রাজ্য করোনা চিকিত্সায় বেসরকারি হাসপাতালগুলির বেলাগাম চার্জে ক্যাপিং জরুরি

0
31

সাতদিন ডেস্কঃএরাজ্যে করোনা চিকিত্সার নামে বেসরকারি হাসপাতালগুলির লুট ও রোগী প্রত্যাহারের মত ঘটনা সামনে অাসার পর নড়েচড়ে বসল রাজ্য সরকার।শুক্রবার নবান্নে এত সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন এখন থেকে করোনার টেস্টের জন্য বেসরকারি সংস্থাগুলি ২২৫০টাকা চার্জ করতে পারবে। ইনডোর চিকিত্সার জন্য পিপিই বাবদ প্রতিদিন ১০০০ টাকা চার্জ নিতে পারবে বেসরকারি হাসপাতালগুলি। প্রতিদিন ইনডোরে চিকিত্সকের ফি বাবদ ১০০০ টাকা চার্জ করতে পারবে বেসরকারি হাসপাতালগুলি। এখন বেসরকারি ল্যাবগুলি যে যাপাচ্ছে তাই চার্জ করছে। কেউ নিচ্ছে ২৮০০ টাকা কেউ বা ৪৫০০ টাকা।তবে মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের ঘোষণার অাগেই বেশ কয়েকটি বেসরকারি ল্যাব RTPCR টেস্টের দাম ২২৫০ টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সূত্রের খবর। তবে এখনও হাসপাতালগুলি করোনা চিকিত্সায় রোগীর পরিবারকে বিল ধরাচ্ছে কয়েক লক্ষ টাকা।

দেরিতে হলেও রাজ্য সরকার কিছুটা তত্পর হলেও করোনা চিকিত্সার নামে বেসরকারি হাসপাতলগুলির বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ টাকার বিল করার অভিযোগ উঠলেও এখনও পর্যন্ত বেসরকারি হাসপাতালে করোনা চিকিত্সার চার্জে কোন ক্যাপিং এর সিদ্ধান্ত নেই নি রাজ্য সরকার। অথচ এর অাগে মহারাষ্ট্র ও দিল্লি সহ একাধিক রাজ্য করোনা চিকিত্সায় বেসরকারি হাসপাতালের চার্জ নির্দিষ্ট করে দিয়েছে।  মহারাষ্ট্র সরকার তো অাবার ৩১ অগস্ট পর্যন্ত সে রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতালের ৮০ শতাংশ শয্যার নিয়ন্ত্রণ  নিয়েছে। বাকি ২০ শতাংশ বেডের দাম হাসপাতাল ঠিক করতে পারবে।এর মাধ্যমে ৮০ শতাংশ  বেডের ব্যবহার ও চার্জ নিয়ন্ত্রণ করবে রাজ্য সরকার।   অাইসোলেশন বেডের জন্য সর্বোচ্চ ৪ হাজার টাকা, icuএ বেডের জন্য ৭৫০০ টাকা ও ভেন্টিলেটর সহ বেডের জন্য সর্বোচ্চ ৯ হাজার টাকা নিতে পারবে বেসরকারি  হাসপাতালগুলি। দিল্লি সরকারও করোনা চিকিত্সায় দাম বেঁধে দিয়েছে। দিল্লিতে বেসরকারি হাসপাতালের ৬০ শতাংশ  বেডে করোনা চিকিত্সার জন্য দাম নির্দিষ্ট করা হয়েছে। অাইসোলেশন বেডের জন্য ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। ICU বেডের জন্য ১৫ হাজার টাকা ও ভেন্টিলেটর সহ অাইসিইউ বেডে সর্বোচ্চ দিনে ১৮ হাজার টাকা ।

অনেকে দেরিতে হলেও এরাজ্যে বেসরকারি হাসাপাতালগুলি মর্জিমাফিক চার্জ নেওয়ার বিরুদ্ধে কিছুটা হলেও পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। তবে ক্যাপিং না করলে নানা অজুহাতে  এই সব করপোরেট হাসপাতালগুলি বিল বাড়াবে বলে অাশঙ্কা  থেকেই যাচ্ছে। অবিলম্বে করোনা চিকিত্সায় বেসরকারি হাসপাতালগুলির উপর কড়া নিয়ন্ত্রণ জরুরি। জরুরি ক্যাপিংএরও।