দেড় বছর বেতনহীন BSNL এর ঠিকা কর্মীরা প্রতিবাদে রাস্তায়

0
50

সাতদিন ডেস্কঃ-BSNL এর  চুক্তিভিত্তিক ঠিকা কর্মীরা বেতনহীন প্রায় দেড় বছর। ২০১৯ এর ফেব্রুয়ারি থেকে আজকের তারিখ পর্যন্ত বেতন নেই তাঁদের।গোটা দেশে এরকম কর্মীর সংখ্যা ১ লাখেরও বেশি।কেন্দ্রীয় সরকার এদের বেতনের দায় বহন করতে অস্বীকার করছে,তাদের দাবি এঁদের বতন দেওয়ার দায়িত্ব কন্ট্রাক্টটারদের।অথচ একটা সময় এঁরা সরকারের কাছ থেকেই বেতন পেয়ে আসছিলেন ।অস্থায়ী হলেও এঁরা ১৫০০০-২০০০০ হাজার টাকা বেতন পেতেন।

কর্মীদের অভিযোগ BSNLকে রুগ্ন করে আম্বানি গোষ্ঠীর জিওকে গতি দিতেই কেন্দ্রীয় সরকার  তাদের মত  কর্মীদের ছেঁটে ফেলতে চায়।এসসব কর্মীদের আরও অভিযোগ ২০০৪-২০০৫ সালে যে বিএসএনএল প্রচুর আর্থিক লাভের মুখ দেখেছিল এখন যে সেই সংস্থাটিই কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে তার পেছনে  বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ পরিকল্পনা আছে।সেই পরিকল্পনা অনুযায়ীই অস্থায়ী ঠিকা কর্মীদের ছেঁটে ফেলার প্রয়াস চলছে।কলকাতা টেলিফোন এলাকার এই সব ঠিকা কর্মীদের কারোর কারোর অভিযোগ দুঃখের হলেও এটা সত্য যে প্রতিষ্ঠিত ইউনিয়ন গুলো এক্ষেত্রে সেভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়াস করেনি।তাই এই পরিস্থিতিতে কলকাতা টেলিফোনের এই সব ঠিকা কর্মীদের একটা বড় অংশ মিলে তৈরি করেছেন কন্ট্রাক্টার ওয়ার্কাস ইউনিয়ন।(CWO of BSNL-CT)।এই ইউনিয়নের আওতায় কয়েক হাজার কর্মী বুধবার রাজভবন অভিযান করার লক্ষ্যে পথে নামেন। তাঁদের অভিযোগ বড় মিডিয়া হাউসগুলো যখন সুশান্ত সিং রাজপুত আর রিয়া চক্রবর্তী নিয়ে ব্যস্ত তখন তাদের মত অস্থায়ী কর্মীদের কীভাবে ভয়াবহ জীবন যাপন করতে হচ্ছে তা নিয়ে সকলে উদাসীন।বিএসএনএলের কর্মীদের আর্থিক বিপর্যয়ে আত্মহত্যার প্রসঙ্গ তুলেও এঁরা সোচ্চার হন।তবে রাজভবনের দিকে যাওয়ার আগেই রানিরাসমনি রোডর মুখে প্রতিবাদী কর্মীদের আটকে দেয় পুলিশ।সেখানে বসেই ঘন্টা খানেক অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন বিএসএনের অস্থায়ী ঠিকা কর্মীরা।সি ডব্লু ওর পক্ষে অমিতাভ ভট্টাচার্য জানিয়েছেন বুধবার তারা কোন নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করছেন না তবে পরবর্তী সময়ে তারা তাদের প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন।আলোচনা করেই তা স্থির হবে।

CWO ঠিকা কর্মীদের বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেওয়ার দাবি নিয়ে আদালতেও গেছে।কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ইতিমধ্যেই জানিয়েছিল ২৫ আগষ্টের মধ্যে বকেয়া বেতন মিটিয়ে দিতে হবে কিন্তু সেই প্রক্রিয়াও খুব ঢিমেতালে চলছে বলে অভিযোগ।কর্মীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তারা আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাস্তার লড়াইতেও সমানভাবে থাকবেন।

ছবি সংগৃহীত