করোনার রাপিড টেস্টে জোর কি পরিস্থিতি জটিল করছে না?

0
65

সাতদিন ডেস্কঃ দেশে করোনা অাক্রান্তের সংখ্যা বেশ কিছুদিন অাগেই দৈনিক ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪৭ হাজার।  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকার সরকারে দাবি কতটা হাস্যকর তা টেস্টের সংখ্যা দিয়েই প্রমাণিত।সরকারের তরফে বলা হচ্ছে এখন পর্যন্ত দেশে ২ কোটি ৬৮ লক্ষের বেশি করোনার টেস্ট করা হয়েছে দেশে।  টেস্টের সংখ্যা কেছুটা বেড়েছে ঠিকই। দৈনিক সাড়ে ৮ লাখের কাছাকাছি পৌঁছছে টেস্টের সংখ্যা। তবে এর মধ্যে কত শতাংশ রাপিড অার কত শতাংশ rtpcr এর সেই তথ্য দেয় না icmrএর ওয়েবসাইট। রাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করার কথা সার্ভেলেন্সের জন্য এটিকে করোনার টেস্ট হিসাবাে চালানো হচ্ছে।তা সত্ত্বে টেস্টের বিচারে এখন অনেক পিছিয়ে ভারত।

ব্রিটেনে  ১০ লক্ষ জনসংখ্যার অনুপাতে করোনা টেস্ট হয়েছে ২লক্ষ ৭৭ হাজার ৭৭৪। ব্রাজিলের মত দেশে তা হয়েছে ৬২ হাজার ১৯৭। পেরুতেও প্রতি ১০ লক্ষে ৮০ হাজারের বেশি টেস্ট করা হয়েছে। অার ভারতে ১২ অাগস্টেরর   রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতি ১০ লক্ষ জনসংখ্যায় কোভিড টেস্ট  হয়েছে মাত্র।১৯ হাজার ৪৩১।পজিটিভির হার ১০ শতাংশের কাছাকাছি। এর স্পষ্ট অর্থ দেশে টেস্ট বাড়লে অাক্রান্তের সংখ্যাও বেশি ধরা পড়বে। অার সেটাই চাইছে না কোন  সরকারই। এটাই দেশের কোভিড মোকাবিলার নীতি।

 এদেশে এখন ঠিক কত রাপিড টেস্ট করা হচ্ছে তার স্পষ্ট তথ্য icmr এর ওয়েবসাইটে পাওয়া যায় না। কয়েকদিন অাগে অাইসিএমঅার এর অধিকর্তা মিডিয়াকে  জানিয়েছিলেন দেশে এখন যা টেস্ট হচ্ছে তার ২৫ থেকে ৩০ শতাংশের মত রাপিড টেস্ট হচ্ছে। রাপিড টেস্ট সস্তা ও অল্প সময়ের মধ্যে রেজাল্ট পাওয়া গেলেও ভাইরাল লোগ কম থাকলে সংক্রমণ এতে ধরা নাও পড়তে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ ফলস নেগেটিভ হয়। রাপিড টেস্টে যাঁরা নেগেটিভ এলেন তাদের অারটিপিসিঅার  করান উচিত। কিন্তু তা কি হচ্ছে? দিল্লি সরকার হাইকোর্টে জানিয়েছিল মাত্র .০৫ শতাংশের ক্ষেত্রে ফের rtpcr  করা হচ্ছে। দিল্লির থেকে অন্যত্র যে ছবিটা অালাদা তা ভাবার কারণ নেই।

রাপিড অ্যান্টিডেন টেস্ট সার্ভেলেন্সের জন্য কনটেনমেন্ট জোনে করার কথা বলে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। এটা কখনও ১০০ শতাংশ সঠিক নয়। বরং উল্টো। ভাইরাল লোড বেশি না থাকলে রেপিড টেস্টে করোনা অাক্রান্ত কি না তা ধরা পড়া কঠিন। তাই অারটিপিসিঅার এর পরিপূরক হিসাবে রাপিড টেস্টকে ব্যবহার করা হলে তা অাসলে পজিটিভ রোগীর সংখ্যা কমিয়ে দেখার কৌশল ছাড়া কিছু নয় বলে মনে করছেন চিকিত্সকদের একাংশ।

ছবি প্রতিনিধিত্বমূলক