কোভিড পরিস্থিতিতে দায়িত্বপূর্ণ পদে থাকায় NIA এর তলবে মুম্বইয়ে হাজির হলেন না পার্থ সারথি

0
139

সাতদিন ডেস্কঃ গত ৪ সেপ্টেম্বর অাচমকাই ই-মেল করে ভিমা করেগাও এলগার পরিষদ মামলায় এরাজ্যের বিজ্ঞান গবেষক পার্থসারথি রায়কে ১০ সেপ্টেম্বর মুম্বই এ হাজিরা দিতে বলে NIA। NIA এর নির্দেশমত ১০ সেপ্টেম্বর  মুম্বাই গিয়ে তাদের দপ্তরে হাজিরা দেন নি পার্থ সারথি রায়। NIA কে তিনি জানিয়েছেন যে এই মুহূর্তে  রাজ্যে কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলার এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাচ্ছেন  তাই তাঁর পক্ষে এখনই কলকাতা ছেড়ে যাওয়া সম্ভব নয়। সূত্রের খবর এদিন তিনি ইমেল করে মুম্বইয়ের NIA দপ্তরে এটাও বলে দিয়েছেন যে বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হচ্ছে সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না,গোটা বিষয়টাই তাঁর কাছে বিস্ময়ের।এর পরেও যদি তদন্তকারীদের কিছু জানার থাকে তাঁরা যেন কলকাতায় এসে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

গত ৪ তারিখ রাজ্যের তরুণ বাঙালি বিজ্ঞান গবেষক ,IISER কলকাতার অধ্যাপক, তথা সমাজকর্মী ডঃ পার্থ সারথী রায়কে ইমেল করে মুম্বইয়ের এনআইএ দপ্তরে হাজিরা দিতে বলে কেন্দ্রীয় সংস্থা। তাঁকে এ মাসের ১০ তারিখে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছিল তাঁকে ভিমা কোরেগাঁও ষড়যন্ত্র মামলা সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন আছে।এর আগেও  একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিকে এই ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার করেছে এনআইএ।সাতদিন ডটইনের পক্ষ থেকে গবেষক পার্থসারথী রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দিন কয়েক আগেই জানিয়েছিলেন, তাঁকে যেভাবে এই মামলার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা হচ্ছে তাতে তিনি স্তম্ভিত।যে বিষয় তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে বলে জানানো হয়েছে সে সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না,তিনি কোনদিন ভিমা কোরেগাওতে যান নি,সেদিনের সংঘর্ষ বিষয়ে তিনি যা জেনেছেন সবই সংবাদমাধ্যম দ্বারা।পার্থবাবুর অভিযোগ আসলে দেশজুড়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞানবিরোধী ও গণবিরোধী কার্যকলাপের বিরোধিতা করার ফলেই তাঁদের মত মানুষের বিরুদ্ধে এরকম আক্রমণ নামিয়ে আনা হচ্ছে।তবে তিনি এ বিষয়ে আইনজীবীদের পরামর্শ নিচ্ছেন।নাগরিক সমাজের কাছেও আবেদন রেখেছেন এই বাঙালি বিজ্ঞান গবেষক, সকলে এগিয়ে এসে এই প্রতিহিংসা মূলক রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে সরব হওয়া এখনই দরকার না হলে যে কোন দিন কোন নাগরিক এরকম হেনস্থার শিকার হবেন।বৃহস্পতিবার সেই নাগরিক সমাজের একাংশই পথে নেমে প্রতিবাদ ধ্বণিত করল।

গত  ২বছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সুধা ভরদ্বাজ, সোমা সেন, অানন্দ তেলতুম্বদ, ভারভারা রাও সহ ১১জন প্রতিবাদীকে এই মামলায় গ্রেফতার করে রাখা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলি একে সাজান মামলা বলে অভিযোগ করেছে। মিথ্যে অভিযোগে এদের কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে বলে মনে করেন মানবাধিকার কর্মীরা। পার্থ সারথি রায়ের ক্ষেত্রেও তেমনটা হওয়ার অাশঙ্কা করছেন  এ রাজ্যের অনেকেই। এনআইএর এই ভূমিকার তীব্র নিন্দা করে পথে নাবার সিদ্ধান্ত আগেই জানিয়েছিল APDR।সংগঠনের পক্ষে রঞ্জিত শূর জানিয়েছিলেন,গোটা দেশ জুড়ে রাষ্ট্রের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া মানুষজনদের ভীত-সন্ত্রস্ত করে তুলতেই এনআইএ এর মত সংস্থাকে কাজে লাগাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার।রঞ্জিত শূর মনে করছেন এ রাজ্যে সামনেই ভোট তাই এখানেও একটা ভীতির সঞ্চার শুরু করার প্রক্রিয়া  চায় বিজেপি,তাই এবার বাংলার প্রতিবাদীদের টার্গেট করা শুরু হল।এদিনের সভা থেকে সেই অভিপ্রায় প্রতিহত করার প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করা গেল বলেই মনে করছেন মানবাধিকার রক্ষার আন্দোলনকারীরা।