মাও তকমা দিয়ে টানা ৬ দিন জেরার পর দিল্লির অধ্যাপক হানি বাবুকে গ্রেফতার NIAএর

0
249

সাতদিন ডেস্কঃ কোরোনা অাবহে  গ্রেফতার অারেক অধ্যাপক। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হানিবাবুকে জেরায় মুম্বই ডেকে এনে গ্রেফতার করল এনঅাইএ। এলগার পরিষদ মামলায় হানিবাবু সহ মোট ১২জনকে গ্রেফতার করা হল।

কোরোনার মধ্যে দিল্লি থেকে জেরার জন্য মুম্বই এ গত ২৩জুলাই হানি বাবুকে ডেকে পাঠায় NIA। টানা ৬ দিন জেরার পর মঙ্গলবার ২৮ জুলাই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। হানি বাবুর স্ত্রী  অধ্যাপিকা জেনি রোয়েনা মিডিয়ার কাছে অভিযোগ করেছেন তাঁর স্বামীকে এনঅাইএ বাধ্য  করাতে চেয়েছিল যাতে অন্য কারো নাম এই মামলায় যুক্ত করে দেওয়া যায়। এনঅাইএ এর দাবি হানির ল্যাপটপে এমনকিছু তথ্য মিলেছে  যা থেকে মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে হানির যোগ স্পষ্ট হয়।

দলিতদের অধিকারে সরব হানি বাবুকে দীর্ঘদিন ধরেই  গেরুয়া শিবিরের টার্গেট।  জেলবন্দি সাজাপ্রাপ্ত ৯০ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধী অধ্যাপক সাইবার মুক্তির দাবিতেও সরব হয়েছিলেন হানি। অার তাতেই হয়তো মাও তকমা এটেঁ দেওয়া সহজ হয়েছে।

এলগার পরিষদ মামলা পুণে পুলিসের থেকে NIA এর হাতে যাওয়ার পর গ্রেফতার হন অানন্দ তেলতুম্বদে ও গৌতম নওলখা। এবার হলেন হানি বাবু। তালিকায় নাম রয়েছে অারো কয়েকজনের। ইতিমধ্যেই তাদের কয়েকজনের জেরা চলছে বলে দ্য ওয়ার জানাচ্ছে। ইতিমধ্যেই হানির মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছে বহু সংগঠন।  সিপিঅাই ও সিপিএমের ছাত্র সংগঠনও হানির মুক্তির দাবি জানিয়েছে। মুক্তির দাবি করা হয়েছে ভিমা করেগাঁও মামলায় অভিযুক্ত অন্য ১১জনেরও।

২০১৭  সালের ৩১ ডিসেম্বর ভিমা করেগাঁওতে এলগার পরিষদের এক সভা হয়। পরের দিন হওয়া হিংসার জেরে  তার ৬ মাস পর থেকে  ২ দফায়  সুধা ভরদ্বাজ, ভারভারা রাও, সহ দেশের ৮জন বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ও ১ অাইনজীবীকে ২ দফায় গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ করা হয় এরা প্রধানমন্ত্রী মোদিকে হত্যার ষড়যন্ত্র ও মাওবাদীদের সঙ্গে যুক্ত।এর পর গ্রেফতার করা হয় গৌতম নওলখা ও অানন্দ তেলতুম্বদেকে। অার লকডাউনের মাঝেই জামিনের শুনানির অাগেই মুম্বই জেলে স্থানান্তরিত করা হয় গৌতম নওলখাকে। লকডাউনের সুযোগে একের পর এক সিএএ এনঅারসি বিরোধী অান্দোলনের সঙ্গে যুক্তদের গ্রেফতার করছে দিল্লি পুলিস।করোনার অাবহকে ব্যবহার করে একের পর একে বুদ্ধিজীবী ও সমাজকর্মীকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এটা ফ্যাসিবাদ না হলে অার কী? বলছেন অনেকেই।

ফিরে দেখা ২৮ অগস্ট ২০১৮ সাতদিনডটইনে প্রকাশিতঃ

ভোররাতে ফের কড়া নাড়া। দেশজুড়ে মানবাধিকার কর্মী ও তাদের বাড়িতে পুলিসের হানা। গ্রেফতার ছত্তিশড়ের ট্রেড ইউনিয়ন কর্মী, অাইনজীবী সুধা ভরদ্বাজ। সুধাকে গ্রেফতার করা হয় ফরিদাবাদ থেকে। ভারভারা রাওকে পুলিস গ্রেফতার করেছে হায়দরাবাদ থেকে। মুম্বইয়ের অরুণ ফেরেরা ও ভেরনন গনসালভেসকেও গ্রেফতার করেছে পুণের পুলিস। বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী গৌতম নাভলেখার বাড়িতেও হানা দেয় পুণে পুলিসের দল। পুলিস হানা দিয়েছে ঝাড়খণ্ডের মানবাধিকার কর্মীর বাড়িতেও। পুলিসের অভিযোগ ভিমা করেগাঁও হিংসার সঙ্গে জড়িত এরা। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ সালে মারাঠা পেশওয়াদের বিরুদ্ধে দলিতদের বিজয় ২০০ বছর পূর্তিতে ভিমা করেগাঁতে এক অনুষ্ঠানের অায়োজনকে কেন্দ্র করে হিংসা ছড়ায়। তার জেরে ২০১৮ সালের ৬ জুন নাগপুর ও দিল্লি থেকে  সুধীর ধাওয়ালে, সুরেন্দ্র গাডলিং, মহেশ রাউত, সোমা সেন ও রোনা উইলসনকে গ্রেফতার করে পুণের পুলিস। সেই সময় একটি চিঠি অাবিষ্কার করে পুলিস যেখানে বলা হয় নরেন্দ্র মোদিকে হত্যার পরিকল্পনা করছে মাওবাদীরা। অার সেই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এই গ্রেফতারের ঘটনাকে  ফ্যাসিবাদী হামলা বলে জানিয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

:ছবি দ্য ওয়ারের সৌজন্যে