শুধু মৃতদেহ পড়ে নেই,বেঅাব্রু হয়ে পড়েছে বেহাল স্বাস্থ্য পরিকাঠামো

0
137

সাতদিন ডেস্কঃ বেডের অভাবে একের পর এক হাসপাতাল ঠেলা খাওয়ার ছবি এখন রোজকার । করোনাকালে  এবার নতুন সংযোজন সত্কারের অভাবে বাড়িতে পচতে থাকা করোনায় মৃতের দেহ  । খাস কলকাতায় গত ২৪ ঘন্টায় ৩টে ঘটনা মিডিয়ার দৌলতে অামরা জানতে পেরেছি। সংখ্যাটা রোজই বাড়বে। অথচ সরকারের তরফে বলা হচ্ছে মৃদু ও উপসর্গহীন রোগীরা বাড়ি থেকেই চিকিত্সা করুন। প্রশ্ন উঠছে তা হলে তদারকি কউ?

একজন করোনা পজি‌টিভিরে তথ্য যথন রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের কাছে থাকছে তাহলে সেই রোগীর ভর্তি বা চিকিত্সার বিষয় স্বাস্থ্য দফতর কেন  সক্রিয় হচ্ছে না ? কেন রোগী বা হাসপাতালের বেড সম্পর্কীয় তথ্য অাপলোডের ক্ষেত্রে বিলম্ব হচ্ছে? কেন অভিযোগ উঠছে হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করলে হয় ফোন ধরা হচ্ছে না? অথবা ফোন ধরলে  রেফার করে দেওয়া হয়। একজন রোগী পজিটিভ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি স্বাস্থ্য দফতরের তরফে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হত তাহলে কী করে মারা যাওয়ার ১৫ -১৬ ঘন্টা পরও বাড়িতেই পরে থাকে মৃতদেহ?

সরকার একদিকে করোনা নিয়ে প্যানিক না করার কথা বলছে অথচ করোনার মৃতদেহ সত্কারের বিষয় অবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করেন বিজ্ঞানিদের অনেকেই। কোন করোনা অাক্রান্তের মৃতদেহে ( ৪ ঘন্টা পরও) কি করোনা ভাইরাস জীবিত থাকতে পারে? দেহ থেকে লালারস নিঃসরণ না হলে কেন মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে না?

একথা সত্যি করোনায় মৃত্যুর হার অত্যন্ত কম। কিন্তু সংক্রমণের হার অত্যধিক। তাই মানুষ ভয় পাচ্ছেন। এই ভয়কে বিজ্ঞানকে ভিত্তি করে দূর করার কোন চেষ্টা সরকার করছে না। অার তাই করোনা অাক্রান্তের বাড়িতে প্রতিবেশী চড়াও হচ্ছেন। এলাকা ছাড়া করছেন।  পরিয়ায়ী শ্রমিককে জলের মধ্যে তাবু খাটিয়ে গ্রামের বাইরে থাকতে হচ্ছ। অার  লকডাউনকে করোনার দাওয়াই হিসাবে চালানোর চেষ্টা চলছে। যে প্রশাসন যথাসময় মৃতদের সুষ্ঠু সত্কার করতে  পারে না তাদের থেকে  বেশি কিছু প্রত্যাশা করা বোধ হয় যায় না। দেশ তথা রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল পরিকাঠামোটা করোনায় বেঅাব্রু হয়ে পড়েছে। তা নাহলে একজন ক্যানসার রোগীর সিটি স্ক্যানের জন্য সরকারি হাসপাতালে ১ মাস অপেক্ষা করতে হয় কেন? কেন অন্য রোগে অাক্রান্তরা চিকিত্সা পাচ্ছেন না?

ছবি প্রতিনিধিত্বমূলক