সাংবাদিক নিগ্রহের ধারাবাহিকতা আর কতদিন?

0
136

সম্পাদকীয়ঃ-সফিকুল ইসলাম,নামটা রাজ্যের সাংবাদিকতায় বহুুল পরিচিত বলা যাবে না।এমনকী রাজ্যের কোন বড় মিডিয়া হাউসে সফিকুল কাজ করেছেন তেমনটাও নয়।সফিকুল ইসলাম একটি ইউটিউব টিভি দ্বারা আরামবাগ কেন্দ্রীক সংবাদ প্রচার করতেন।সম্প্রতি রাজ্যের শাসক দলের নানা দুরাচারের খবর সেখানে সম্প্রচারিত হওয়ায়ায় তিনি শাসক দলের রোষানলে পড়েন বলে মনে করা হচ্ছে ।এই লকডাউন চলাকালীন অবস্থাতেই আরামবাগের স্থানীয় ক্লাবগুলোকে অর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে বলে খবর হয় আরামবাগ টিভিতে আর তার পরই স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন সফিকুলকে হেনস্থা করতে শুরু করে বলে অভিযোগ।এর আগে তাকে গ্রেপ্তার করা যাবে না বলে কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশও দিয়েছিল।কিন্তু তারপরেও দিনকয়েক আগে সফিকুলকে অন্য একটি অভিযোগে পুলিশ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়।অভিযোগ রাতের অন্ধকারে বাড়ির দরজা ভেঙে পুলিশ সফিকুলের বাড়িতে ঢোকে।সফিকুলের ছোট্ট ছেলে ও মেয়েকেও পুলিশ থানায় নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে কোনভাবেই তাকে সাংবাদিকতার কারণে ধরা হয় নি,তার বিরুদ্ধে অন্য অভিযোগ আছে,তাই যা করা হয়েছে সব আইন মেনেই করা হয়েছে।

আমাদের প্রশ্ন ঘটনার যে ধারাবাহিকতা তাতে সফিকুলেরর উপর পুলিশি আক্রোশের হেতু শাসক দলের অপছন্দের খবর প্রকাশ করা ছাড়া অন্য কিছু মনে করা সম্ভব কি?আরামবাগের স্থানীয় ক্লাবকে লকডাউন পর্বেই সরকারি অনুদান দেওয়ার বিষয়টা তো ইতিমধ্যেই সত্য বলে প্রমাণিত হয়ে গেছে।কীভাবে এই আর্থিক দুরাবস্থার মধ্যেও তা হতে পারল,কাদের মদতে হল?তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা কেন হল না?এ সব প্রশ্নের কোন উত্তর নেই অথচ সেই খবর যিনি সামনে নিয়ে এলেন তার বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসন সক্রিয় হয়ে উঠল,শাসক ও পুলিশের আক্রোশ নিয়ে সন্দেহ তাই হতেই থাকে।আবার কাউকে গ্রেপ্তার করতে রাতের অন্ধকারে যেতে হবে কেন?সফিকুলকে গ্রেপ্তারের যে ছবি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সামনে এসেছে তা যদি সত্যি হয় তবে তা তো ভয়াবহ।দেখা যাচ্ছে রাতের অন্ধকারে পুলিশ ও সাদা পোষাকের কিছু মানুষজন তার বাড়িতে ঢুকছে পাঁচিল টপকে,তারপর শাবল দিয়ে দরজা ভাঙছে।এভাবে তো চোর-ডাকাতের দল অন্যের বাড়ি ঢোকে বলে আমরা জানতাম,পুলিশ কেন এভাবে ঢুকবে?প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ছবি মিথ্যে বলে এখনও দাবি করা হয় নি তাই আমাদের আশঙ্কা থাকছেই।একটা ছোট সংবাদ মাধ্যমকেও কেন এতটা ভয় পাচ্ছে রাজ্যের শাসক দল?সফিকুল অন্য কোন অপরাধ করে থাকলে প্রশাসন উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিক,কিংবা ভুল খবর করে থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে পারে প্রশাসন,কারোর কোন আপত্তি থাকবে না তাতে কিন্তু যেভাবে এক্ষেত্রে গোটা ঘটনাটা ঘটছে তাতে প্রশাসন ও শাসক দলের আক্রোশ ও গা জোয়ারিপনাটাই কি সামনে আসছে না?

এদেশে এখন সাংবাদিকদের খুবই বেহাল অবস্থা বড় বড় সংবাদ মাধ্যমগুলো সবই প্রায় শাসক দলের মুখপাত্র হয়ে উঠতে চাইছে।গৌরী লঙ্কেশদের মত প্রতিবাদী ও দায়বদ্ধ সাংবাদিকদের খুন হতে হচ্ছে।সোশ্যাল মিডিয়ায় যারা সাংবাদিকতাকে দায়বদ্ধতার একটা অন্য দিশার দিকে টেনে নিয়ে যেতে প্রাণপন প্রয়াস করছেন তাদের উপর নানা হুমকি ও নিপীড়ন নেমে আসছে।ক্ষমতায় থাকা সব শাসকেরই একই রা সত্য সামনে আনা যাবে না।এ রাজ্যে যারা শাসক তারা কেন্দ্রে বিরোধী তাই গৌরী লঙ্কেশের হত্যার প্রতিবাদে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকতার স্বাধীনতার পক্ষে আওয়াজ তুলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মিছিলে হাঁটেন আবার সেই তিনিই রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে কোন খবর সামনে এলেই নবান্নে বসে সাংবাদিকদের হুমকি দেন,প্রশাসন অতি সক্রিয় হয়ে ওঠে সফিকুলদের কন্ঠ রোধ করতে।প্রসারভারতী যখন দেশের ঐতিহ্য সম্পন্ন সংবাদ পরিবেশক সংস্থা পিটিআইকে দেশ বিরোধী বলে আখ্যায়িত করতে ব্যস্ত তখন এ রাজ্যের নেহাতই এক স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম আরামবাগ টিভির সম্পাদক ও কর্মীদের জেলে পাঠিয়ে শাসক দল  এটাই প্রমাণ করল  যে বড় হোক বা ছোট সংবাদ মাধ্যম শাসক দলের সুরে সুর না মেলালে তাদের লাঞ্ছনার ধারাবাহিকতায় কোন ছেদ পড়বে না।সাংবাদিকতার দায়বদ্ধতাকে মান্যতা দিয়ে সংবাদকর্মী হিসেবে যারা নিজেদের পরিচয় টিকিয়ে রাখতে চান তাদের বোধহয় এই লাঞ্ছনা মেনে নেওয়ার শক্তি সঞ্চিত করে রাখাটাও জরুরি হয়ে পড়েছে।

ছবি শুভেন্দু ঘোষের পোস্ট থেকে নেওয়া