টেলিকম কোম্পানিগুলির ১ লক্ষ ৬০ হাজার কোটির বকেয়া মেটানোর সময় ৩ মাস থেকে বৃদ্ধি করে ১০ বছর করলো সুপ্রিম কোর্ট

0
48

সাতদিন ডেস্কঃটেলিকম সংস্থাগুলিকে  বকেয়া(AGR) ১ লক্ষ ৬০ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করার জন্য অাগামী ১০ বছর সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট। অাগামী বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়ার ১০ শতাংশ সরকারের কাছে জমা দিতে হবে টেলিকম সংস্থাগুলিকে। কেন্দ্রের তরফে টেলিকম সংস্থাগুলির হয়ে বকেয়া মেটানোর জন্য ২০ বছর সময় চাওয়া হযেছিল সেই অার্জি অবশ্য খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

গত বছর অক্টোবর মাসে সুপ্রিম কোর্ট  নির্দেশ দিয়ে জানায় অাগামী ৩ মাসের মধ্যে বকেয়া ১ লক্ষ ৪৭ হাজার কোটি টাকা সরকারকে দিয়ে দিতে হবে টেলিকম সংস্থাগুলিকে। সেই অাদেশের পর কেন্দ্রের টেলিকম দফতরের তরফে বকেয়া উদ্ধারের কোন তত্পরতা লক্ষ করা যায়নি। বরং এইবছরের ২৩ জানুযারি এক নির্দেশ জারি করে টেলিকম দফতর বলে যে সংস্থাগুলি বকেয়া মেটাতে পারছে না তাদের বিরুদ্ধে যেন কোন ব্যবস্থা না নেওয়া হয়। এতেই চটে যায় সুপ্রিম কোর্ট। ১৪ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ অাদালত সরকারকে তিরস্কার করে তার পর্যবেক্ষণে মন্তব্য করে বলে দেশে কি  কোন অাইন নেই। সুপ্রিম কোর্টকে তাহলে তুলে দেওয়া হোক। এই বেঞ্চের অন্যতম বিচারপতির নাম অরুণ মিশ্র। বেঞ্চ নির্দেশ দেয় ২০২০ সালের মার্চ মাসের মধ্যে সব পাওনা মিটিয়ে দিতে। এই নির্দেশ অবশ্য টেলিকম কোম্পানিগুলি মানেনি।

যদিও এর পর  টেলিকম কোম্পানিগুলির তরফে কিছু পাওনা মেটানো হয়। সূত্রের খবর এখনও পর্যন্ত সরকার ২৫ হাজার ৭০১ কোটি টাকা বকেয়া পরিশোধের কিস্তি হিসাবে পেয়েছে।  এদিকে টেলিকম কোম্পানিগুলি নিজেদের হিসাব অনুযায়ী সরকারের ঘরে বকেয়া জমা দিচ্ছে। টাটা টেলি সার্ভিসের কাছে সরকারের পাওনা প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী ৪১৯৭ কোটি টাকা বকেয় পরিশোধ করে টাটা টেলিসার্ভিসেস দাবি করেছে তাদের সব ধার শোধ করে দিয়েছে তারা।

দুই কিস্তিতে এয়ারটেল ১৮ হাজার কোটি টাকা বকেয়া পরিশোধ করেছে। এয়ারটেলের কাছে সরকারের পাওনা প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। সব থেকে বেশি যার কাছে পাওনা সেই ভোডাফোন পাওনা ৫৩ হাজার কোটি টাকার মধ্যে দুই কিস্তিতে মাত্র ৩৫০০ কোটি টাকা বকেয়া মিটিয়েছে। ভোডাফোনের দাবি সরকার তাদের কাছে পাবে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। বকেয়া পরিশোধ করতে  তাদের অারো তাদের সময় না দিলে সংস্থার ঝাঁপ বন্ধ করে দিতে হবে বলে জানায় অাইডিয়া ভোডাফোন।

 ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ না করা এদেশের করপোরেট কালচারে পরিণত হয়েছে। সরকারের লাইসেন্স  ফি বা রেভিনিউ শেয়ার না দিয়ে সংস্থা বনধের হুমিকর পরও অাত্ম নির্ভর সরকার বেয়াদপ সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে বুকের পাটা দেখাতে পারে না। উল্টে কোম্পানি গুলির হয়েই ওকালিত করে সর্বোচ্চ অাদালতে। এর পরও সরকারের বিরুদ্ধে বললে দেশদ্রোহী অার সুপ্রিম কোর্টের বিরুদ্ধে বললে অবমাননার ফাঁড়া ঝুলতে পারে কপালে।