৫মাস পরও শুধুই অ্যাডভাইসরি !করোনায় বেসরকারি হাসপাতালের বিলে এখনও লাগাম পরাচ্ছে না কেন রাজ্য সরকার?

0
219

সাতদিন ডেস্কঃ মেডিকায় ভর্তি করোনা অাক্রান্ত এক চিকিত্সকের বিল ১৫ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।  করোনা অাক্রান্ত হয়ে অাইএলএস এ ভর্তি এক চিকিত্সকের বিল নাকি ২৩ লক্ষ টাকা হয়েছিল। পরে তার মৃত্যুও হয় । ১৪দিনের করোনা চিকিত্সার জন্য রোগীর পরিবারকে রুবি হাসপাতাল বাজেট ধরিয়েছে ১০ লক্ষ ৩৯ হাজার টাকা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছে  তার ছবিও।  করোনার নামে বেসরকারি হাসপাতালের লুটের এগুলি খন্ডচিত্র মাত্র। তবুও রাজ্য সরকার এখন বেসরকারি হাসপাতালের কোভিডের চিকিত্সার খরচের ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দিতে চাইছে না। তার পরিবর্তে স্বাস্থ্য কমিশন জারি করে চলেছে অ্যডভাইসরি। যা বেসরকারি হাসপাতালগুলি মানলে ভাল। স্বাস্থ্য কমিশনের সর্বশেষ অ্যাডভাইসরিতে বলা হয়েছে করোনা রোগী ভর্তির সময় ৫০ হাজার টাকার বেশি নেওয়া যাবে না। অথবা অানুমানিক খরচের ২০ শতাংশ টাকা ভর্তির সময় রোগীর পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া যাবে। তাহলে কি স্বাস্থ্য কমিশন করোনা রোগীর চিকিত্সার সর্বোচ্চ সীমা  অাড়াই লক্ষ টাকায় বেঁধে দিতে চাইছে? তাই যদি হয় সেটা স্পষ্ট করা হচ্ছে না কেন তাই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

   এর অাগে রাজ্যের স্বাস্থ্য কমিশন একটি অ্যাডভাইসরি জারি করে জানিয়েছিল বেসরকারি হাসপাতাল রোগীর কাছ থেকে  প্রতিদিন PPE বাবদ একহাজার টাকার বেশি নিতে পারবে না। করোনার RTPCR টেস্টের জন্য সরকার নির্দিষ্ট ২২৫০ টাকার বেশি রোগীর থেকে নেওয়া যাবে না। অাউটডোরে করনো সুরক্ষার জন্য ৫০ টাকার বেশি নিতে পারবে না ল্যাব বা বেসরকারি হাসপাতালগুলি। বাড়ি থেকে গিয়ে করোনার টেস্টের স্যাম্পেল নিয়ে এলে প্রতি কিমি ১০ টাকার বেশি চার্জ করা যাবে না বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য কমিশন।

 প্রশ্ন উঠছে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরও কোন সাহসে টেস্টের নামে ল্যাবগুলি ৩০০০ টাকার বেশি চার্জ করছিল। প্রশাসন কি জেগে ঘুমোচ্ছে! তাছাড়া কী করে করোনা চিকিত্সার নামে বেসরকারি হাসপাতাল গুলি ১০ থেকে ২০ লক্ষ টাকার বিল ধরাচ্ছে রোগীর পরিবারকে। মহারাষ্ট্র বা দিল্লি যদি বেসরকারি হাসপাতালের চার্জ বেঁধে দিতে পারে তাহলে এরাজ্যের সরকার ৫ মাস পরও তা করতে পারছে না কেন?

  মহারাষ্ট্র ও দিল্লি সহ একাধিক রাজ্য করোনা চিকিত্সায় বেসরকারি হাসপাতালের চার্জ নির্দিষ্ট করে দিয়েছে।  মহারাষ্ট্র সরকার তো অাবার সে রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতালের ৮০ শতাংশ শয্যার নিয়ন্ত্রণ  নিয়েছে। বাকি ২০ শতাংশ বেডের দাম হাসপাতাল ঠিক করতে পারবে। এর মাধ্যমে ৮০ শতাংশ  বেডের ব্যবহার ও চার্জ নিয়ন্ত্রণ করবে রাজ্য সরকার।   অাইসোলেশন বেডের জন্য সর্বোচ্চ ৪ হাজার টাকা, icuএ বেডের জন্য ৭৫০০ টাকা ও ভেন্টিলেটর সহ বেডের জন্য সর্বোচ্চ ৯ হাজার টাকা নিতে পারবে বেসরকারি  হাসপাতালগুলি। দিল্লি সরকারও করোনা চিকিত্সায় দাম বেঁধে দিয়েছে। দিল্লিতে বেসরকারি হাসপাতালের ৬০ শতাংশ  বেডে করোনা চিকিত্সার জন্য দাম নির্দিষ্ট করা হয়েছে। অাইসোলেশন বেডের জন্য ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। ICU বেডের জন্য ১৫ হাজার টাকা ও ভেন্টিলেটর সহ অাইসিইউ বেডে সর্বোচ্চ দিনে ১৮ হাজার টাকা । দিল্লি  বা মহারাষ্ট্র যা পারে তা অামাদের রাজ্যের সরকার পারছে না কেন? নাকি চাইছে না!