্ক-ছাত্রানাং অধ্যায়ন তপঃ-যাদপপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অংশের পড়ুয়া বার বার এই আপ্তবাক্যের উল্টো পথেই হেঁটেই প্রমাণ করেছেন শুধু বই মুখের সামনে ধরে বসে থাকা নয় চারপাশের নানা ঘটনার ঘাত-প্রতিঘাতে নড়ে ওঠাটাও ছাত্রদেরই ধর্ম।তুমি আর আমি আর আমাদের সন্তানের বাইরের জগতকেও নিজের জগত বলে ভাবতে পারেন বলেই না এই ঘোর বিপর্যয়ের সময়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের CASTএর প্রযুক্তিগত সহায়তায় সাথে নিয়ে যাদবপুরের পড়ুয়াদের একাংশ  নেমে পড়েছেন করোনার গ্রাস থেকে রক্ষা করতে প্রান্তিক ও আর্থিকভাবে দূর্বল মানুষজনদের কাছে বিনা পয়সায়  মাস্ক পৌঁছে দিতে।এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে পিপিলস ইনিসিয়েটিভ ফর টেকনোলজি। অর্থাত্ জনতার প্রয়ুক্তি উদ্যোগ। যাদবপুর থেকে সদ্য পাশ করে বেরুনো কিছু গবেষক ও পড়ুয়া অন্য বেশ কিছু গবেষক ও ব্যক্তিরা একযোগে  প্রয়াস চলাচ্ছেন ত্রিস্তরের প্রযুক্তি নির্ভর এক বিশেষ মাস্ক। যার সাহায্যে ড্রপলেট থেকে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাস প্রতিরোধ করা সম্ভব। এই গণউদ্যোগের সঙ্গে জড়িতরা নিজেরা অাপাতত তহবিল তৈরি করে এর যাবতীয় সরঞ্জাম কিনতে শুরু করেছেন।ইতিমধ্যেই কয়েকজন সেলাইকর্মী এই কাজের বরাত দেওয়া হয়েছে।কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ২৫ হাজার মাস্ক তৈরির লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে।এই প্রয়াসকে ক্রমাগত বাড়িয়ে যাওয়াই লক্ষ্য থাকবে তাদের, দাবি করলেন এই গণউদ্যোগের সঙ্গে থাকা দেবার্ঘ।

   যাদবপুরের পড়ুয়ারা যে মাস্ক তৈরি করছেন তা একবার ব্যবহার করে ফেলে দেবার নয়,এটাকে সাবানজলে পরিষ্কার করে বার বার ব্যবহার করা সম্ভব।ত্রিস্তরীয় এই মাস্ক বাইরের জীবণুকে প্রথম স্তরে আটকে রাখতে পারবে,এমন প্রযুক্তিতেই এটা নি্র্মাণ করে হচ্ছে।পড়ুয়ারা চাইছেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গরিব ও নিত্যদিন কাজে বেরুতে বাধ্য হচ্ছেন যারা তাদের কাছে এটা পৌঁছে দিতে।লকডাউনের ফলে যাবতীয় ব্যবস্থা থমকে যাওয়াতে কাজের গতি এখন কম তবু তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে পড়ুয়াদের দাবি। এই মাস্ক তৈরি করতে খরচ খুবই কম।।গরিব মানুষজনের কাছে বিনামূল্যে তা তুলে দেবার পর এরা চান জনসাধরণের হাতে  ২০ টাকায় প্রতিটি  মাস্ক বিক্রি করতে।সেই টাকা আবারও মাস্ক তৈরির তহবিল ব্যবহার করা হবে।জনসাধরণ  কোথা থেকে এই মাস্ক সংগ্রহ করবেন? এ প্রশ্নের উত্তরে এই উদ্যোগের সঙ্গে থাকা যাদবপুরের পড়ুয়া দেবার্ঘ  জানিয়েছেন এ বিষয়ে তারা খুব তাড়াতাড়ি একটা সিদ্ধান্ত নেবেন।আপাতভাবে ভেবে রাখা হয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কোন একটা জায়গা থেকে বিলি করা হতে পারে একই সঙ্গে তারা যোগাযোগের জন্য দুটি ফোন নম্বর জানাচ্ছেন।  8697408334 এবং 9123782685 এই নম্বরে ফোন করলে তারা জানিয়ে দিতে পারবেন কোথা থেকে কীভাবে মাস্ক সংগ্রহ করা যাবে।এখন মাস্ক তৈরির গতি কিছুটা ধীর হলেও অচিরে গতি বাড়ান হবে বলেও উদ্যোক্তারা জানাচ্ছেন।আগামী দিনে হাসপাতালগুলিকে মাস্ক দিয়ে সাহায্য করার কথাও ভাবা হচ্ছে বলে উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।তবে তারা যে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন মূলত গরিব ও প্রান্তিক মানুষজনকে নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টাতেই তা জানাতে ভুলছেন না উদ্যোক্তারা।যাদবপুরের পড়ুয়ারা চাইছেন তাদের এই উদ্যোগকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে নাগরিক সমাজ তাঁদের দিকে হাত বাড়িয়ে দিক। যে বা যারা  চাঁদা  দিতে চান এই  উদ্যোগে তাঁরাও যোগাযোগ করতে পারেন উপরে দেওয়া ফোন নম্বরে।উদ্যোক্তারা বার বার জানাচ্ছেন যাবতীয় স্বাস্থ্যবিধি  ও রীতি মেনেই তৈরি হচ্ছে এই মাস্ক।গরিব ও প্রন্তিক মানুষের পাশে দাঁডাবার এই অদম্য জেদকে সম্মান জানাতে না পারলে মানুষ হিসেবে খাটো হয়ে যাওয়াটা হয়তো অবধারিত হয়ে যাবে অতএব…..