লকডাউনের সুযোগে অাচমকা গৌতম নওলখাকে মুম্বই জেলে স্থানান্তরিত NIA এর

0
93

সাতদিন ডেস্কঃ লকডাউনের মাঝেই মঙ্গলবার অাচমকাই দিল্লি তিহার জেল থেকে  মুম্বই জেলে স্থানান্তরিত করা হল বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী গৌতম নওলখাকে। জানাচ্ছে দ্য হিন্দুর ওয়েবসাইট। মঙ্গলবার তাঁকে মুম্বই এর এনঅাইএ এর বিশেষ অাদালতে তোলা হলে বিচারক নওলখাকে ২২জুন অবধি  জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে বলে জানাচ্ছে দ্য ইন্ডিয়ান এ্ক্সপ্রেস।

 বুধবার দিল্লির অাদালতে গৌতম নওলখার জামিনের অাবেদনের শুনানি হওয়ার কথা। ঠিক তার অাগে এনঅাইএ তরফে এই কাজ। কোভিডের ভরকেন্দ্র মুম্বইতে গৌতম নওলখাকে স্থানান্তিরত করার অাগে তাঁর পরিবার বা অাইনজীবী কাউকে জানান হয়নি বলে দাবি করেছেন বিশিষ্ট ওই মানবাধিকার কর্মীর ঘনিষ্ঠরা। তাঁদের অাশঙ্কা যে কোন মুহূর্তে কোরনা সংক্রমণের শিকার হতে পারেন গৌতম।

এর অাগে গত ১৪ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে NIA এর কাছে অাত্মসমপর্ণ করেন অধ্যাপক, মানবাধিকার কর্মী অানন্দ তেলতুম্বদে ও EPW  পত্রিকার প্রাক্তন সম্পাদক তথা মানবাধিকার কর্মী    গৌতম নওলখা । এর পরই তাদের গ্রেফতার করে NIA।

২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর ভিমা করেগাঁওতে এলগার পরিষদ সভার প্রেক্ষিতে হওয়া হিংসার জেরে কুখ্যাত UAPA অাইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের রক্ষাকবচে ১৪ মার্চ অবধি মুক্ত ছিলেন গৌতম নওলখা ও অানন্দ তেলতুম্বদে। গ্রেফতারের অাগে অানন্দ এক খোলা চিঠিতে  দেশের নাগরিকদেরকাছে অাহ্বান করেছিলেন তাঁর বিরুদ্ধে করা  মিথ্যে অভিযোগের  বিরুদ্ধে সরব হতে। অানন্দ বলেছেন এক সাজান মিথ্যে মামলায় তাঁকে ফাঁসিয়ে কারারুদ্ধ করা হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে  RSS এক পরিকল্পিত  অাক্রমণ চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই চিঠিতে। অানন্দ বলেছেন রাষ্ট্রের প্রচারের সঙ্গে তিনি পেরে ওঠেননি।কুখ্যাত UAPA অাইনে গ্রেফতার হওয়ায় তাঁকে হয়তো ৪ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত জেলে থাকতে হতে পারে। তাঁর কাছে সময় নেই, তাই সময় থাকতে এর বিরুদ্ধে নাগরিকদের সরব হতে বলেছেন তিনি।

২০১৭  সালের ৩১ ডিসেম্বর ভিমা করেগাঁওতে এলগার পরিষদের এক সভা হয়। পরের দিন হওয়া হিংসার জেরে  তার ৬ মাস পর থেকে  ২ দফায়  সুধা ভরদ্বাজ, ভারভারা রাও, সহ দেশের ৮জন বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ও ১ অাইনজীবীকে ২ দফায় গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ করা হয় এরা প্রধানমন্ত্রী মোদিকে হত্যার ষড়যন্ত্র ও মাওবাদীদের সঙ্গে যুক্ত।এর পর গ্রেফতার করা হয় গৌতম নওলখা ও অানন্দ তেলতুম্বদেকে। অার লকডাউনের মাঝেই জামিনের শুনানির অাগেই মুম্বই জেলে স্থানান্তরিত করা হল গৌতম নওলখাকে। লকডাউনের সুযোগে একের পর এক সিএএ এনঅারসি বিরোধী অান্দোলনের সঙ্গে যুক্তদের গ্রেফতার করছে দিল্লি পুলিস। অনেকেই বলছেন এক পরিকল্পনার অঙ্গ হিসাবে কেন্দ্রের সরকার প্রকৃত বিরোধীদের কন্ঠরোধ করতে চাইছে।লকডাউনকে ব্যবহার করে তাই একের পর এক গ্রেফতার ও একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছে সরকার।

ফিরে দেখা ২৮ অগস্ট ২০১৮ সাতদিনডটইনে প্রকাশিতঃ

ভোররাতে ফের কড়া নাড়া। দেশজুড়ে মানবাধিকার কর্মী ও তাদের বাড়িতে পুলিসের হানা। গ্রেফতার ছত্তিশড়ের ট্রেড ইউনিয়ন কর্মী, অাইনজীবী সুধা ভরদ্বাজ। সুধাকে গ্রেফতার করা হয় ফরিদাবাদ থেকে। ভারভারা রাওকে পুলিস গ্রেফতার করেছে হায়দরাবাদ থেকে। মুম্বইয়ের অরুণ ফেরেরা ও ভেরনন গনসালভেসকেও গ্রেফতার করেছে পুণের পুলিস। বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী গৌতম নাভলেখার বাড়িতেও হানা দেয় পুণে পুলিসের দল। পুলিস হানা দিয়েছে ঝাড়খণ্ডের মানবাধিকার কর্মীর বাড়িতেও। পুলিসের অভিযোগ ভিমা করেগাঁও হিংসার সঙ্গে জড়িত এরা। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ সালে মারাঠা পেশওয়াদের বিরুদ্ধে দলিতদের বিজয় ২০০ বছর পূর্তিতে ভিমা করেগাঁতে এক অনুষ্ঠানের অায়োজনকে কেন্দ্র করে হিংসা ছড়ায়। তার জেরে ২০১৮ সালের ৬ জুন নাগপুর ও দিল্লি থেকে  সুধীর ধাওয়ালে, সুরেন্দ্র গাডলিং, মহেশ রাউত, সোমা সেন ও রোনা উইলসনকে গ্রেফতার করে পুণের পুলিস। সেই সময় একটি চিঠি অাবিষ্কার করে পুলিস যেখানে বলা হয় নরেন্দ্র মোদিকে হত্যার পরিকল্পনা করছে মাওবাদীরা। অার সেই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এই গ্রেফতারের ঘটনাকে  ফ্যাসিবাদী হামলা বলে জানিয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরা।