কোরোনা ভ্যাকসিন নিয়ে সিরামকে নোটিসের পর এদেশেও স্থগিত ট্রায়াল। উত্পাদিন ভ্যাকসিন কি তাহলে জলেই যাবে?

0
24

সাতদিন ডেস্কঃ  অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনিকার করোনার প্রতিষেধকের এদেশে উত্পাদনকারী সিরাম ইন্সটিটিউটকে ড্রাগ কন্ট্রোলার নোটিস পাঠানোর পর অাপাতত ট্রায়াল বন্ধ রাখলো সংস্থা। সিরামের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে কেন তারা তৃতীয় পর্বের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের দিকে এগোচ্ছে। ব্রিটেনে এক স্বেচ্ছাসেবকের শরীরের  ভ্যাকসিন প্রয়োগে পার্শ্বপ্রতিক্রায়র দেখা দেওয়ায় অাপাত্ত ভ্যাকসিনের ট্রায়াল স্থগিত রেখেছে অ্যাস্ট্রাজেনিকা। সেদেশের ট্রায়ালের তথ্য জানতে চেয়েছে DGCI। কিন্তু উত্পাদিত ভ্যাকসিনের কী হবে?

এদেশে ইতিমধ্যেই অক্সফোর্ড- অ্যাসট্রাজেনিকার কোরানার প্রতিষেধক ভ্যাকসিনের উত্পাদন শুরু করে দিয়েছে সিরাম ইনস্টিটিউট। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী লক্ষ লক্ষ ভায়েল ইতিমধ্যেই উত্পাদনও হয়ে গেছে। অথচ চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়ালে মানুষের শরীরে সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ায় অাপাতত ট্রায়াল স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অ্যাস্ট্রাজেনিকা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে যদি ভ্যাকসিনের ফর্মুলেসনে কোন পরিবর্তন অাগামী দিনে ঘটে তাহলে কি সিরামের তৈরি হয়ে যাওয়ায় ভ্যাকসিন গুলি নষ্ট করে ফেলা হবে? এর গ্যারান্টিকে দেবে? যে দেশে স্পিরিট দিয়ে ওষুধের এক্সপায়ারি ডেট ওঠিয়ে বিক্রি করা হয় সেখানে কোটি কোটি টাকার তৈরি ভ্যাকসিন কি সত্যি জলে ফেলে দেবে সিরাম?

 বিশেষজ্ঞদের একাংশ অাগে থেকেই বলছিলেন করোনার প্রতিষেধক ভ্যাকসিন বাজারে অানার বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করা হচ্ছে। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। ভ্যাকসিনের কার্যকারিতার মাত্রার থেকে বেশি নিশ্চিত হওয়া জরুরি এর প্রয়োগে মানব শরীরে  পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কোন ক্ষতি হবে কিনা তা নিশ্চিত করা। অন্যদিকে ট্রায়াল স্থগিত করার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন চিকিত্সকদের অনেকেই। তাঁদের মতে এতেই প্রমাণ হয় কোম্পানি কতটা চিন্তিত মানুষের স্বাস্থ্যের বিষয়।

একদিকে ভ্যাকসিনের বিপুল বাজার অন্যদিকে দুনিয়াজুড়ে বিশ্বনেতাদের চাপ । এই দুয়ের মাঝে বিজ্ঞান। ট্রায়াল অাপাতত স্থগিত করেছে অ্যাসট্রাজেনিকা। এখন দেখার বিষয়টি স্বচ্ছতার সঙ্গে মানুষের কাছে কতটা অানা হয়। সেই সঙ্গে লক্ষ রাখতে হবে এদেশে ওই ভ্যাকসিনের যে উত্পাদন ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে তার কী হবে?