অমিতাভ বচ্চন প্রচার ও সুচিকিত্সা পাবেন, ভারভারা রাওরা কেন পান না?

0
69

সাতদিন ডেস্কঃ এই মূহুর্তে আসমুদ্র-হিমাচলের সকল মানুষ জেনে ফেলেছেন অমিতাভ বচ্চন, তাঁর ছেলে অভিষেক ,পুত্রবধূ ঐশ্বর্য ও নাতনি অারাধ্যা কোভিট পজিটিভ। অমিতাভা ও অভিষেককে চিকিত্সার জন্য ভর্তি করান হয়েছে এক নামী হাসপাতালে।দেশের নেতারাও তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।করারই কথা অমিতাভ অত্যন্ত জনপ্রিয় এক স্টার এবং গুণি শিল্পীও তাই তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে সরকার সচেতন হবে উদ্বিগ্ন হবে সেটা স্বাভাবিক। তবে আমাদের প্রশ্ন গুণিমানুষদের স্বাস্থ্য বিষয়ে যত্নশীল হওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি এমন একপেশে হয় কীভাবে?অমিতাভ বচ্চনের স্বাস্থ্য নিয়ে যারা এতটা উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা কোন যুক্তিতে ভারভারা রাওয়ের মত এক স্বনামধন্য কবি ও বুদ্ধিজীবীকে  দিনের পর দিন বিনা চিকিত্সায় কারাগারের অন্তরালে বন্দি রাখতে পারেন?কেউ কেউ বলতেই পারেন আমাদের এই প্রশ্নগুলোই অযৌক্তিক, যারা এ দেশের সরকারের চরিত্র জানেন তারা এ প্রশ্ন করবেন না।বিষয়টা আমাদেরও জানা আছে তবু প্রশ্নটা করে রাখলাম সরকারের চুড়ান্ত দ্বিচারিতাকে চিহ্নিত করতে।

আমরা জানি অভিতাভ বচ্চন যত গুনি শিল্পী হোন না কেন তিনি কখোনই সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনার অনিয়ম,সাধারণ মানুষের প্রতি বঞ্চনা অত্যাচার নিয়ে সরব হওয়ার সাহস দেখান নি।ভারভারা রাও সেটা দেখিয়েছেন।ভারভারা রাওরা শুধু নিজেদেরটা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন নি,সামাজিক সাম্যের পক্ষে আওয়াজ তুলেছেন বার বার।বার বার নানা সামাজিক আন্দোলনে সামিল হয়ে দলিত-পীড়িত মানুষের কন্ঠ হয়ে উঠেছেন।অভিতাভ বচ্চনরা যেখানে শুধু ব্যক্তিগত সুখ আর সমৃদ্ধির মধ্যেই নিজেদের বদ্ধ রেখেছেন,ভারভারা রাওরা সেখানে সামাজিক সমৃদ্ধির পথ খুঁজে গেছেন।সেই খোঁজের পদ্ধতির সঙ্গে কেউ মত পার্থক্য পোষণ করতেই পারেন কিন্তু তার পরেও সবাইকে মানতে হবে সেই খোঁজের তাগিদের মধ্যে ছিল অনেক আত্মত্যাগ,তুমি-আমি আর আমাদের সন্তানের ক্ষুদ্র পৃথিবী অতিক্রমের দুর্মর আকাঙ্খা।সেই আকাঙ্খাকে ভয় পায় আমাদের সরকার,সরকার চায় মানুষ তার বঞ্চনা-তার অধিকার কেড়ে নেওয়া নিয়ে চুপ থাকুক।নিজেদের অভাব অনটন মেনে নিক ভবিতব্য বলে।এখানেই ভারভার রাওরা সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলেন মানুষকে ‘আপন ভাগ্য জয় করার’প্ররণা দিতে এগিয়ে যান।তাই সরকার তাদের মত মানুষকে সহ্য করতে পারে না।সেই জন্যই তো এই ভয়াবহ করোনা আবহের মধ্যেও ভারভারা রাওয়ের মত আশি বছর বয়স অতিক্রান্ত এক বৃদ্ধকে দিনের পর দিন জেলবন্দি থাকতে হয়।তাঁর স্বাস্থ্য ভাঙতে থাকলে,সমাজের বিশিষ্টজন বার বার তাঁর সুচিত্সার দাবি করলেও সরকার নির্মম উদাসীনতায় তা অগ্রাহ্য করে চলে।শেষ খবর, এই প্রবীন কবি ক্রমশ স্মৃতি-শক্তি হারাচ্ছেন,তাঁর স্বাস্থ্য একেবারে ভেঙে পড়েছে-হাঁটতে পারছেন না।যে কোন মূহুর্তে চরম কিছু ঘটতে পারে।সরকার হয়তো সেটাই চাইছে।এই ব্যবস্থাপনা পছন্দ করে হাঁ-হাঁ বলা সঙদের,ভারভারা রাও যারা বেসুরো বাজেন তারা যত তাড়াতাড়ি দুনিয়া থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে ফেলেন সরকার সেই ব্যবস্থাই করেছে।আর আমাদের মিডিয়া অমিতাভ থেকে সমস্ত সেলিব্রিটিদের করোনা সংক্রমণের সালতামামি দিতে ব্যস্ত অথচ এই সময় এক গুনি কবি যে সরকারি প্রতিহিংসায় একটু একটু করে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সে বিষয়ে সব মিডিয়া নীরব। শুধু ভারভারা রাও নন, দেশের বিভিন্ন জেলে বন্দি রয়েছেন বহুমানবাধিকার কর্মী ও রাজনৈতিক কর্মী। অনেকেই কোভিডে অাক্রান্ত।এদের কি জেলের মধ্যে মেরে ফেলার জন্যই এখনও জামিন না দিয়ে বন্দি করে রাখা হয়েছে।?

যা পরিস্থিতি তাতে ভারভারা রাওয়ের বেঁচে থাকা কঠিন তবু যারা এই ভয়াবহ পরিস্থিতি কে মোকাবিলা করার কথা ভাবছেন,যারা মনে করছেন আবার হাতে হাত রেখে প্রতিরোধের ব্যরিকেড গড়ে তুলবেন তারা অন্তত এখনই ভারভারা রাওয়ের এই পরিণতির জন্য সরকারের দিকে আঙুল তুলুন-আওয়াজ তুলুন।বধির সমাজকে জাগান।সোচ্চারে মানুষকে বলুন সরকারের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আওয়াজ না তুলে এখনও যদি অমিতাভ বচ্চনদের নিয়ে মেতে থাকেন তাহলে একদিন আচমকা সরকারি স্বৈরাচার আপনার ঘরের কড়াও নাডা় দিতে দ্বিধা করবে না।

,