খাস কলকাতায় ‘স্বাস্থ্য সংকল্প’তে লকডাউনে ৫০ টাকায় ডায়েলেসিস

0
84

সাতদিন ডেস্কঃ-রাজনৈতিক পরিবারের মানুষ তিনি,একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রতি তাঁর আনুগত্যও প্রশ্নাতীত তবে তার বাইরে পেশাগত পরিচয়ে তিনি একজন চিকিত্সক।আর সেই কারণেই এদেশের স্বাস্থ্য পরিষেবা বিষয়ে তাঁর সম্যক ধারনা আছে, তিনি জানেন গরীব মানুষ স্বাস্থ্য পরিষেবা পেতে কতটা নাজেহাল হন।তিনি ডাক্তার ফুয়াদ হালিম,শুধুমাত্র গরীব মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবার দিকে লক্ষ্য রেখে ২০০৮ সালে নিজের কিড স্ট্রিটের বাড়ির লাগোয়া জায়গাতেই গড়ে তোলেন এক চিকিত্সা কেন্দ্র,নাম স্বাস্থ্য সংকল্প।সেই প্রতিষ্ঠানটিই এখন এই ঘোর করোনা কালে যখন লকডাউনের দাপটে সাধারণ জীবন যাপন স্তব্ধ, তখন গরীব অসহায় মানুষের একমাত্র ভরসার কেন্দ্র হয়ে উঠছে।স্বাস্থ্য সংকল্প ডায়েলেসিস করাচ্ছে মাত্র ৫০ টাকায়।অন্য সময় এই মূল্য থাকে ৩৫০ টাকা,তবে এই সময় যেহেতু গাড়ি ঘোরা পাওয়া যাচ্ছে না,গরীব মানুষকে রাস্তায় বেরুতে দ্বিগুন খরচ করতে হচ্ছে তাই স্বাস্থ্য সংকল্পের সিদ্ধান্ত যতদিন লকডাউন থাকবে ততদিন ৫০ টাকাতেই ডায়েলেসিস করা হবে।লকডাউনের শুরু থেকে ৩০ মে পর্যন্ত মোট ১৬০২৮ জনের ডায়েলেসিস করা হয়েছে বলে জানালেন ডাক্তার ফুয়াদ হালিম।

ফুয়াদ হালিমের এই স্বাস্থ্য সংকল্প চিকিত্সা কেন্দ্রটি ঝাঁ-চকচকে কোন চিকিত্সা প্রতিষ্ঠান নয় বরং নেহাতই অগোছাল সাধারণ পরিকাঠানো দিয়ে চলতে থাকা এক স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্র।এসির কোন ব্যবস্থা নেই,দ্বিতল বিশিষ্ট চিকিত্সা কেন্দ্রে এমনকী লিফট ও নেই।রোগীকে দোতলায় তুলতে বাড়ির লোকজনকেই ব্যবস্থা করতে হবে।ফুয়াদ হালিম জানালেন,এভাবেই এই হাসপাতালকে রাখা হয়েছে যাতে গরীব মানুষেরাই শুধুমাত্র এর পরিষেবা পান বা শুধুমাত্র গরীব মানুষেরাই এখানকার পরিষেবা নিতে আসেন।তাঁর মতে ডায়েলেসিস করার সঙ্গে এয়ার কন্ডিশনড্ মেশিনের কোন সম্পর্ক নেই,আমাদের এখানে সেটা করতে আসবেন তারাই যারা বাড়িতেও এসিতে থাকেন না।বাহ্যিক আড়ম্বরকে বাদ দিয়ে শুধু চিকিত্সা পরিষেবার উপরেই জোর দেওয়া হয় স্বাস্থ্য সংকল্পে,এভাবেই শুধু গরীব মানুষের জন্য স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করা যায়।অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালগুলো যখন স্বাস্থ্য পরিষেবাকে শুধু মাত্র ব্যবসায়িক লাভ লোকশানের অংকে মাপতে ব্যস্ত তখন গরীব ও প্রন্তিক মানুষজনকে শুধুমাত্র সুস্থ করে তুলতে সব আড়ম্বর ছেড়ে শুধুমাত্র চিকিত্সা দিতে অভিনব নতুন কিছু ভাবনাকে আত্মস্থ করতে চায় স্বস্থ্য সংকল্প।সে কথাই বললেন ডাক্তার ফুয়াদ হালিম,তাঁর কথায় যারা অর্থিক দিক থেকে সবল তারা এখানে আসবেন না আমরা সেভাবেই আমাদের চিকিত্সা কেন্দ্রটিকে চালাচ্ছি,আমাদের না বলতে হবে না বরম তারা নিজেরাই চলে যাবেন যখন দেখবেন এসি নেই,লিফট নেই,অত্মীয় পরিজনদের বসার সুসজ্জিত জায়গা নেই।আমরা তো আসলে চিকিত্সা কে আড়ম্বর থেকে মুক্ত করে গরীব ও প্রান্তিক মানুষকে বাঁচিয়ে তোলার পথ হাতরে চলেছি।এখনও পর্যন্ত যা অভিনব ভাবনা পাওয়া গেছে তার চেয়েও কেউ যদি অন্য কোন ভাবনা দিতে পারেন যা দিয়ে আর বেশী সংখ্যক গরীব মানুষকে চিকিত্সা পরিষেবা দেওয়া যাবে তবে তা সাদরে গ্রহণ করতে রাজি ডাক্তার ফুয়াদ হালিম।তিনি ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু যে উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছেন তাতে আর মানুষের যোগদানকে স্বাগতই জানাতে চান তারা।ফুয়াদ হালিমের এই প্রয়াসকে অভিবাদন জানাচ্ছেন তাঁর রাজনৈতিক বিরুদ্ধবাদীরাও।দুবার, একবার বিধানসভা ও একবার লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও ভোটে জিততে পারেন নি ফুয়াদ হালিম কিন্তু গরীব মানুষকে চিকিত্সা পরিষেবা পৌঁছে দিতে তাঁর এই নিরলস প্রয়াসের মধ্য দিয়ে তিনি যে অসংখ্য মানুষের হৃদয় জিতে নিয়েছেন তাতে কোন সন্দেহ নেই।তাঁর প্রতিষ্ঠানের শ্রীবৃদ্ধি হোক,সবাই চাইছে।

ছবি অর্ক ভাদুড়ির পোস্ট থেকে সংগৃহীত