বিরোধী কর্মচারী ইউনিয়নের নেতাদের উত্তরবঙ্গেই রেখে দেওয়ার সরকারি নির্দেশ কি প্রতিহিংসার কারণে?

0
226

সাতদিন ডেস্কঃ-গোটা দেশে করোনা প্রকোপের মধ্যে যখন বার বার পরিযায়ী কর্মীদের ঘরে ফিরিয়ে আনা নিয়ে সর্বস্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে,যখন খোদ নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলছেন তারাও পরিযায়ী কর্মীদের ঘরে ফিরিয়ে আনা বিষয়ে মানবিক দৃষ্টিকোণ নিয়েই বিবেচনা করতে চান ঠিক তখনই রাজ্যের মুখ্য সচিবালয় নবান্ন থেকে আচমকা উত্তরবঙ্গে বদলি হয়ে যাওয়া কিছু সরকারি কর্মীকে আবারও আর ছমাসের জন্য উত্তরবঙ্গেই রেখে দিতে নতুন করে নির্দেশ দারি করল নবান্ন।এই সময়ে নবান্নের এই নির্দেশিকা নিয়ে আবারও সমালোচনায় সুর চড়িয়েছে রাজ্যের সরকার বিরোধী কর্মচারী সংগঠনের নেতারা।এঁদের অভিযোগ সরকার একেবারে বেছে বেছে নবান্ন থেকে বিরোধী কর্মচারী সংগঠনের নেতাদের ‘গণ- বদলি’করেছিল,সেটা ছিল সরকারের প্রতিহিংসার প্রকাশ।সেই প্রতিহাংসা স্পৃহা যে এখনও কমেনি তা বোঝা যাচ্ছে এই করোনা আবহের মধ্যেও আবার নতুন করে বিরোধী কর্মচারী সংগঠনের নেতাদের বদলি বহাল রাখার এই নির্দেশিকা থেকে।প্রসঙ্গতঃ গত এক বছর ধরে রাজ্যের মুখ্য সচিবালয়ের কর্মীদের বিভিন্ন জেলার ব্লক অফিসে বদলি করা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়েছে।সরকার বিরোধী কর্মচারী সংগঠনগুলি বার বার অভিযোগ তুলেছে সরকারের বিরুদ্ধে কর্মীদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া নিয়ে সরব হওয়াতেই তাদের উপর বদলির খাঁড়া নেমে এসেছে।এমনকী কর্মচারী সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে বার বার বলা হয়েছে সচিবালয়ের কর্মীদের ব্লক অফিসে বদলি করে সরকার নিজের কাজের গতিকে কমিয়ে ফেলছে,কর্মীদের কার্যত কোন কাজ না করিয়ে বসিয়ে রেখে সরকারি কাজের ক্ষতি করছে।তবু সরকার এ বিষয়ে কোন কর্ণপাত করেনি বলে অভিযোগ।কো অর্ডিনেশন কমিটি,স্টিয়ারিং কমিটি সহ রাজ্যের একাধিক সরকারি কর্মচারী সংগঠনের পক্ষ থেকে বার বার সরকারকে বলা হয়েছে সচিবালয়ের কর্মীদের ফিরিয়ে আনতে,তা গ্রাহ্য করা হয় নি তো বটেই,উল্টে এ মাসেরই এক তারিখে নবান্ন এক নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছে কো-অর্ডিনেশনের সাধারণ সম্পাদক বিজয়শঙ্কর সিনহা ও স্টিয়ারিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক সংকেত চক্রবর্তী সহ আর কয়েকজন সরকার বিরোধী কর্মচারী সংগঠনের নেতাকে আগামী ছমাস উত্তরবঙ্গেই কাজ করতে হবে।

২০১৮ সালে  বাম সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলি বিভিন্ন দাবি নিয়ে নবান্নের মধ্যেই স্লোগান ও বিক্ষোভ দেখায়,অভিযোগ তারপর থেকেই সেখান থেকে সংগঠনের নেতাদের একের পর এক বদলি করা শুরু হয়।সরকারি মহলের অভিমত ছিল নবান্ন বিক্ষোভ-মিছিলের জায়গা নয়,অফিস চলাকালীন সময়ে বিক্ষোভ আইন বিরুদ্ধ বলেও সরকারি অভিমত জানানো হয়েছিল।তবে বিক্ষোভকারী কর্মচারী সংগঠনগুলি তখন দাবি করেছিল তারা টিফিন টাইমে বিক্ষোভ দেখিয়ে কোন আইন ভাঙে নি,বরং তারা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারই প্রয়োগ করেছেন।সরকারের এই নতুন নির্দেশিকা নিয়ে স্টিয়ারিং কমিটির যুগ্ম সম্পাদক পার্থপ্রতীম দে জানিয়েছেন,”আমরা সরকারের কাছে বার বার আবেদন করেছি শুধু আমাদের সংগঠনের নেতা সংকেত চক্রবর্তী বা কো অর্ডিনেশনের নেতা বিজয়শঙ্কর সিনহাকেই নয় নবান্ন থেকে বদলি হয়ে যাওয়া সবাইকেই ফিরিয়ে আনা নিয়ে সরকার ভাবুক,এই কঠিন সময়ে যখন সবাইকে তাড়া করছে করোনা নামক এক অজানা ভাইরাসের আতঙ্ক তখন সরকারের উচিত মানবিকতার নিরিখে গোটা বিষয়টা বিবেচনা করা।কিন্তু মানবিকতা কোথায় সরকার এখনও প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই যে ব্যস্ত তার প্রমাণ দিচ্ছে এই নতুন নির্দেশিকা।”সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী সরকারের এই নির্দেশিকাকে চরম প্রতিহিংসার প্রতিফলন বলে বর্ণনা করে বলেন,প্রতিদিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নিজেই নিজেকে খুব মানবিক বলে দাবি করেন আর প্রতিদিনই তিনি যে কতটা স্বৈরাচারী ও মানবিকতা ও বিবেকশূণ্য তার প্রমাণ দেন এই সব নির্দেশ জারি করার মধ্য দিয়ে।যখন মানুষকে ঘরে ফেরাবার জন্য উদ্যোগ নেওয়া উচিত তখন তিনি মানুষের ঘরে ফেরা আটকাতে সরকারি নির্দেশ জারি করতে পিছপা হচ্ছেন না।সব মিলিয়ে এই করোনা আবহের মধ্যেই আবারও সরকারি কর্মচারীদের প্রতিবাদ যে চড়বে তা বেশ বোঝা যাচ্ছে।

ছবি প্রতিনিধিত্বমূলক