জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিপূরণ দিতে হলে লকডাউনে নয় কেন প্রশ্ন সিপিএম নেতার

0
55

সাতদিন ডেস্কঃ-গোটা দেশ জুড়ে করোনা আবহের মধ্যে কেন্দ্রের বিজেপি ও রাজ্যের তৃণমূল সরকার মানুষকে ক্রমাগত ধাপ্পা দিয়ে চলেছে বলে অভিযোগ তুললো রাজ্যের সিপিএম ও কংগ্রেস নেতৃত্ব। লকডাউনের ফলে যে অসংখ্য মানুষ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তা পুষিয়ে দেবার পরিবর্তে মানুষকে ভাঁওতা দিয়ে ভোলানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করে রাজ্যের সিপিএম ও কংগ্রেস নেতারা একযোগে দাবি তুলতে শুরু করেছেন অপরিকল্পিত লকডাউনের ফলে আর্থিক ক্ষতি হওয়া সমস্ত মানুষের  দায়িত্ব কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকেই নিতে হবে। সিপিএম নেতা ও বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন সাধারণ ভাবে আমরা এটা দেখতে অভ্যস্ত যে সরকার যদি কোন জমি অধিগ্রহন করতে চায় তবে তার জন্য সরকারকে জমির মালিককে ক্ষতিপুরণ দিতে হয়,এক্ষেত্রে সরকার কোন পরিকল্পনা না করেই একতরফা লকডাউন ঘোষণা করায় যেসব মানুষ চরম আর্থিক দুরবস্থার মধ্যে পড়েছেন তাদের দায়িত্বও সরকারকে নিতে হবে।বিকাশবাবুর মতে জনকল্যানকারী রাষ্ট্র এক্ষেত্রে কোনভাবেই তার দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না।যেভাবে কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিমকোর্টে বেসরকারি সংস্থার কর্তৃপক্ষকে ছাঁটাই ও কর্মীদের মাইনে না দেওয়া নিয়ে ছাড় দেওয়ার ঘোষণা করেছে তাকে তীব্র ধিক্কার জানিয়ে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন,প্রথমে সবাইকে কাজে রাখতে হবে মাইনে দিতে হবে বলেও এখন পিছু হটে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার নিজের মুখোশ নিজেই খুলে ফেলেছে এবং প্রমাণ করে দিয়েছে মানুষকে ভাওতা দেওয়া ছাড়া তাদের আর কিছুই দেওয়ার নেই।বিজেপির এই দ্বিচারী ভূমিকার বিরুদ্ধে মানুষকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান করেন সিপিএম নেতা একই সঙ্গে এ রাজ্যের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধেও মানুষকে ভাঁওতা দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি।রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিকাশবাবু বলেন রেশন থেকে শুরু করে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ দেওয়া সবকিছুতেই এ রাজ্যের সরকার মানুষকে বোকা বানাচ্ছে।মানুষকে সংগঠিত করে এখনই এর বিরুদ্ধে রাস্তায় নামতে না পারলে দুর্ভোগ আর বাড়বে বলেই আশঙ্কা এই সিপিএম নেতার।একই রকম চড়া সুর সিপিএমের সুজন চক্রবর্তীরও,তাঁর মতে বিজেপি যে ঢঙে গোটা দেশে ভাঁওতা দিয়ে যাচ্ছে সেই একই কায়দায় এ রাজ্যে তৃণমূলও ভাঁওতাবাজি করে চলেছে।দিদি মুখে বলছে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য তাঁর দরদের কথা আর কাজে ট্রেন ঢুকতে না দেওয়া,শ্রমিকদের টয়লেটে থাকতে দিয়ে প্রমাণ করে দিচ্ছেন তাঁর ভন্ডামি।করোনার এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও যে ভাবে বাম সরকারি কর্মচারী  সংগঠনের নেতাদের বদলির মেয়াদ বাড়াতে বিজ্ঞপ্তি জারি করছেন তাতে তাঁর মুখ ও মুখোশের ফারাকটা পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে।সুজন চক্রবর্তীর কথায় তারা অচিরেই বিজেপি ও তৃণমূলের এই ভাঁওতাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামবেন।

বিজেপি ও তৃণমূলের দ্বিচারিতার বিরুদ্ধে পথে নামার কথা জানাচ্ছে কংগ্রেসও।প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র জানালেন,লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দায় কেন্দ্র ও রাজ্যকেই নিতে হবে কোন ভাবেই সে দায় তারা এড়িয়ে যেতে পারে না।নানা মিথ্যে প্যাকেজের কারসাজি করে বিজেপি মানুষকে বোকা বানাচ্ছে রাজ্যেও মুখ্যমন্ত্রী নানাভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাইছেন কংগ্রেস তার বিরোধিতা করে পথে নামবে।সোমেন মিত্রের মতে এ রাজ্যে তাঁদের ক্ষমতা সীমিত হলেও মানুষকে প্রতারণার শিকার না হতে তারা সচেতন করবেন।সিপিএমের সঙ্গে একযোগে পথে নামবেন কি না জিজ্ঞাসা করায় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির স্পষ্ট জবাব,তেমনটা হতেই পারে,লক্ষ্য যখন এক তখন যৌথ আন্দোলনে কারোর ই আপত্তি থাকার কথা নয়।