সরকারের করোনা মোকাবিলায় বাড়ছে উদ্বেগ

0
107

উত্তান বন্দ্যোপাধ্যায়ঃ  যা খবরাখবর পাওয়া যাচ্ছে তা আশাব্যঞ্জক ঠেকছে না। কি যে হচ্ছে কে জানে। কে বলতে পারবে হলফ্ করে যে আমাদের মধ্যেই কারুর asymptomatic COVID 19 positive নেই? লকডাউন কিছুতেই একমাত্র সমাধান হতে পারে না। পাশাপাশি প্রচুর sampling করে টেস্ট করতে হয়। এই sampling গুলোও করার একটা নিয়ম আছে। SRSWOR বলে এটাকে। মানে , Simple random sampling without replacement   ।

এখন , যেহেতু জানিনা এবং আমাদের কারুর asymptomatic test হচ্ছে না তাই lockdown এর মধ্যেই কে জানে আমি আমার পরিবারের সবকটা লোককেই নেগেটিভ থেকে ট্রান্সমিট করে পজিটিভ করিয়ে দিলাম কিনা। এরপর যখন লকডাউন উঠে যাবে তখন পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এ কমিউনিটি ট্রান্সমিশন exponentially বাড়বে। গ্রাফটা একদম vertical এর দিকে হবে। আসলে ভাইরাসটা কতদিন কার শরীরে থাকবে এটা নির্দিষ্ট করে তার এটাই incubating time সেটা তো বলা যাবেনা। কারুর সাত দিনে চলে যায় কারুর তিনসপ্তাহেরও বেশি সময় লাগতে পারে। আর লক্ষণ এসে গেলে তো সোনায় সোহাগা।এদিকে এইসব হাই পাওয়ার কমিটিতে একটাও জনস্বাস্থ্য বিশারদ নেই , জীবানুবিদ নেই , কমিউনিটি মেডিসিনের লোক নেই , ভাইরোলজিস্ট নেই , statistician নেই , মলিক্যুলার বায়োলজিস্টও নেই। আমরা প্রত্যেকেই এদিক ওদিক থেকে খবর পাচ্ছি যে এখানে ওখানে কেস দেখা যাচ্ছে কিন্তু সেগুলো খবরে আসছে না। এদিকে statistics টাকে চারটে head করা হয়েছে। ১)ইনফেকটেড ২)যারা হাসপাতালে সিম্পটম নিয়ে ভর্তী হয়েছে ৩)যারা ভাল হয়ে ফিরেছে ৪)যারা মারা গেছে। যে ভাল হয়ে ফিরলো তার head এ একটা tally যোগ হচ্ছে কিন্তু ইনফেকটেড থেকে তার tally টা কেটে দেওয়া হচ্ছে। এটা কিনা তারাই ভাল বলতে পারবেন। এইভাবে গোঁজামিল করা হচ্ছে statistics কে। এটা ঠিকই , সরকারের  প্রচুর বুদ্ধি আছে , চিন্তা আছে কিন্তু সেগুলো কি মহামারী বিশেষজ্ঞরা নিদান/বিধান দিচ্ছেন?  “উচ্চ ক্ষমতাশালী” কমিটিতে কেন এদের কাউকে রাখলেন না? উদ্দেশ্য হয়তো খুবই মহৎ?  জানিনা।

