থেমে গেল ইলিনা সেনের সমাজ-কর্ম

0
31

সাতদিন ডেস্কঃ-মধ্যবিত্ত আত্ম সর্বস্ব জীবনের গন্ডিকে উপেক্ষা করে দলিত-শ্রমজীবী-প্রান্তিক মানুষের জীবন সংগ্রামে সহায়তা করার অঙ্গীকার করেছিলেন প্রথম যৌবনেই।৬৯ বছর বয়সে এসে জীবনের গতি যখন থামল তখনও সেই প্রান্তিক মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকারে এতটুকুও টোল পড়তে দেন নি তিনি।তিনি ইলিনা সেন,লেখক- শিক্ষাবিদ সব পরিচয়ের উর্দ্ধে যিনি সমাজ আন্দোলনের একজন নিরলস কর্মী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।বিশিষ্ট সমাজকর্মী ডাক্তার বিনায়ক সেনের স্ত্রী ইলিনা বরাবর শ্রমিক আন্দোলন ও জনস্বাস্থ্যের দাবিতে সোচ্চার থেকেছেন।ছত্তিশগড়ে শ্রমিক আন্দোলন সংগঠিত করার ক্ষেত্রে বিনায়ক সেনের পাশাপাশি সমান গুরুত্বে উচ্চারিত হয় ইলিনা সেনের নামও।শ্রমিক ও প্রান্তিক মানুষের জীবন-সমস্যা নিয়ে তাঁর লেখা বই এদেশের রূঢ় বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসে।নিরলস সমাজ কর্মে ইলিনা বার বার দেখিয়ে দিয়েছেন বিশ্বের এই বৃহত্তর গণতান্ত্রিক দেশের শাসক সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধ শুধুমাত্র অগণিত প্রান্তিক মানুষের অধিকার ছিনিয়ে নিতে,তাঁদের জীবন-যাপনকে তুমুল অনিশ্চয়তার অতল গহ্বরে নিক্ষেপ করতে।প্রান্তিক মানুষের জীবনের নিশ্চয়তার পক্ষে,তাদের নাগরিক অধিকারের পক্ষে সোচ্চার ইলিনা রাষ্ট্রীয় কর্তা-ব্যক্তিদের কাছে ‘সন্দেহজনক’ ব্যক্তিত্ব বলেই বিবেচিত হয়েছেন।সেই কারণে রাষ্ট্রের সঙ্গে তাঁকে জড়িয়ে পড়তে হয়েছে নানা আইনি লড়াইয়ে।বিনায়ক সেন রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলে বিনায়কের সহকর্মী হিসেবে যাবতীয় কাজের দায়িত্ব অনেকদিন ইলিনা একাই করে গেছেন।মারণ রোগ ক্যানসারে আক্রান্ত হন বেশ কয়েক বছর আগেই।রোগের আক্রমণে জীর্ণ হলেও থামান নি তাঁর সমাজ বোধ ও দায়িত্ব।কাজের মধ্যেই ছিলেন।রবিবার থেমে গেল সেই কাজের গতি,৬৯ বছর বয়সে জীবন থেকে ছুটি নিলেন ইলিনা সেন।

‘তুমি আর আমি আর আমাদের সন্তানে’র বাইরে যে মধ্যবিত্তের পৃথিবী প্রসারিত হতে পারে নি তারা ইলিনা সেনের চলে যাওয়ার ক্ষতি অনুধাবন করতে পারবেন না,কিন্তু এদেশের নগরে প্রান্তরে কলে খামারে জমিতে যারা কাজ করেন,যাদের শরীরের প্রতি ইঞ্চিতে এই ব্যবস্থাপনার বঞ্চনার চিহ্ন আঁকা তারা জানবেন তাদের পক্ষে,তাদের হয়ে বলার ও করার একটা মানুষ হারিয়ে গেল।ইলিনা সেনের মৃত্যু আসলে তো প্রান্তিক আদিবাসী দলিত মানুষের শক্তি ক্ষয় হওয়ারই ঘটনা।তবু প্রকৃতির নিয়মে জীবনকে তো থামতেই হয়।ইলিনা তাঁর মনুষ্য জীবনের কর্তব্য পালন করেছেন যাখাযথ এবার দায়িত্ব তাঁর সহকর্মীদের, ইলিনা সেনের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ও ইলিনা সেনের জীবন বৃত্তান্ত সামনে এনে মধ্যবিত্তকে আত্মসর্বস্বতা ভাঙার প্রেরণা হিসেবে তুলে ধরার দায়িত্ব ইলিনা সেনের পদাঙ্ক অনুসরণকারীদেরই নিতে হবে।