‘ভিমা কোরোগাঁও মামলায় এনআইএ র ‘টার্গেট’ এবার রাজ্যের বিজ্ঞানি ডঃ পার্থ সারথি রায়?

0
26

সাতদিন ডেস্কঃ-কোনদিন তিনি মহারাষ্ট্রের ভিমা কোরেগাও তে যান নি। ২০১৮ সালে মহারাষ্ট্রের ভিমা কোরেগাও অঞ্চলে যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল তার সঙ্গে তাঁর কোন যোগসূত্র খুঁজে তাকে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থা NIA ডেকে পাঠাতে পারে এমন আশঙ্কা কল্পনাতেও আনেন নি তিনি, তবু তেমনটাই ঘটল।শুক্রবার সকালে এ রাজ্যের এক প্রখ্যাত বাঙালি বিজ্ঞান গবেষক ,IISER কলকাতার অধ্যাপক, ডঃ পার্থ সারথী রায়কে ইমেল করে মুম্বইয়ের এনআইএ দপ্তরে হাজিরা দিতে বলল কেন্দ্রীয় সংস্থা। তাঁকে এ মাসের ১০ তারিখে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে তাঁকে ভিমা কোরেগাঁও ষড়যন্ত্র মামলা সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজন আছে।এর আগেও  একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিকে এই ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার করেছে এনআইএ।সাতদিন ডটইনের পক্ষ থেকে গবেষক পার্থসারথী রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,তাঁকে যেভাবে এই মামলার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা হচ্ছে তাতে তিনি স্তম্ভিত।যে বিষয় তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে বলে জানানো হয়েছে সে সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না,তিনি কোনদিন ভিমা কোরেগাওতে যান নি,সেদিনের সংঘর্ষ বিষয়ে তিনি যা জেনেছেন সবই সংবাদমাধ্যম দ্বারা।পার্থবাবুর অভিযোগ আসলে দেশজুড়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞানবিরোধী ও গণবিরোধী কার্যকলাপের বিরোধিতা করার ফলেই তাঁদের মত মানুষের বিরুদ্ধে এরকম আক্রমণ নামিয়ে আনা হচ্ছে।তবে তিনি এ বিষয়ে আইনজীবীদের পরামর্শ নিচ্ছেন।নাগরিক সমাজের কাছেও আবেদন রেখেছেন এই বাঙালি বিজ্ঞান গবেষক, সকলে এগিয়ে এসে এই প্রতিহিংসা মূলক রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে সরব হওয়া এখনই দরকার না হলে যে কোন দিন কোন নাগরিক এরকম হেনস্থার শিকার হবেন।

গত  ২বছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সুধা ভরদ্বাজ, সোমা সেন, অানন্দ তেলতুম্বদ, ভারভারা রাও সহ ১১জন প্রতিবাদীকে এই মামলায় গ্রেফতার করে রাখা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলি একে সাজান মামলা বলে অভিযোগ করেছে। মিথ্যে অভিযোগে এদের কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে বলে মনে করেন মানবাধিকার কর্মীরা। পার্থ সারথি রায়ের ক্ষেত্রেও তেমনটা হওয়ার অাশঙ্কা করছেন  এ রাজ্যের অনেকেই। এনআইএর এই ভূমিকার তীব্র নিন্দা করে পথে নাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে APDR।সংগঠনের পক্ষে রঞ্জিত শূর জানিয়েছেন,গোটা দেশ জুড়ে রাষ্ট্রের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া মানুষজনদের ভীত-সন্ত্রস্ত করে তুলতেই এনআইএ এর মত সংস্থাকে কাজে লাগাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার।রঞ্জিত শূর মনে করছেন এ রাজ্যে সামনেই ভোট তাই এখানেও একটা ভীতির সঞ্চার শুরু করার প্রক্রিয়া  চায় বিজেপি,তাই এবার বাংলার প্রতিবাদীদের টার্গেট করা শুরু হল।কিছুদিনের মধ্যেই এপিডিআর এই ঘটনার প্রতিবাদে পথসভা করবে বলে জানান রঞ্জিত শূর। বাংলার বিশিষ্টজনদের প্রতি কেন্দ্রীয় সংস্থার এরকম নির্দেশিকা এই প্রথম।

ভিমা করেগাঁও মামলা ঠিক কী?

 কোরেগাঁও ভিমা যুদ্ধের ২০০ বছরপূর্তিতে ( ব্রাহ্মণ পেশোয়ারের বিরুদ্ধে দলিত মাহারদের বিজয়)  ২০১৭ সালে  ৩১ ডিসেম্বর পুণেতে এলগার পরিষদের সভা করে। অভিযোগ এই সভায় উত্তেজক ভাষণের জেরে পরের  দিন করেগাঁও ভিমা গ্রামে  জাতি হিংসা হয়। এর সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে  হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের ২ নেতা শামবাজি বিডে ও মিলান্দ একবোটের বিরুদ্ধে পুলিস তেমন সক্রিয় না হলেও  ‍ওই ঘটনার ৬ মাস পর থেকে ২ দফায় প্রায় ১ডজন মানবাধিকার কর্মীকে গ্রেফতার করে জেলে পুড়ে রেখেছে। সুধা ভরদ্বাজ, সুরিন্দর গাডলিং এর মত অাইনজীবীর পাশাপাশি অধ্যাপক সোমা সেন, কবি ভারভারা রাও,সুধীর ধাওলে, রোনা উইলসন, মহেশ রাউত, ভেরনন গঞ্জালভেস, অরুন ফেরেরাদের জামিন না দিয়ে জেলে রেখে দেওয়া নিয়ে সরব হয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও বিশিষ্ট জনেরা। সব শেষে এই মামলায় গত ২৮ জুলাই নয়ডা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে  দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির অধ্যাপক হেনি বাবুকে। এই নিয়ে এই মামলায় ৪জন অধ্যাপককে গ্রেফতার করেছে NIA।