সমাজ আন্দোলনের তরুণ মুখ রায়া দেবনাথের আকস্মিক প্রয়াণ

0
2670

সাতদিন ডেস্কঃ-রবিবার দুপুরেও তিনি তাঁর তাঁর ফেসবুক পোষ্টে জানিয়েছিলেন,ডাক্তার তাঁকে ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে কথা না বলে বিশ্রাম নিতে বলেছেন,তাই একটু বিশ্রামে থাকতে হচ্ছে তাকে।তবে বন্ধুরা কোন খবর দেওয়ার থাকলে তাঁকে এসএমএস বা হোয়াটস্আ্যপ করতে পারেন বলেও জানিয়েছিলেন।বলে রেখেছিলেন রিপ্লাই দিতে দেরি হলে কেউ যেন রাগ না করেন।বন্ধুদের আশ্বস্ত করে বলেছিলেন কেউ যেন চিন্তিত না হয়ে পড়েন,তিনি ফিরে আসবেন তাড়াতড়ি(Will come back soon)।অসুস্থতা অতিক্রম করে ফিরতেই চেয়েছিলেন রায়া দেবনাথ। এনআরসি এনপিআর বিরোধিদের ওপর ক্রমাগত রাষ্ট্রীয় আগ্রাসনের ক্ষেত্র যখন বেডে়ই চলেছে তখন তার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধে এ রাজ্যে প্রথমসারিতে দাঁড়িয়ে পড়া রায়া জীবন থেকে ছুটি নিতে চাইবেনই বা কেন!তবু চলে যেতে হল,সবাইকে চমকে দিয়ে,ফিরে আসছি বলেও আর ফিরে আসা হল না রায়ার।মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ফুসফুসের সংক্রমণে অকালে ঝড়ে গেল এ রাজ্যের সামাজিক আন্দোলনের এক পরিচিত মুখ রায়া দেবনাথ।বছর ত্রিশের রায়া শনিবার থেকেই শ্বাসকষ্ট অনুভব করায় তার করোনা টেস্ট করা হয়,করোনা টেস্ট নেগেটিভ আসে।রবিবারও তার ফুসফুসের পরীক্ষা হয়,সেখানে সংক্রমণের কথা জানান চিকিত্সক।তাঁকে সম্পূর্ণ রেস্টে থাকতে বলা হয়।সেই রেস্টে যাওয়ার আগেই বন্ধুদের জন্য ফেসবুক পোষ্ট করেন রায়া আর তার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই সবকিছুর ইতি।

রায়া দেবনাথ এক সময় একটি সংবাদ চ্যানেলে নিউজ ডেস্কে কাজ করেছেন।গত কয়েক বছর তিনি একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে কর্মরত ছিলেন।এ রাজ্যে এনআরসি বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে উঠেছিলেন রায়া।পার্ক সার্কাস ময়দানে তাঁবু খাটিয়ে মহিলাদের যে এনআরসি বিরোধী সভা দিনের পর দিন চলেছিল রায়া দেবনাথ সেই প্রতিবাদ আন্দোলনেরও প্রথম সারিতে ছিলেন।রায়া দেবনাথের বাবা কুশল দেবনাথও সামাজ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত দীর্ঘদিন,তাঁর পথ ধরেই একমাত্র কন্যা রায়া দেবনাথ সমাজ আন্দোলনের একেবারে প্রথম সারিতে এসে দাঁড়িয়েছিলেন।রায়ার এই আকস্মিক মৃত্যু তাই এ রাজ্যের সমস্ত সমাজ আন্দোলনের কর্মীদেরই একটা বড় ধাক্কা দিয়ে গেছে।চিকিত্সার কোন গলদ এরকম এক তরুণ প্রাণ কেড়ে নিল কী না সে প্রশ্নও উঠছে।গোটা দেশ জুড়ে এনআরসি এনপিআর বিরোধী আন্দোলনে তরুণ প্রজন্মের সোচ্চার উপস্থিতি যখন বুঝিয়ে দিচ্ছিল নতুন প্রজন্ম মানেই রাজনীতি থেকে দূরে থাকা আত্মসর্বস্ব ও আত্মউন্নতির হিসেব কষা নয় তখন রায়া দেবনাথ সেই তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবেই সামনে চলে এসেছিলেন।মৃত্যু রায়াকে তাঁর কাজ শুরু করার মুখেই ছিনিয়ে নিল,প্রত্যাশা থাক কেউ নিশ্চয়ই এগিয়ে এসে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেবেন,নিষ্ঠুর নিয়তিকে চ্যালেঞ্জ করে বলবেন “তুমি ব্যক্তি রায়াকে স্তব্ধ করে দিতে পারো কিন্তু রায়ার প্রজন্মকে স্তব্ধ করে দিতে পারবে না।” একমাত্র সন্তান হারা রায়ার বাবা মায়ের কাছে সেটাই বোধহয় একটু সান্ত্বনার প্রলেপ হয়ে উঠতে পারে।

ছবি দেবলীনার পোস্ট থেকে নেওয়া