গত লোকসভায় সিপিএমের প্রার্থী ডাঃ রেজাউল করিম যোগ দিলেন তৃণমূলে

0
172

সাতদিন ডেস্কঃ-তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন চিকিত্সক সংগঠনের পরিচিত মুখ রেজাউল করিম। ডাক্তার করিম দীর্ঘদিন ওয়েষ্ট বেঙ্গল ডক্টরস্ ফোরামের সম্পাদক ছিলেন।গত কয়েক বছর-যাবত এ রাজ্যে ডাক্তারদের নিরাপত্তা ও সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা বাড়ানোর দাবি নিয়ে চিকিত্সক সংগঠনগুলি রাজ্য  সরকারের উপর যে চাপ তৈরি করে আসছিল তার পুরোভাগে ডাক্তার রেজাউল করিমকে দেখা গেছে।এ রাজ্যে সরকার বিরোধী চিকিত্সক সংগঠনের মুখ বলেই পরিচিতি ছিল ডাঃ করিমের।কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার কীভাবে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার গুরুত্ব উপেক্ষা করছে সে বিষয়ে ডাক্তার সংগঠনের পক্ষ থেকে একাধিকবার তাঁকে যুক্তি ও তথ্য সমৃদ্ধ বক্তব্য রাখতেও শোনা গেছে।বছর দেড়েক আগে রাজ্য সরকারের অনৈতিক বদলির বিরোধিতা করে তিনি সরকারি চাকরি থেকে স্বেচ্ছাবসর নেন।

এর পর থেকে সরাসরি দলীয় রাজনীতির ময়দানে তাঁর উপস্থিতি চোখে পড়ে।গত লোকসভা নির্বাচনের আগে তাঁকে প্রদেশ কংগ্রেস অফিসে যাতায়াত করতে দেখা যায়।তিনি লোকসভায় কংগ্রেস দলের প্রার্থী হতে চলেছেন বলেও চর্চা শুরু হয়। তখনকার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সদ্য প্রয়াত সোমেন মিত্র ডাঃ  করিমের কংগ্রেস প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে সম্মতি সূচক ইঙ্গিতও দেন।তবে এর পরেই নাটকীয়ভাবে গত লোকসভা নির্বাচনে বামেদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ পেতেই দেখা যায় সেখানে সিপিএমের বীরভূম কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে  রেজাউল করিমের নাম রয়েছে। প্রশ্ন ওঠে ডাক্তার করিম কি একই সময় কংগ্রেস ও সিপিএম দুই দলের সঙ্গেই প্রার্থী হওয়া নিয়ে কথা-বার্তা চালাচ্ছিলেন? কংগ্রেস বিষয়টিতে বিরক্তি প্রকাশ করে বিবৃতিও দেয়।গত লোকসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেসের জোট প্রক্রিয়া যে শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায় তার অনুঘটক হিসেবে এই ঘটনা সক্রিয় ছিল বলেও রাজনৈতিক মহলে চর্চা হয়।তবে রেজাউল করিম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে খুব ওজনদার না হওয়ায় বিষয়টা বড় কোন আলোড়ন ফেলে নি।গত লোকসভা নির্বাচনে  বীরভূমে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীর কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত হন ডাঃ রেজাউল করিম।এরপর আর তাঁকে সেভাবে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে দেখা যায় নি।

 রাজ্য জুড়ে কোভিড পরিস্থিতিতে চিকিত্সক সংগঠনের হয়ে আবার সামনে আসেন চিকিত্সক রেজাউল করিম। তবে এই সময় তিনি কোন সংঠনের পদাধিকারী ছিলেন না।প্রথম দিকে রাজ্য সরকারের আমলাতান্ত্রিক মানসিকতায় কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলা করা নিয়ে চিকিত্সক সংগঠনগুলি সোচ্চার হবার পরে একাধিক আলোচনায় সমস্ত (কিছু ব্যতিক্রম বাদে)সংগঠনই রাজ্য সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করার সিদ্ধান্ত নেয়।ডাঃ করিমও জানান এই সময় তাঁরা মনে করেন সরকারের পাশে থেকে সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে।সরকারের কোভিড পরিস্থিতি পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গেও যুক্ত হন ডাক্তার করিম। বুধবার ডাক্তার করিম সরাসরি তৃণমূল ভবনে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন।তাঁকে দলে স্বাগত জানিয়ে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন বাম আমলে বিরোধী চিকিত্সক সংগঠন করতে চিকিত্সক করিম বরাবর সচেষ্ট ছিলেন,জনস্বাস্থ্য বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা কে তৃণমূল কাজে লাগাবে।তবে এদিন ডাক্তার রেজাউল করিমের বাম প্রার্থী হওয়া নিয়ে কোন মন্তব্য করেননি পার্থবাবু।