রাজ্যসভায় ধ্বনি ভোটে কৃষি বিল পাশ করিয়ে নেওয়ার প্রতিবাদ বিরোধীদের

0
3

সাতদিন ডেস্কঃ রবিবার হইহট্টগোলের মধ্যেই রাজ্যসভায় ধ্বনি ভোটে পাশ হয়ে গেল দুটি কৃষি বিল। বিরোধী সাংসদরে অভিযোগ এই বিল অাসলে কৃষিকে করপোরেট ও বড় ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেওয়ার। অন্যদিকে সরকারের দাবি এতে কৃষকেরা নিজের ইচ্ছেতে যাকে খুশি তাঁকে পণ্য বিক্রি করতে পারবে। এই প্রেক্ষিতে শিবসেনার সাংসদ সঞ্জয় রাউত প্রশ্ন তোলেন বিল যদি কৃষকদের পক্ষেরই হবে তাহলে শরিক দলের মন্ত্রী কেন এই বিলের প্রতিবাদে মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিলেন।

   গত  বৃহষ্পতিবার লোরসভায় পাশ হয় কৃষি বিল।  এদিনই এর বিরোধিতা করে নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভা থেকে  ইস্তফা দিলেন অকালি দল ( বাদল) এর হরসিমরত কৌর বাদল। বিল পাসের অাগেই  তিনি প্রধানমন্ত্রীর দফতরে তাঁর ইস্তফা জমা দেন।

লকডাউন অাবহে গত জুন মাসে কৃষি ক্ষেত্রে সংস্কারের জন্য ৩টে বিল অর্ডিন্যান্স অানে কেন্দ্র। প্রথমে এই অর্ডিন্যান্সের সমর্থন করলেও পরে এর বিরোধিতা শুরু করে অকালি দল।তাঁদের অাশঙ্কা এর মাধ্যমে ন্যূনতম সংগ্রহ মূল্যে উঠিয়ে দেবে কেন্দ্র। পুরো কৃষিপণ্যের বাজার করপোরেটদের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

 এতদিন শুধুমাত্র লাইসেন্স প্রাপ্ত ক্রেতাকেই নির্দিষ্ট বাজারে এসে কৃষকদের পণ্য বিক্রি করতে হত। পাঞ্জাহ হরিয়ানার কৃষকদের অাশঙ্কা কৃষি পণ্যের বাজার খুলে দেওয়া হবে করপোরেটদের জন্য? তাদের পুঁজির জোরের কাছে স্থানীয় ব্যবসায়ী বা সংগ্রহকারী  এজেন্ট পেরে না উঠে হয় করপোরেটদের ক্লিয়ারিং এজেন্টে পরিণত হবেন না হয় ভ্যানিশ হয়ে যাবেন। ওয়ান নেশন ওয়ান মার্কেট মানেই কৃষিতেও বড় পুঁজির অনুপ্রবেশ। সরাসরি নাম না করলে জিও র মত বড় পুঁজির সুবিধা করে দেওয়ার জন্যই apmc অাইনে বদল অাইনতে চাইছে সরকার।

তা ছাড়া প্রাইস অ্যাসুয়েরেন্স অফ ফার্স প্রাইস বিল অাসলে  চুক্তি ভিত্তিতে চাষকে উত্সাহিত করবে বলে মনে করছেন অনেকে । এদিন সেই বিলও পাশ হয়েছে লোকসভায়।  সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে এই অাইনে  কৃষকদের ফসলের দামের নিশ্চয়তা প্রদান করা হবে। বাস্তবে চাষ শুরুর অাগে বড় বড় ক্রেতাদের সঙ্গে (  জিও মার্ট) কৃষকেরা একটি নির্দিষ্ট দামে পণ্য বিক্রি করতে চুক্তি করবেন।সেখানেও বড় করপোরেটরা যেহেতু সরাসরি চুক্তি করবে চাষি বা কৃষকদের সঙ্গে সেক্ষেত্রে কি কৃষকরা হারাবে চাষের স্বাধীনতা। অনেকেই মনে করছেন এটা অাসলে নয়া নীলকর ফরমান ছাড়া কিছু নয়।

এছাড়া  অত্যাবশ্যকীয় অাইনে সংশোধনী বিল মঙ্গলবার লোকসভায় পাশ করেছে সরকার। এর মাধ্য এনে আলু পেঁয়াজ, তৈলবীজ ও ডাল সহ বেশ কয়েকটি কৃষিজ পণ্যকে এই আইনের অাওতার বাইরে অাসবে। অাশঙ্কা এর ফলে বাড়বে মজুতদারী।

লকডাউনকে সামনে রেখে কৃষি ক্ষেত্রে  বড় পদক্ষেপ নিল সরকার। সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুতে মাতিয়ে রেখে এত বড় সিদ্ধান্ত নিল সরকার। তবে পাঞ্জাব ও হরিয়ানার কৃষকেরা প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন। অাগামী দিনে অন্য রাজ্যের কৃষকেরাও রাস্তায় নামবে এর প্রতিবাদে। তবে অবাক করার বিষয় এত বড় ইস্যুতে বামেদের সেরকম ভূমিকা লক্ষ করা যাচ্ছে না ।