Coronar test দু রকম। একটা PCR test.  সেটা ব্যায় স্বাপেক্ষ।  আর হয় antibody test. Antibody test এ একটাই নেগেটিভ ব্যাপার আছে – সেটা হলো antibody test এ false positive আসতে পারে। কিন্তু PCR test time consuming , expensive কিন্তু  confirmatory test. তাহলে plan টা কি হওয়া উচিত ছিল? Mass scale এ antibody test করা – ওটা dot বা rapid result দিয়ে দেবে আধঘন্টার মধ্যে। যাদের antibody তে positive আসবে (false positive সহ) তাদেরকেই PCR test (time consuming – results come after 72 hrs) করা উচিত। এইরকম করলে খুব তাড়াতাড়ি আমরা locate করে নিতে পারবো simple random sampling without replacement (SRSWOR) process দিয়ে। এটাই South Korean Model । তাই তারা করোনা কে check করতে পেরেছে অতিমারির কবল থেকে। এসব বুদ্ধি যে আমাদের বিজ্ঞানীদের নেই তা নয় কিন্তু। কিন্তু কারা আছে ? কারা চালাচ্ছে? সব কিছুই কি রাজনীতি করে ঠেকানো যায়  নাকি সম্ভব? SARS1 ও তো একধরণের করোনা ফ্যামিলির  ভাইরাস। আজ থেকে ১০ বছর জুড়ে পৃথিবীর নানান দেশের বিজ্ঞানীরা বলে আসছিলেন যে করোনা ভাইরাস মিউটেট করতে করতে আগামী কয়েক বছর পরে একটা ভয়ঙ্কর অতিমারি নিয়ে আসতে পারে। তখন কেউ শোনে নি ও বোঝে নি যে vector biology ও molecular biological research এর জন্য অনেক বাজেট বাড়ানো উচিত। সেদিন একটা ভিডিও মারফত জানলাম স্টিভ জোবসও সাবধান বাণী দিয়েছিলেন ২০১৫ /১৬ সালে। অথচ ওই লোকগুলি কেউই তাদের সরকার বা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কিছু না বলে তেলিয়ে গেছে। আজ সবাই টিভিতে ( দেশে বিদেশে) এসে মুখ দেখাচ্ছে। অদ্ভুত। পেনসিলভেনিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির একটা recent রিপোর্ট আছে যে গত দশ বছরে যে সমস্ত রাষ্ট্র military /defence budget থেকে কমিয়ে environmental and biological and fundamental science research এ বেশি খরচ করেছে তারাই SARS COV2 (বা COVID19 যেকোন একটি নাম) এর সাথে যুঝতে পারছে।

তাই আওয়াজ তোলা পাঁচটি দাবি।

১) Randomly করোনার টেস্ট বাড়ান যাতে কিনা ব্যাপক হারে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন কে আমরা চেক দিতে পারি।

২) তথ্য গোপন করবেন না‌ এতে সকলেরই ক্ষতি। মহামারী তাতে ঠেকানো যায় না। ক্ষতিই হয়। কবে হার্ড ইমিউনিটি (herd immunity) তৈরি হবে বা কবে ভ্যাক্সিন বেরোবে এই অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশার উপর থাকবেন না। Luck আপনার উপর সহায়ক হবেই একথা কেউ হলফ করে বলতে পারে না।

৩) ঠিকঠাক যোগ্য লোককে কাজ করার পরিবেশ দিন , তাদের বিচার করার ক্ষমতা দিন যাতে তারা অতিমারির ধরনধারণটা বুঝতে পারেন। এবং চিকিৎসার ঠিকঠাক প্রোটোকলটাও বুঝতে পারেন।

৪) সমস্ত চিকিৎসক সহ স্বাস্থ্যকর্মীদের  সংক্রমণের নিরাপত্তার জন্য পিপিই দিন। হাসপাতাল শুধু করোনার জন্যই নয় , যাতে সকলেই হাসপাতালে চিকিৎসার যোগ্য সুযোগ পান তার জন্যই এই নিরাপত্তা থাকলে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী খুবই আনন্দের সঙ্গে ও সাহসের সঙ্গে চিকিৎসা করতে পারবেন।

৫) ভাইরাসের বিষয়ে লোকালি (আমাদের রাজ্যে) আপডেট থাকার জন্য সরকারি গবেষণা কেন্দ্রগুলিতে গবেষকদের তাদের মতন স্বাধীন কাজকর্ম করার  সহায়তা দিন।

(লেখক একজন রোগির অধিকার আন্দোলনের কর্মী, মতামত ব্যক্তিগত)