২১ জুলাইয়ের মমতার ভার্চুয়াল সভার জায়েন্ট স্ক্রিন কি করোনার বিপদ বাস্তবে বাড়াল না?

0
19

সাতদিন ডেস্কঃ-ঘোষণা ছিল কোন জমায়েত না করার।তবে এই করোনা প্রবাহে এ রাজ্যের শাসক দল যে ভাবে ২১ জুলাইয়ের ভার্চুয়াল সভা করল তাতে সেই ঘোষণা কতটা মান্যতা পেল সে প্রশ্ন উঠেই গেল। মঙ্গলবার রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায়  দৈত্যাকার পর্দা টাঙিয়ে যে ভাবে কর্মী  সমর্থকদের একত্রিত করে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণ শোনার ব্যবস্থা করা হল, তাতে প্রশ্ন তোলাই যায় তাহলে আর রাজ্যের সিনেমা হলগুলিকে বন্ধ করে রাখার কী যুক্তি থাকতে পারে? এদিন বিভিন্ন এলাকায় এলাকায় তৃণমূল কর্মী ও সমর্থকরা সারিবদ্ধ হয়ে বসে ও দাঁড়িয়ে নেত্রীর বক্তব্য শুনেছেন।তার আগে বিভিন্ন এলাকায় নেতারাও একত্রিত হয়ে বক্তব্য রেখেছেন,২১ জুলাইয়ের তাত্পর্য ব্যাখ্যা করেছেন।সেই সব জায়গাতেও দুরত্ব বিধি সেভাবে মানা হয় নি।সব মিলিয়ে রাজ্য প্রশাসন যখন করোনা প্রকোপ নিয়ে রীতিমত উদ্বিগ্ন,নতুন করে সপ্তাহে অন্তত দুদিন পূ্র্ণ লকডাউনের ঘোষণা করছে তখন রাজ্যের শাসক দলের এদিনের এই ভার্চুয়াল সভা কতটা ভার্চুয়াল থাকল তা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।কংগ্রেসের পক্ষে লোকসভার নেতা অধীর চৌধুরি ইতিমধ্যেই বলেছেন এই সভার ফলে রাজ্যে করোনার প্রকোপ বাড়বে।রাজ্য সরকারের প্রধানই যখন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করছেন না তখন সাধারণ মানুষকে কীভাবে সচেতনতা দেওয়া যাবে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অধীরবাবু।এই বিরোধিতায় থেমে থাকে নি সিপিএমও।সিিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন,প্রমাণ হয়ে গেল করোনা নয় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রচারটাই সব।মমতাকে ক্ষমতা লিপ্সু বলে কটাক্ষ করে সুজনবাবু ২১ জুলাই কমিশনের রিপোর্ট কেন প্রকাশ্যে আনা গেল না সে প্রশ্ন তুলেছেন।

এদিন ভার্চুয়াল সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে তীব্র্ আক্রমণ করেন।তাঁর মতে বিজেপি এ রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনকে ভাঙবার চক্রান্ত করছে।টাকা ছড়িয়ে ক্ষমতা দখলের অভিঘোগ তোলেন বিজেপির বিরুদ্ধে। বিজেপিকে সাহায্য করার জন্য বামেদেরও সমালোচনা করেন মমতা।আগামী ২১ জুলাই তারা রাজ্যে ক্ষমতায় এসে নতুন করে যাতে পালন করতে পারেন তার জন্য কর্মীদের এখন থেকেই তৈরি হওয়ার জন্য বলেন তৃণমূল নেত্রী।সাধারণ মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে মমতা জানান তারা আবার ক্ষমতায় এলে এ রাজ্যের মানুষকে সারাজীবন ফ্রি রেশন দেবার ব্যবস্থা করবেন।বিজেপির পক্ষে রাহুল সিনহা মুখ্যমন্ত্রীকে এ নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন উনি বুঝতে পারছেন উনি আর আসবেন না তাই এখন থেকেই মিথ্যা প্রতিশ্রুতির চিত্রনাট্য সাজাচ্ছেন।সব মিলিয়ে এদিনের সভা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের পারদ চড়লেও করোনা বিপদ এই সভা কতটা বাড়ালো তা নিয়ে কোন বিশিষ্টজনই অবশ্য মুখ খোলেন নি।বিশেষজ্ঞ ডাক্তারবাবুরাও এ বিষয়ে খুব সোচ্চার হয়েছেন বলে খবর নেই।তাহলে রাজরোষের ভয়ের চেয়ে কোন ভয়ই বোধহয় আমাদের বেশী তাড়িত করে না।মানুষের বিপদ তো কী রাজ-অনুষ্ঠান কী আর বন্ধ থাকতে পারে!!