সাংবাদিকদের মধ্যে সংক্রামিত হোক শান্তশ্রীর সাহস!

0
52

সম্পাদকীয়ঃ-গোটা দেশজুড়ে যখন সাংবাদিকতার নৈতিকতাকে মুছে ফেলতে ব্যস্ত এক শ্রেণির মিডিয়া হাউস ও তার তাবেদার নামিদামি সাংবাদিকেরা সেই সময় সংবাদ মাধ্যমের ভেতর থেকেই কেউ কেউ আচমকা সেই বদ অভ্যাসের বিরুদ্ধে গর্জে উঠে জানান দেন এখনও সবাই বিক্রি হয়ে যান নি। এখনও কেউ কেউ অবশিষ্ট আছেন যারা সাংবাদিকতার আদর্শ-বিচ্যুতির প্রতিবাদে নিজেদের চাকরিকেও বাজি ধরতে রাজি আছেন।তেমন উদাহরণই রাখলেন রিপাবলিক টিভির সাংবাদিক শান্তশ্রী সরকার। নিজের চ্যানেলে যেভাবে সাংবাদিকতার নামে এক বিশেষ উদ্দেশ্যে ক্রামাগত সুশান্ত সিং রাজপুতের বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তীকে দোষী সাব্যস্ত করতে মিডিয়া ট্রায়াল শুরু হয়েছিল তার প্রতিবাদে ওই  চ্যানেলের চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি।শান্তশ্রী নিজে টুইট করে  জানিয়েছেন ‍ চ্যানেলে এখন সাংবাদিকতা ছাড়া সবকিছু হয়। শান্তশ্রী জানিয়েছেন একপেশে খবর করতে রাজি না হওয়ায় টানা ৭২ ঘন্টা কাজ করতে তাঁকে বাধ্য করা হয়।

সাংবাদিকরা সাংবাদিকতা ছেড়ে অন্য কাজ কেন করবে,সেই কাজকে সাংবাদিকতা বলাই বা হবে কেন? শান্তশ্রী বোধকরি তাঁর ইস্তফা দিয়ে সে প্রশ্নটাই সামনে আনতে চাইলেন।

প্রশ্নটা গুরুতর এবং বহু চর্চিতও বটে।গোটা দেশ জুড়েই সাংবাদিকতার নামে এক চাটুকারিতাকে সামনে আনার যে প্রয়াস চলছে তাতে পুঁজির দাপট নিয়ে আলোচনা হয়,সাংবাদিকদের নৈতিকতা নিয়ে সেভাবে আলোচনা হয় না।কেউ কেউ বলার চেষ্টা করেন সাংবাদিকরা কি করবেন কর্তৃপক্ষ যেভাবে চান তাকে তো সেভাবেই চলতে হবে,তিনি তো চাকরি করেন।আসলে সাংবাদিকতার চাকরি যে অন্য দশটা পাঁচটা চাকরির মত নয় এই ভাবনাটাকে সেভাবে দাঁড় করানোই হয় নি কখনও।সম্পাদকীয় রীতি মানে যে মিথ্যাচারিতা হতে পারে না সেটা জোর দিয়ে বলতে পারেন না আজকের সাংবাদিক মহলের অধিকাংশই।এমনকি কোন কোন প্রভাবশালী সাংবাদিকের দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ার প্রমাণ পাওয়ার পরও, কোন কোন সংবাদ মাধ্যম অনৈতিকভাবে শাসকের দালালি করছে দেখেও কেউ কেউ সে বিষয় এড়িয়ে যেতে চান এই বলে যে কাক নাকি কাকের মাংস খায় না।এ এক অদ্ভুদ যুক্তি,অসার যুক্তি। নিজের পেশার নৈতিকতার স্বার্থে,নিজের পেশার দায়বদ্ধতাকে বজায় রাখার জন্যই তো দরকার সংবাদ মাধ্যমে হওয়া কোন অনৈতিকতা চিহ্নিত করা।এই সহজ কথাটা ভুলিয়ে দিতেই নানা আয়োজন।শান্তশ্রী সেখানে ব্যতিক্রম এই ব্যতিক্রম বলে দিচ্ছে এখনও কেউ কেউ আছেন যাদের সামনে রেখে সাংবাদিকতা ফিরে পেতে পারে তার হারিয়ে ফেলা গৌরব।গোদি মিডিয়ার বাইরেও মিডিয়ার উপস্থিতি বোঝাতে য়ে সব মুষ্টিমেয় সাংবাদিক গত কয়েক বছর যাবত লাগাতার লড়াই করে যাচ্ছিলেন তাদের দলে নাম লেখালেন শান্তশ্রী এতদিনে।স্বাগত তাঁকে-সামনে কঠিন পথ,চাকরিহিন থাকার সম্ভাবনা সব জানার পরেও শান্তশ্রীর এই সিদ্ধান্ত হয়তো আর অনেককে প্রেরণা দেবে কারণ আমরা জানি ভয়ের মত সাহসটাও সংক্রমণ ক্ষমতা ধরে।

ছবিঃ অনরাগ ক্যাশপ ও কুনাল কামরা অর্নব গোস্বামীকে সাংবাদিকতার উত্কর্ষতার জন্য উপহার দিতে গিয়েছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকে