এদেশে টেস্ট নাকি বেশি হচ্ছে! ঘোড়াতেও হাসবে!

0
61

সাতদিন ডেস্কঃ দেশে করোনা অাক্রান্তের সংখ্যা বেশ কিছুদিন অাগেই দৈনিক ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা বৃহষ্পতিবার ৪০ হাজার ছাড়াল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকার সরকারে দাবি কতটা হাস্যকর তা টেস্টের সংখ্যা দিয়েই প্রমাণিত।সরকারের তরফে বলা হচ্ছে এখন পর্যন্ত দেশে ২ কোটি ২৬ লক্ষের বেশি করোনার টেস্ট করা হয়েছে দেশে।  টেস্টের সংখ্যা কেছুটা বেড়েছে ঠিকই। দৈনিক সাড়ে ৬ লাখ ছাড়িয়ে টেস্টের সংখ্যা। তবে এর মধ্যে কত শতাংশ রেপিড অার কত শতাংশ rtpcr এর সেই তথ্য দেয় না icmrএর ওয়েবসাইট। তবে টেস্টের বিচারে এখন অনেক পিছিয়ে ভারত। তাছাড়া কত সংখ্যক টেস্ট হল তার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ১০ লক্ষ জনসংখ্যার নিরিখে কত টেস্ট করা হয়েছে তা।

ব্রিটেনে  ১০ লক্ষ জনসংখ্যার অনুপাতে করোনা টেস্ট হয়েছে ২লক্ষ ৪৯ হাজার ৪৫৫। ব্রাজিলের মত দেশে তা হয়েছে ৬২ হাজার ৬৬৫। অার ভারতে ৫ অাগস্টেরর   রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতি ১০ লক্ষ জনসংখ্যায় কোভিড টেস্ট  হয়েছে মাত্র।১৫ হাজার ৫৫৪।পজিটিভির হার ১০ শতাংশের কাছাকাছি। এর স্পষ্ট অর্থ দেশে টেস্ট বাড়লে অাক্রান্তের সংখ্যাও বেশি ধরা পড়বে। অার সেটাই চাইছে না কোন  সরকারই। এটাই দেশের কোভিড মোকাবিলার নীতি।

একই পথে হাঁটতে চাইছে   এরাজ্যেও।  করোনার কম টেস্ট করা হচ্ছে বলে দীর্ঘদিন থেকে বলে অাসছেন চিকিত্সকদের একাংশ। সবে মাত্র  প্রতি ১০ লক্ষ জনসংখ্যার অনুপাতে টেস্টের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। জাতীয় গড়ের থেকে নীচে। যদিও পজিটিভিটি রেট ১৩ শতাংশের কাছাকাছি। তার ওপর শুরু হয়েছে রেপিড টেস্ট।  রাপিড টেস্ট। মিনিট তিরিশের মধ্যেই টেস্টের ফল জানা যাচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এই টেস্টে ফলস টেগেটিভ হওয়ার সম্ভবনা থাকে বেশি। অর্থাত্ যারা এই টেস্টে পজিটিভি হলেন না তারা যে করোনায় অাক্রান্ত নন তা নাও হতে পারে। এই জন্য রাপিড টেস্টে পজিটিভ কেস কে অাক্রান্ত বলে ধরে নেওয়া হলেও নেগেটিভদের RTPCR টেস্ট করা উচিত বলে বিশেষজ্ঞদের মত। যদি তা অনেকক্ষেত্রেই করা হয় না বলে অভিযোগ। অভিযোগ এলাকার চিকিত্সকের হাসপাতালে টেস্টের পরামর্শ দিলেও হাসপাতাল থেকে রোগীদের টেস্ট না করিয়েই ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই ভাবে অাক্রান্তের সংখ্যা কম দেখান হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।

রাপিড অ্যান্টিডেন টেস্ট সার্ভেলেন্সের জন্য কনটেনমেন্ট জোনে করার কথা বলে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। এটা কখনও ১০০ শতাংশ সঠিক নয়। বরং উল্টো। ভাইরাল লোড বেশি না থাকলে রেপিড টেস্টে করোনা অাক্রান্ত কি না তা ধরা পড়া কঠিন। তাই অারটিপিসিঅার এর পরিপূরক হিসাবে রাপিড টেস্টকে ব্যবহার করা হলে তা অাসলে পজিটিভ রোগীর সংখ্যা কমিয়ে দেখার কৌশল হতে পারে।

ছবি প্রতিনিধিত্বমূলক