বেসরকারি হাসপাতালে ‘সরকারি বেডে’ কত বিল মেটাচ্ছে সরকার?

0
200

রীতেন্দ্র রায় চৌধুরীঃ ভর্তির সময় টাকা নিয়ে টালবাহানা করায় রোগীর মৃত্যুর জেরে কাঠ ভর ডিসান কর্তৃপক্ষ।মিডিয়ায় হইচই করায় স্বাস্থ্য কমিশনও জবাব তলব করেছে। তাতে অাদতে কী হবে তা বলা মুকশিল। তবে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই প্রথম কোন মামলা দায়ের করেছে স্বাস্থ্য কমিশন। কিন্তু অাশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে গোটা বিষয়টিতে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর ও মুখ্যমন্ত্রীর নীরবতা। যে মুখ্যমন্ত্রী সরকারি হাসপাতালে অাচমকাই পৌঁছে যান রোগীদের খবর নিতে সেই মুখ্যমন্ত্রী করোনা চিকিত্সার নামে বেসরকারি সংস্থার লুটের বিষয় এক্কেবারে চুপ।

করনো চিকিত্সার জন্য রাজ্যের একাধিক বেসরকারি হাসপাতেল বেশ কিছু বেড নিয়েছে রাজ্য সরকার। এই সব বেডে ভর্তি হওয়া করোনা রোগীদের খরচ দিচ্ছে রাজ্য সরকার এমনটাই সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্বাস্থ্য দফতরের ওয়েবসাইট  অনুযায়ী ডিসানে রাজ্য সরকারের তরফে নেওয়া বেডের সংখ্যা ১১৩। সবকটাই অাজকের দিনে ভর্তি। কে বা কারা এই সব বেডে ভর্তির সুযোগ পান তা স্পষ্ট নয়। তবে এই সব বেডের খরচ রাজ্য সরকার দিয়ে থাকে। এখন প্রশ্ন রাজ্য সরকার কেন জানাচ্ছে না এ্ই সব বেডে ভর্তি হওয়া রোগীদের জন্য কত টাকা চার্জ করেছে এই সব বেসরকারি হাসপাতাল। নিশ্চয় সেই অঙ্ক ১৩ লক্ষ বা ১৮ লক্ষ বা ২২ লক্ষ নয়। তা যদি না হয় তাহলে কেন রাজ্য সরকার জানাচ্ছে না এই সব হাসপাতালে তারা কী দরে করোনা চিকিত্সায়  বিল মেটাচ্ছে?

 এরাজ্যে প্রশাসনিক বৈঠক লাইভ সম্প্রচার করা হয় অথচ রাজ্যবাসীর জানার অধিকার অাছে এমন তথ্য জানান হয় না। তাই এক সময় সরকারি কোভিড হাসপাতালে রোগীদের কাছে মোবাইল রাখতে দেওয়া হয় না। করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে দেখাতে কোমরবিটির তত্ত্ব দেখিয়ে করোনা মৃত্যুকে অাড়াল করা চেষ্টা চলেছে এরাজ্যে। সরকার দাবি করে চলেছে করোনা পরিস্থিতি রাজ্য বেশ নিয়ন্ত্রণে। অথচ বেড পায় না রোগী। অ্যাম্বুলেন্স জোটে না রোগীদের। মৃতদেহ পড়ে থাকে ঘন্টার পর ঘন্টা। অার  করোনা নিয়ে সরকারি ওয়েবসাইটের পরিসংখ্যানের সঙ্গে মেলে না বাস্তবের ছবি। সুচিকিত্সা পাওয়ার অধিকার নাগরিকদের অাছে। সরকারি পরিকাঠামোর অপ্রতুলতার জন্য বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতালের দরজা যাচ্ছেন রোগীরা। সরকারের উচিত বেসরকারি হাসপাতালে লাগাম পরানো। স্বচ্ছতার সঙ্গে।