১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে বকেয়া ডিএ মেটাতে রাজ্যকে নির্দেশ স্যাটের

0
1675

সাতদিন ডেস্কঃ- অাগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে রাজ্যকে বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিল স্যাট । এর অাগে জুলাই মাসে স্যাটে খারিজ হয়ে ছিল  বকেয়া  ডিএ নিয়ে রাজ্য সরকারের পুনর্বিবচনার আবেদন।

 সেই সময়ও স্যাট জানিয়ে ছিল  সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ দিতেই হবে। এর বছর খানেক আগেই রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দিয়ে স্টেট আ্যডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল বা স্যাট জানিয়ে দিয়েছিল সরকারি কর্মচারীদের ডিএ কোনভাবেই সরকারের দয়ার দান নয়,তা সরকারি কর্মীদের ন্যায্য প্রাপ্য।তাই বকেয়া ডিএ রাজ্য সরকারকে দিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল স্যাট।স্যাটের নির্দেশে পরিষ্কার বলা ছিল নতুন বেতন কমিশন চালু করার আগেই কর্মীদের বকেয়া ডিএ দিয়ে দিতে হবে।রাজ্য সরকার সেই নির্দেশকে মান্যতা না দিয়ে নতুন বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করে দিয়েছে।

সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলো অবশ্য এর পরেও সরকারের ডিএ দেওয়ার সদিচ্ছা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। স্যাটের এই নির্দেশের বিরুদ্ধে  রাজ্য সরকার হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টে যাবে বলে তাদের অাশঙ্কা। অনেক কর্মচারীদের অাশঙ্কা অাইন অাদালতের মধ্যেই তাঁদের ন্যায্য পাওনা ফেঁসে থাকবে না তো!

 কোন কোন সরকারি কর্মচারি সংগঠন স্যাটের বুধবারের রায়কে কর্মচারিদের জয় বলেই মনে করছেন।এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে কর্মচারি সংগঠন কনফেডারেশনের পক্ষে মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন,বুধবারের রায়ে প্রমাণ হল যে সরকার আদালতের রায়কে উপেক্ষা করেছে।স্যাটে বুধবার যে রায় ঘোষণা হল সেটা সরকারের আদালত অবমাননার বিরুদ্ধে করা মামলার রায় বলে জানান মলয়বাবু।তাঁর মতে,”আমরা এই রায়ে খুশি।এরপর সরকার কী পদক্ষেপ নেয় আমরা দেখবো।তবে ১৬ ডিসেম্বর স্যাটকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানাতে হবে তারা তাদের নির্দেশ পালন করবে না করবে না।সরকারের অবস্থান বুঝে সেদিনই স্যাট আবার শুনানির ব্যবস্থা রাখছে।”এটা তাদের জয়ের অনেকটা এগিয়ে দিল বলেই বনে করছেন কর্মচারি সংগঠনের পক্ষে মলয়বাবু।অন্যদিকে রাজ্য সরকারি কর্মচারি পরিষদের সুবির সাহা মনে করছেন রাজ্য সরকার এইভাবে গোটা বিষয়টা দীর্ঘসূত্রিতায় বাঁধতে চাইছে।এটার পর একটা মামলায় যেভাবে সময় যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে না আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে এ বিষয়ে সরকার কোন ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে।সুবির বাবুর আশঙ্কা সরকার এরপর হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টেও যেতে পারে।সুবির সাহা মনে করেন ঐক্যবদ্ধ সরকারি কর্মচারি সংগঠনের আন্দোলনই এ বিষয়ে সরকারকে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করতে পারে।সরকারি কর্মচারি সংগঠন স্টিয়ারিং কমিটির পক্ষে সংকেত চক্রবর্তী জানান,তাঁরা মাঠের লড়াইতে যেমন আছেন তেমনি আইনি লড়াইতেও আছেন।স্যাটের বুধবারের রায় তাদের লড়াইতে একধাপ এগিয়ে দিয়েছে বলেই বনে করছেন সংকেতবাবু।আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে চাপে রাখা ও আইনি লড়াই লড়ে যাওয়া দুই পথেই তাদের দাবি আদায়ের প্রয়াস চলবে বলে জানান সংকেত চক্রবর্তী।তবে বিষয়টা যেখানে দাঁড়িয়ে রইল তাতে ১৬ ডিসেম্বরের পর ডিএ নিয়ে যে আর এক আইনি লড়াই শুরু হবে তার সম্ভাবনাই প্রবল।