এখন করোনা টেস্টের ৪০ শতাংশই রাপিড টেস্ট, পজিটিভিটির হার কমিয়ে দেখানোর কৌশল ?

0
31

সাতদিন ডেস্কঃ দেশে করোনা অাক্রান্তের সংখ্যা বেশ কিছুদিন অাগেই দৈনিক ৭০ হাজারের অাশেপাশে থাকছে । ইতিমধ্যেই মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬১ হাজার। অাগের থেকে টেস্টের সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। তাই অাক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। কিন্তু সমস্যা হল টেস্টের সংখ্যা বাড়লেও তা অান্তর্জাতিক স্তরের তুলনায় অনেকটাই কম। তাছাড়া অারটিপিসিঅার এর বদলে রাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে গুরুত্ব বেশি দেওয়ায় ফলস নেগেটিভ হচ্ছেন অনেকে।

 অাইসিএমঅার এর তরফে বলা হচ্ছে এখন পর্যন্ত দেশে ৩ কোটি ৬৮ লক্ষের বেশি করোনার টেস্ট করা হয়েছে ।  টেস্টের সংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে ঠিকই। দৈনিক সাড়ে ৯ লাখের কাছাকাছি পৌঁছছে টেস্টের সংখ্যা। তবে এর মধ্যে কত শতাংশ রাপিড অার কত শতাংশ rtpcr এর সেই তথ্য দেয় না icmrএর ওয়েবসাইট। রাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করার কথা সার্ভেলেন্সের জন্য এটিকে করোনার টেস্ট হিসাবাে চালানো হচ্ছে।তা সত্ত্বে টেস্টের বিচারে এখন অনেক পিছিয়ে ভারত।

ব্রিটেন অামেরিকা বা রাশিয়ায়  ১০ লক্ষ জনসংখ্যার অনুপাতে করোনা টেস্ট হয়েছে ২লক্ষ ২০ থেকে ৩০ হাজার। ব্রাজিলের মত দেশে তা হয়েছে ৬৬ হাজারের বেশি। পেরুতেও প্রতি ১০ লক্ষে ৯০ হাজারের বেশি টেস্ট করা হয়েছে। অার ভারতে ২৪ অাগস্টেরর   রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতি ১০ লক্ষ জনসংখ্যায় কোভিড টেস্ট  হয়েছে মাত্র ২৬ হাজার মত।

 এদেশে এখন ঠিক কত রাপিড টেস্ট করা হচ্ছে তার স্পষ্ট তথ্য icmr এর ওয়েবসাইটে পাওয়া যায় না। মঙ্গলবার( ২৫ অগস্ট) এক সাংবাদিক বৈঠকে অাইসিএমঅার এর অধিকর্তা বলরমা ভার্গভ জানিয়েছেন দেশে এখন যা টেস্ট হচ্ছে তার  ৩০-৪০ শতাংশের মত রাপিড টেস্ট হচ্ছে। রাপিড টেস্ট সস্তা ও অল্প সময়ের মধ্যে রেজাল্ট পাওয়া গেলেও ভাইরাল লোগ কম থাকলে সংক্রমণ এতে ধরা নাও পড়তে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ৪০-৫০ শতাংশ ফলস নেগেটিভ হয়। ফলে রাপিড টেস্টের সংখ্যা বাড়ালে অার পজিটিভিটির হার কম দেখাতে পারে যেটা বাস্তব নয়। অাগেই পজিটিভির রেট ১২ শতাংশ এর কাছাকাছি ঘোরাঘুরি করলেও এখন তা কমে ৭ -৮ শতাংশের নীচে মেনে এসেছে। রাপিড টেস্টে যাঁরা নেগেটিভ এলেন তাদের অারটিপিসিঅার  করান উচিত। কিন্তু তা কি হচ্ছে? দিল্লি সরকার হাইকোর্টে জানিয়েছিল মাত্র .০৫ শতাংশের ক্ষেত্রে ফের rtpcr  করা হচ্ছে। দিল্লির থেকে অন্যত্র যে ছবিটা অালাদা তা ভাবার কারণ নেই।

রাপিড অ্যান্টিডেন টেস্ট সার্ভেলেন্সের জন্য কনটেনমেন্ট জোনে করার কথা বলে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। এটা কখনও ১০০ শতাংশ সঠিক নয়। বরং উল্টো। ভাইরাল লোড বেশি না থাকলে রেপিড টেস্টে করোনা অাক্রান্ত কি না তা ধরা পড়া কঠিন। তাই অারটিপিসিঅার এর পরিপূরক হিসাবে রাপিড টেস্টকে ব্যবহার করা হলে তা অাসলে পজিটিভ রোগীর সংখ্যা কমিয়ে দেখার কৌশল ছাড়া কিছু নয় বলে মনে করছেন চিকিত্সকদের একাংশ।

ছবি প্রতিনিধিত্বমূলক